পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে ভারতের বড় পদক্ষেপ, আসছে NM-ICPS 2.0

কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে ভারত এবার গ্লোবাল সাউথ, অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে নেতৃত্বের জায়গায় যেতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার ন্যাশনাল মিশন অন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেমস (NM-ICPS)-এর দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা করছে। খবর দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের (DST) সচিব উমেশ ভি. ওয়াঘমারে।

NM-ICPS-এর প্রথম ধাপ ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে, আর আমরা দ্বিতীয় ধাপের কথা ভাবছি, যা ফিজিক্যাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঙ্গে যুক্ত হবে।

উমেশ ভি. ওয়াঘমারে, সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর (DST)

চটজলদি জেনে নিন

  • NM-ICPS 2.0 কেন আসছে?
  • ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রথম NM-ICPS অনুমোদন করে।
  • প্রাথমিক মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর, বরাদ্দ ৩,৬৬০ কোটি টাকা।
  • প্রকল্পটি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বাধীন DST।

NM-ICPS 2.0 কেন আসছে?

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা প্রথম NM-ICPS অনুমোদন করে। প্রাথমিক মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর, বরাদ্দ ৩,৬৬০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বাধীন DST। প্রথম ধাপ শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে।

দ্বিতীয় ধাপে যুক্ত হবে “ফিজিক্যাল এআই”, অর্থাৎ বাস্তব জগতে কাজ করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ওয়াঘমারে জানিয়েছেন, প্রস্তাব এখনও তৈরি হচ্ছে। তবে বরাদ্দ প্রথম ধাপের কাছাকাছিই থাকবে।

জাতীয় কোয়ান্টাম মিশন কতদূর?

২০২৩ সালের এপ্রিলে মন্ত্রিসভা ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশন (NQM) অনুমোদন করে। এর সময়কাল ২০২৩-২৪ থেকে ২০৩০-৩১ এবং বাজেট ৬,০০৩.৬৫ কোটি টাকা। এটি প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন উপদেষ্টা পরিষদের (PMSTIAC) নয়টি উদ্যোগের একটি।

মিশনের তৃতীয় বছর চলছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনে।

  • ১,০০০ কিলোমিটারের কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক সফলভাবে দেখানো হয়েছে।
  • এবার ২,০০০ কিলোমিটারের নেটওয়ার্ক দেখানোর চেষ্টা চলছে।
  • বেঙ্গালুরুর ডিপ-টেক স্টার্টআপ QNu Labs-এর তৈরি দেশীয় কোয়ান্টাম কী ডিস্ট্রিবিউশন (QKD) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এটি হয়েছে।

QKD কী?

এটি এমন এক পদ্ধতি, যেখানে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যার নিয়ম কাজে লাগিয়ে তথ্য আদানপ্রদানের গোপন “চাবি” নিরাপদে পাঠানো হয়।

ডেটা সুরক্ষায় কোয়ান্টাম প্রযুক্তি

ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার আজকের অনেক এনক্রিপশন ভেঙে ফেলতে পারে। তাই কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী এনক্রিপশন ও পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি (PQC) কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। উদ্দেশ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেসের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।

গবেষণা থেকে বাজারে

সরকারের জোর এখন গবেষণাকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়ার দিকে। এর জন্য শিল্পক্ষেত্রকেও বিনিয়োগে আনতে হবে। সেই কারণেই ১ লক্ষ কোটি টাকার গবেষণা ও উদ্ভাবন তহবিল (RDIF) ভাবা হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বা ইকুইটির আকারে দেওয়া হবে।

গবেষণা-উন্নয়নে দেশের ব্যয়ও বেড়েছে।

  • ২০১৯-২০: ১.৩৩ ট্রিলিয়ন টাকা
  • ২০২৩-২৪: ২.৪৫ ট্রিলিয়ন টাকা (প্রায় ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি)
  • লক্ষ্য: ২০৩৫ সালের মধ্যে জিডিপির ২ শতাংশ

 

মোটকথা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এখন ভারতের গবেষণা-নীতির কেন্দ্রে। সরকারের মতে, ডিপ-টেক এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার ওপরে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ