ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (IST) এখন বাধ্যতামূলক সারা ভারতে, জানুন নতুন নিয়ম
আপনার ফোনের ঘড়ি, ব্যাংকের অ্যাপ, রেলের টিকিট — সব জায়গায় সময় কি সত্যিই এক? এতদিন উত্তরটা ছিল "মোটামুটি"। কিন্তু এবার থেকে ভারত সরকার বলে দিয়েছে, দেশের প্রতিটি লিগ্যাল, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক আর ডিজিটাল কাজে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (IST)-ই হবে একমাত্র মান্য সময়। কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক গত ২৭ আগস্ট, ২০২৬-এ লিগ্যাল মেট্রোলজি (ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) রুলস, ২০২৬ বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি করেছে। এই নিয়ম গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পর কার্যকর হবে, অর্থাৎ প্রায় মার্চ ২০২৭ থেকে সরকারি দপ্তর, ব্যাংক আর ব্যবসাকে বাধ্যতামূলকভাবে এটা মানতে হবে।
চটজলদি জেনে নিন
- কেন এই নিয়মের দরকার পড়ল?
- ভারতের অনেক টেলিকম আর ইন্টারনেট সংস্থা এখনও GPS-এর মতো বিদেশি স্যাটেলাইট থেকে সময় নেয়।
- এটা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ।
- ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় এই নির্ভরতার ফলে ভারতের শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়েছিল।

কেন এই নিয়মের দরকার পড়ল?
ভারতের অনেক টেলিকম আর ইন্টারনেট সংস্থা এখনও GPS-এর মতো বিদেশি স্যাটেলাইট থেকে সময় নেয়। এটা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় এই নির্ভরতার ফলে ভারতের শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সমস্যা হয়েছিল। সেই শিক্ষা থেকেই এবার নিজস্ব সময় ব্যবস্থার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মে আসলে কী বলা আছে?
- ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিকম, রেল-বিমান, বিদ্যুৎ গ্রিড ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কে টাইমস্ট্যাম্প এবার বাধ্যতামূলকভাবে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুযায়ী হবে।
- সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে নেটওয়ার্ক টাইম প্রোটোকল (NTP) ও প্রিসিশন টাইম প্রোটোকল (PTP)-এর মতো নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
- জ্যোতির্বিজ্ঞান, গবেষণা বা নেভিগেশনের কাজে সরকারি অনুমতি নিয়ে ব্যতিক্রম রাখা যাবে।
- নিয়ম না মানলে অডিটের মাধ্যমে ধরা পড়বে এবং জরিমানা হতে পারে।
এই গোটা পরিকল্পনার নাম “ওয়ান নেশন, ওয়ান টাইম”। এতে ইসরোর নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ন্যাভিক (NavIC)-কেও সময় ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে GPS-এর ওপর নির্ভরতা কমে।
IST আসলে কোথা থেকে আসে?
ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম হিসেব হয় উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের কাছে, ৮২°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে। এটা গ্রিনিচ মিন টাইমের (GMT) থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে, মানে UTC+5:30। এই সময়ের রক্ষণাবেক্ষণ করে সিএসআইআর-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NPL), যাদের কাছে এমন অ্যাটমিক ঘড়ি আছে যা লক্ষ লক্ষ বছরে মাত্র এক সেকেন্ড ভুল দেখায়। ভারত অবশ্য ডেলাইট সেভিং টাইম মানে না — ১৯৬২ আর ১৯৬৫-৭১ সালের যুদ্ধের সময় ছাড়া।
এতে কার কী লাভ?
- ব্যাংকিং লেনদেনের সময় আরও নিখুঁত হবে
- ট্রেন-বিমানের সূচি মিলবে আরও ভালোভাবে
- 5G ও AI-র মতো প্রযুক্তিতে ন্যানোসেকেন্ড নির্ভুলতা মিলবে
- জরুরি পরিষেবার সমন্বয় সহজ হবে
চ্যালেঞ্জও কম নয়
সব সেক্টরে সময়-সিঙ্ক্রোনাইজেশন বসাতে বিপুল খরচ লাগবে, কমপ্লায়েন্স নজরদারি কঠিন হবে, আর গবেষণা-জ্যোতির্বিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রকে আলাদা ব্যতিক্রম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।
তথ্যসূত্র: PMF IAS











