স্যাটকম লাইসেন্স পেলেও আগে চাই নিরাপত্তা ছাড়পত্র: সিন্ধিয়া
ভারতে কোনো খাতেই একচেটিয়া ব্যবসা চলবে না, সাফ জানালেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে তিনি বলেন, তিনটি সংস্থা স্যাটকম লাইসেন্স পেয়েছে। তবে নিরাপত্তার শর্ত মেটালে তবেই তারা পরিষেবা শুরু করতে পারবে।
চটজলদি জেনে নিন
- স্টারলিংক-সহ তিন সংস্থা স্যাটকম লাইসেন্স পেলেও পরিষেবা শুরু হচ্ছে না এখনই
- নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, টেলিকম দপ্তর নয়
- স্পেকট্রামের দাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি, নেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা
- ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পেতে গ্রাহকদের আরও অপেক্ষা করতে হবে

স্যাটকম মানে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন, অর্থাৎ মহাকাশের উপগ্রহ দিয়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়া।
বিতর্কের শুরু কোথায়?
ইলন মাস্কের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ভারতে স্টারলিংকের পথ আটকে একচেটিয়া দাপট ধরে রাখতে চাইছে। এই প্রসঙ্গেই সিন্ধিয়ার জবাব, আলোচনা একটি সংস্থাকে নিয়ে হলেও লাইসেন্স পেয়েছে তিনটি।
কারা পেয়েছে স্যাটকম লাইসেন্স?
- স্টারলিংক: ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থা
- জিও স্যাটকম: রিলায়েন্স জিও-র স্যাটেলাইট উদ্যোগ
- ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব: ভারতী গোষ্ঠী-সমর্থিত সংস্থা
এর বাইরে অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপারও আবেদন করেছে। মন্ত্রী জানান, তাদেরও একই প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।
স্যাটকম লাইসেন্স হাতে পেলেও সেবা শুরু হচ্ছে না কেন?
লাইসেন্স মানেই বাণিজ্যিক পরিষেবার ছাড়পত্র নয়। এখনও দুটি ধাপ বাকি।
১. নিরাপত্তা ছাড়পত্র
প্রতিটি সংস্থাকে আলাদাভাবে নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, টেলিকম দপ্তর নয়। গত ডিসেম্বরের এক মন্তব্যে সিন্ধিয়া জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক গেটওয়ের অনুমোদন আর ডেটা দেশের মধ্যে রাখার মতো বিষয় এই শর্তের অংশ। কিছু প্রতিবেদনে বিদেশি সংস্থার নথিতে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত পেলোডের উল্লেখের কথা এসেছে। মন্ত্রীর কথায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেটি খতিয়ে দেখছে।
২. স্পেকট্রামের দাম
স্পেকট্রাম হলো বেতার তরঙ্গ, যার মাধ্যমে ডেটা যাতায়াত করে। ট্রাই ও টেলিকম দপ্তর এর মূল্য নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাই সুপারিশ করেছিল, সংস্থাগুলো সমন্বিত মোট আয়ের ৪ শতাংশ স্পেকট্রাম ফি দেবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, আর কবে, তার কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে কী?
সহজ কথায়, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তা ছাড়পত্র আর স্পেকট্রামের দাম, দুটো মিটলে তবেই স্যাটকম লাইসেন্স কাজে লাগিয়ে সংস্থাগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছতে পারবে।











