পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

ইসরো বেসরকারিকরণ হচ্ছে না — কেন্দ্রীয় মহাকাশ সংস্থার স্পষ্ট বার্তা

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) সম্প্রতি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ইসরো বেসরকারিকরণ নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, তা সত্যি নয়। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তাদের গুরুত্ব কমছে না, বরং গোটা মহাকাশ বাস্তুতন্ত্র বড় হচ্ছে।

আমাদের দেশের মহাকাশ অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্র বাড়তেই হবে, কারণ ইসরো একা দেশের প্রয়োজন মেটাতে পারবে না। এখন আমাদের ৫৬টি উপগ্রহ আছে, কিন্তু প্রয়োজন শত শত উপগ্রহের।

ডঃ ভি নারায়ণন, চেয়ারম্যান, ইসরো

Quick Take

  • ইসরো বলছে যে তারা বেসরকারিকরণ হবে না, তবে লঞ্চ ভেহিকল উৎপাদন নীরবে বেসরকারি সংস্থাগুলির দিকে সরে যাচ্ছে।
  • আইএন-স্পেস প্রধান ইঙ্গিত দেওয়ার পর যে ইসরো নিজে রকেট তৈরি বন্ধ করে দেবে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলি স্পষ্টতা দাবি করেছে।
  • ইসরো ইতিমধ্যে ৫১১ কোটি টাকায় এসএসএলভি প্রযুক্তি এইচএএল-কে হস্তান্তর করেছে; পিএসএলভি উৎপাদনও এইচএএল-এলঅ্যান্ডটি-তে সরে যাচ্ছে।
  • সরকার ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতির লক্ষ্য রেখেছে, যার জন্য লঞ্চ সম্প্রসারণে বেসরকারি অংশীদারদের প্রয়োজন।

বিতর্ক শুরু হলো কীভাবে?

গত ২১ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে IN-SPACe-এর চেয়ারপার্সন পবন গোয়েঙ্কা মন্তব্য করেন যে ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনো উৎক্ষেপণ যান তৈরি করবে না — সেই কাজ করবে বেসরকারি সংস্থা বা সরকারি উদ্যোগ। এরপরই ইসরোর নয়টি কর্মী সংগঠন চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি লিখে স্পষ্টীকরণ চায়। তাদের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট:

  • ইসরোর প্রযুক্তি জাতীয় সম্পদ, তাই এর হস্তান্তর হতে হবে স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ
  • কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়োগের ওপর প্রভাব নিয়ে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা নেই
  • সংবাদপত্রের মাধ্যমে নয়, সরাসরি কর্মীদের জানানো উচিত ছিল

ইসরোর স্পষ্টীকরণে কী বলা হলো

ইসরো তাদের বিবৃতিতে বলেছে, জাতীয় ও কৌশলগত মিশন, মহাকাশ বিজ্ঞান এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তারাই দেশের প্রধান সংস্থা থাকবে। তবে লক্ষণীয়, উৎক্ষেপণ যান তৈরির প্রশ্নে সরাসরি কিছু বলা হয়নি — যা নিয়ে কর্মী সংগঠনগুলোর মূল আপত্তি ছিল। মজার বিষয়, নাসা বা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতো সরকারি মালিকানা বজায় রেখেও উৎপাদন বেসরকারি খাতে দেওয়া সম্ভব — কিন্তু এই কাঠামো নিয়ে এখনো স্পষ্ট নীতি প্রকাশ পায়নি। 

এই পরিবর্তন নতুন নয়

আসলে ইসরো বেসরকারিকরণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ অনেকদিন ধরেই চলছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরো তাদের ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান (SSLV)-এর সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-কে ৫১১ কোটি টাকায় হস্তান্তর করেছে। এছাড়া HAL ও L&T মিলে দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রকেট PSLV তৈরির কাজও শুরু করেছে।

মহাকাশ অর্থনীতির বড় লক্ষ্য

 

ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্য এখন প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য সরকারের। এই লক্ষ্য পূরণে শুধু ইসরোর একার পক্ষে যথেষ্ট উৎক্ষেপণ চালানো সম্ভব নয় — তাই বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সহজ কথায়, ইসরো বেসরকারিকরণ মানে সংস্থাটির বিলুপ্তি নয়, বরং কাজের ভাগাভাগি।

ADVERTISEMENT

Latest across all sections