পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

এআই কপিরাইট: জুনের পর আর বৈঠক হয়নি কমিটির, দ্বিতীয় রিপোর্ট নিয়ে ধোঁয়াশা

এআই কপিরাইট নিয়ে কি সরকারের আগ্রহ ফিকে হয়ে গেল? কমিটির তিন সদস্যের কথায় সেরকমই ইঙ্গিত মিলছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ভারতের কপিরাইট আইনে এআই কোথায় বসবে তা খতিয়ে দেখতে গঠিত সরকারি কমিটি জুনের পর আর বসেনি।

চটজলদি জেনে নিন

  • এআই কপিরাইট কমিটির বৈঠক জুনের পর থেকে বন্ধ, দ্বিতীয় রিপোর্ট অনিশ্চিত।
  • এআই নিজে কী তৈরি করছে, তার মালিকানা-দায় নিয়ে প্রশ্ন ঝুলে আছে।
  • প্রথম পেপারে ব্ল্যাঙ্কেট লাইসেন্স প্রস্তাব এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও।
  • নীতি থমকে থাকলেও এএনআই-ওপেনএআই মামলায় আদালতেই এগোচ্ছে কপিরাইট বিতর্ক।

এআই কপিরাইট কমিটি কেন তৈরি হয়েছিল

শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার দপ্তর (ডিপিআইআইটি) কমিটিটি গড়ে ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল। কাজ ছিল দুটো। এআই ও কপিরাইট নিয়ে আইনি ও নীতিগত প্রশ্নগুলো দেখা। আর ১৯৫৭ সালের কপিরাইট আইন সেগুলো সামলাতে যথেষ্ট কি না, তা যাচাই করা।

(কপিরাইট মানে কোনো লেখা, ছবি, গান বা ভিডিওর ওপর স্রষ্টার আইনি অধিকার।)

প্রথম ওয়ার্কিং পেপারে কী ছিল

প্রথম ওয়ার্কিং পেপার (খসড়া আলোচনাপত্র) বেরোয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। বিষয় ছিল, এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার। প্রস্তাব ছিল একটি বাধ্যতামূলক ‘ব্ল্যাঙ্কেট লাইসেন্স’। সহজ ভাষায় তার মানে:

  • ভারতে বৈধভাবে পাওয়া কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট দিয়ে এআই সংস্থা মডেল প্রশিক্ষণ দিতে পারবে।
  • প্রতিটি স্রষ্টার কাছ থেকে আলাদা অনুমতি নিতে হবে না।
  • বদলে একটি নতুন কেন্দ্রীয় সংগ্রহ সংস্থার মাধ্যমে কপিরাইট মালিকরা টাকা পাবেন।

প্রস্তাবে জনমত চাওয়া হয়। সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে করা হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। তারপর কোনো সংশোধিত বা চূড়ান্ত সংস্করণ আসেনি।

দ্বিতীয় পেপার কেন আটকে

দ্বিতীয় পেপারে দেখার কথা ছিল, এআই নিজে কী তৈরি করছে। আলোচনায় উঠেছিল চারটি প্রশ্ন:

  • এআই-এর বানানো কাজের মালিক কে?
  • দায় কার?
  • মৌলিকতা বলতে কী বোঝাবে?
  • এমন কাজ আদৌ কপিরাইট পাবে কি না?

প্রথম পেপারের সময় কমিটি প্রতি দু’সপ্তাহে বসত। দ্বিতীয় পেপারের বেলায় বৈঠক অনিয়মিত হয়ে যায়। এক সদস্যের মতে, শেষ আলোচনা হয়েছিল সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগে। ডিসেম্বরে বলা হয়েছিল দু’মাসের মধ্যে দ্বিতীয় পেপার আসবে। সরকার সংবাদমাধ্যমকেও ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারির কথা জানিয়েছিল। প্রায় ১০ মাস পরেও পেপার নেই, ডিপিআইআইটি-র নতুন সময়সীমাও নেই।

নীতি থমকে, আদালতে এগোচ্ছে এআই কপিরাইট বিতর্ক

এআই কপিরাইট নিয়ে নীতি-স্তরের কাজ থেমে থাকলেও আদালত মামলা শুনছে। এএনআই বনাম ওপেনএআই মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়। প্রাথমিকভাবে আদালত মনে করে, এএনআই-এর কনটেন্ট প্রশিক্ষণে ব্যবহার ‘ফেয়ার ডিলিং’-এর আওতায় পড়ে। ফেয়ার ডিলিং মানে নির্দিষ্ট শর্তে অনুমতি ছাড়াই কনটেন্ট ব্যবহারের আইনি ছাড়। আদালত নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। এএনআই একক বিচারপতির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।

কমিটিতে কারা আছেন

সদস্যদের মধ্যে আছেন ডিপিআইআইটি-র অতিরিক্ত সচিব হিমানী পাণ্ডে, ডিরেক্টর সিমরত কৌর, আইটি মন্ত্রকের বিজ্ঞানী অনুরাগ কুমার, নাসকমের চোকালিঙ্গম এম ও সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudipto Bannerjee), আইপি আইনজীবী অমিত দত্ত ও আদর্শ রামানুজন এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রমন মিত্তাল।

 

এখন নজর, এআই কপিরাইট নিয়ে কমিটি আবার কবে বসে এবং দ্বিতীয় পেপারের নতুন সময়সীমা ঘোষণা হয় কি না।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ