সার কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, কী সিদ্ধান্ত নিল সরকার?
সার কালোবাজারি আর জোর করে অন্য জিনিস গছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠেকাতে মাঠে নেমেছে এই রাজ্যের কৃষি বিভাগ। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি পরিদর্শন হয়েছে। অনিয়মের দায়ে ২৫০-এরও বেশি ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চটজলদি জেনে নিন
- সার কালোবাজারি রুখতে মোবাইল অ্যাপে নজরদারি শুরু করল রাজস্থান কৃষি দপ্তর
- জোরপূর্বক পণ্য বান্ডলিং করে সার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা
- দোষীদের বিরুদ্ধে এফআইআর সহ লাইসেন্স বাতিলের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা
- কৃষকদের অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেবে জেলা হেল্পলাইন সেল

মোবাইল অ্যাপে নজরদারি কেন?
পরিদর্শনের কাজ ডিজিটাল করতেই রাজস্থান কৃষি বিভাগ এই অ্যাপ বানিয়েছে। এতে মাঠের তদন্ত আরও গুছিয়ে নজরে রাখা যায়, আর পরিদর্শনের রেকর্ডও সহজে পর্যালোচনা করা যায়।
কোন কোন অভিযোগে ব্যবস্থা?
যেসব অনিয়ম ধরা পড়েছে:
- সার কালোবাজারি
- নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া
- ভর্তুকিযুক্ত সারের সঙ্গে অন্য পণ্য জোর করে বিক্রি
জোরপূর্বক বিক্রি বলতে কী বোঝায়?
ধরুন, কৃষক শুধু ইউরিয়া বা ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) চাইলেন। ডিলার বললেন, সঙ্গে জিঙ্ক, সালফার, কীটনাশক বা জৈবসারও নিতে হবে। একে বলে “ফোর্সড বান্ডলিং”। ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর কৃষি কমিশনারেট এক নির্দেশে এটা স্পষ্ট করে নিষিদ্ধ করেছে। এ ধরনের ঘটনায় পাইকারি বিক্রেতা, সার প্রস্তুতকারক ও সরবরাহকারী কোম্পানির ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে।
দোষী হলে কী শাস্তি?
বিভাগ আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে, ১৯৮৫ সালের ফার্টিলাইজার কন্ট্রোল অর্ডার এবং ১৯৫৫ সালের এসেনশিয়াল কমোডিটিজ অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে। অনিয়মের ধরন অনুযায়ী বিক্রির অনুমতি স্থগিত বা বাতিল হতে পারে। এফআইআরও দায়ের হতে পারে।
জেলায় জেলায় বিশেষ দল
প্রতিটি জেলায় বিশেষ পরিদর্শন দল গড়তে বলা হয়েছে। তারা সার কোম্পানি, গুদাম, পাইকারি ও খুচরা ডিলারদের এখানে নিয়মিত এবং আচমকা হানা দেবে। দেখা হবে:
- সারের মজুত আছে কি না
- স্টক রেকর্ড ও বিক্রির খাতা
- বিল ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের কেনাবেচার কাগজপত্র
কৃষকের অভিযোগে ২৪ ঘণ্টায় পদক্ষেপ
প্রতিটি জেলায় সার-সংক্রান্ত অভিযোগ সেল বা হেল্পলাইন চালু করতে বলা হয়েছে। জোরপূর্বক বিক্রি বা অন্য অনিয়মের অভিযোগ এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু করতে হবে, আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। পরিদর্শন, অভিযোগ নিষ্পত্তি বা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থায় গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও দায় ঠিক করা হবে।
কৃষকদের বলা হয়েছে, সার কালোবাজারি, বাড়তি দাম বা জোরপূর্বক বিক্রি চোখে পড়লে নিজ জেলার কৃষি দপ্তরে জানাতে। বিভাগ জানিয়েছে, পরিদর্শন ও ব্যবস্থা চলতেই থাকবে।











