ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০: সরকারের নতুন নির্দেশিকায় আলোচনায় সিজি পাওয়ার
ভারত সরকার সম্প্রতি ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর বিস্তারিত কার্যকরী নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। মোট ₹১,২৭,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প দেশের চিপ তৈরির শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনা হয়েছে। খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিজি পাওয়ার-এর জন্য, কারণ তাদের যৌথ উদ্যোগ সিজি সেমি ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
চটজলদি জেনে নিন
- নির্দেশিকায় কী আছে?
- নতুন নিয়মে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ও কাঁচামাল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর জন্য থাকছে — ৩০% পর্যন্ত ক্যাপিটাল সাবসিডি পাঁচ বছরের জন্য প্রোডাকশন-লি…
- সেই তুলনায় ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর আওতা প্রায় ৬৮% বেড়ে হয়েছে ₹১,২৭,৫০০ কোটি — এবার শুধু চিপ তৈরি নয়, পুরো সাপ্লাই চেইন, যেম…
- সিজি পাওয়ার কোথায় দাঁড়িয়ে?

নির্দেশিকায় কী আছে?
নতুন নিয়মে সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ও কাঁচামাল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোর জন্য থাকছে —
- ৩০% পর্যন্ত ক্যাপিটাল সাবসিডি
- পাঁচ বছরের জন্য প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেন্টিভ (PLI)
আগের ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের (ISM ১.০) বাজেট ছিল ₹৭৬,০০০ কোটি। সেই তুলনায় ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-এর আওতা প্রায় ৬৮% বেড়ে হয়েছে ₹১,২৭,৫০০ কোটি — এবার শুধু চিপ তৈরি নয়, পুরো সাপ্লাই চেইন, যেমন প্যাকেজিং মেশিনারি, রাসায়নিক ও গ্যাস সরবরাহও এর আওতায় আনা হয়েছে।
সিজি পাওয়ার কোথায় দাঁড়িয়ে?
সিজি সেমি গুজরাটের সানন্দে তাদের G1 OSAT (আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্ট) প্ল্যান্ট চালু করেছে, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ কোটি ইউনিট। গত ৪ জুলাই, ২০২৬-এ এই প্ল্যান্ট থেকে প্রথম ব্যাচের চিপ জাপানের রেনেসাস (Renesas)-এ পাঠানো হয়েছিল।
সিজি পাওয়ার পাঁচ বছরে ₹৭,৬০০ কোটির বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর সরকার তাদের প্যাকেজিং প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক ধাপে ₹৩,৫০১ কোটি পর্যন্ত ক্যাপিটাল সাবসিডি অনুমোদন করেছে। কোম্পানির G2 প্ল্যান্টের কাজ চলছে, ২০২৬-এর শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, যার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.৪৫ কোটি চিপ।
কেন এই পলিসি গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের চিপ বাজার ২০২৩ সালের $৩৮ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে $১০০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও দেশের ৯০-৯৫% চিপের চাহিদা আমদানির উপর নির্ভরশীল। এই কারণেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০-কে দেশীয় সাপ্লাই চেইন মজবুত করার একটা বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নীতির ফলে প্রায় ₹৪ লক্ষ কোটি টাকার বৈশ্বিক বিনিয়োগ আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
- G2 প্ল্যান্ট তৈরিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি
- প্যাকেজিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্লিনরুম অপারেশনে দক্ষ জনবলের অভাব
- তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চিনের মতো প্রতিষ্ঠিত সেমিকন্ডাক্টর হাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা
সব মিলিয়ে, ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০ শুধু একটা নীতিগত ঘোষণা নয় — এটা ভারতের চিপ শিল্পকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বড় আকারের উৎপাদনের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটা কাঠামো, আর সিজি পাওয়ার এই যাত্রায় বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে।











