তেলেঙ্গানায় সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগে ডাক জার্মান কোম্পানিদের
তেলেঙ্গানা সরকার আবারও নিজেদের বিশ্ব বাজারে জোরালোভাবে তুলে ধরল। রাজ্যের আইটি ও শিল্প মন্ত্রী দুদ্দিল্লা শ্রীধর বাবু জার্মান-ভারতীয় বিজনেস অ্যালায়েন্স বা GIBA-কে অনুরোধ করেছেন, যাতে তারা জার্মান কোম্পানিগুলোকে তেলেঙ্গানায় সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে। সহজ কথায়, রাজ্য চায় জার্মানির চিপ তৈরির সংস্থাগুলো হায়দরাবাদে কারখানা বসাক।
চটজলদি জেনে নিন
- হায়দ্রাবাদে কী হলো?
- সোমবার সচিবালয়ে GIBA-র একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে।
- এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কেলস্টারবাখ শহরের মেয়র মানফ্রেড অকেল।
- বৈঠকে সৃধর বাবু স্পষ্ট করে দেন, তেলেঙ্গানায় সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ এখন রাজ্যের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে।

হায়দ্রাবাদে কী হলো?
সোমবার সচিবালয়ে GIBA-র একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কেলস্টারবাখ শহরের মেয়র মানফ্রেড অকেল। বৈঠকে সৃধর বাবু স্পষ্ট করে দেন, তেলেঙ্গানায় সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ এখন রাজ্যের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে।
মন্ত্রী কী কী সুযোগের কথা বললেন?
বৈঠকে মন্ত্রী জানান, শুধু চিপ নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে জার্মান সংস্থারা বিনিয়োগ করতে পারে। যেমন—
- সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং
- লাইফ সায়েন্সেস
- অ্যারোস্পেস ও ডিফেন্স
- ইলেকট্রনিক্স
- অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং
- প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং
- অটোমোবাইল ও অটোমেশন
এককথায়, তেলেঙ্গানা শুধু আইটি হাব নয়, এখন হার্ডওয়্যার ও ম্যানুফ্যাকচারিং-এও নিজেদের জায়গা করে নিতে চাইছে।
রাজ্য সরকার কী সাহায্য দেবে?
সৃধর বাবু জানান, যেসব কোম্পানি তেলেঙ্গানায় ব্যবসা শুরু করতে চায়, তাদের জন্য রাজ্য দ্রুত অনুমোদন, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, বিনিয়োগ সংক্রান্ত ছাড় এবং দক্ষ কর্মী তৈরির ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ, কাগজপত্রের ঝামেলা কমিয়ে ব্যবসা শুরু করা সহজ করে দেওয়াই লক্ষ্য।
লজিস্টিক করিডোর ও আসন্ন সামিট
মন্ত্রী GIBA প্রতিনিধিদের কাছে আরও একটি অনুরোধ রাখেন—তেলেঙ্গানা-জার্মানি লজিস্টিক করিডোর তৈরিতে সাহায্য করার। এই করিডোর তৈরি হলে তেলেঙ্গানার রপ্তানিকারকরা সহজে জার্মানি ও ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠাতে পারবেন।
এছাড়া, আগামী ৭ থেকে ৯ ডিসেম্বর হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তেলেঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট ২০২৬। মন্ত্রী চান, জার্মান শিল্পপতিরাও এই সামিটে অংশ নিন এবং তেলেঙ্গানায় সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিজেরাই দেখুন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন GIBA-র চেয়ারম্যান সেলভাকুমার পেরিয়াসামি, সিইও নির্মল রামন কান্নাইয়ান, ইনোভেশন হাব রাইন-মেইনের সিইও স্টেফান উইটকিন্ড, এবং FTCCI-র প্রতিনিধি কেকে মহেশ্বরী, শ্রীনিবাস গরিমেল্লা ও বিনোদ কুমার আগরওয়াল।
সব মিলিয়ে, তেলেঙ্গানা সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—রাজ্য এখন সেমিকন্ডাক্টর তৈরির একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে চায়, আর তার জন্য জার্মানির প্রযুক্তি ও পুঁজি দুটোই তাদের দরকার।











