পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

ভারতে ডেটা সেন্টার শিল্পে বিশাল বিনিয়োগের সম্ভাবনা: কী বললেন পীযূষ গোয়েল?

ভারত সরকার বলছে, ডেটা সেন্টার বসানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের সেরা জায়গা এখন ভারতই। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সম্প্রতি এই দাবি করেছেন, আর সঙ্গে দিয়েছেন বিশাল বিনিয়োগের হিসেবও। সহজ ভাষায় বললে, ডেটা সেন্টার হলো এমন এক বিশাল বিল্ডিং, যেখানে হাজার হাজার সার্ভার আর কম্পিউটার একসঙ্গে রাখা থাকে — এআই থেকে শুরু করে ইউটিউব-নেটফ্লিক্স, সবকিছুর পেছনের আসল "ইঞ্জিন রুম"।

নিঃসন্দেহে ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য ভারতই বিশ্বের সেরা জায়গা।

পীযূষ গোয়েল, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী

চটজলদি জেনে নিন

  • গোয়েল আসলে কী বললেন?
  • শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারতে ডেটা সেন্টার ব্যবসা আরও সহজ করার লক্ষ্যেই এই আলোচনা হয়েছিল।
  • তাঁর কথায়, "নিঃসন্দেহে ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য ভারতই বিশ্বের সেরা জায়গা।" এই বৈঠকে হাইপারস্কেলার (গুগল, অ্যামাজনের মতো বড় সংস্থা), …
  • সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি ছিল বিনিয়োগ নিয়ে।

গোয়েল আসলে কী বললেন?

শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারতে ডেটা সেন্টার ব্যবসা আরও সহজ করার লক্ষ্যেই এই আলোচনা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “নিঃসন্দেহে ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য ভারতই বিশ্বের সেরা জায়গা।” এই বৈঠকে হাইপারস্কেলার (গুগল, অ্যামাজনের মতো বড় সংস্থা), আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং দেশীয় সংস্থাগুলো অংশ নেয়।

সবচেয়ে বড় ঘোষণাটি ছিল বিনিয়োগ নিয়ে। তাঁর ভাষায়, “এই খাতে অন্তত ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলারের কম বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা নেই।” অর্থাৎ, ভারতের ডেটা সেন্টার শিল্পে আগামী দিনে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালতে চলেছে বিশ্ব।

কেন ভারতকে বেছে নিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা?

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতের কিছু বাড়তি সুবিধা আছে —

  • দেশজুড়ে সংযুক্ত পাওয়ার গ্রিড, যা বিরল সুবিধা
  • পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য শক্তির (renewable energy) সহজলভ্যতা
  • সরকারের তরফে ব্যবসা সহজ করার (ease of doing business) নিরন্তর প্রচেষ্টা
  • বিশাল প্রশিক্ষিত কর্মশক্তি ও দেশীয় ডেটার ভাণ্ডার

এই সব মিলিয়েই বিদেশি সংস্থাগুলো এখন ভারতমুখী।

৩০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্ন

গোয়েল জানান, শুধু ডেটা সেন্টার নয় — সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং দেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন শিল্প, এই সবকটি খাত মিলেই ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সহজ কথায়, ডেটা সেন্টার শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটা ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনারও একটা বড় অংশ।

প্রবৃদ্ধির হিসেব নিয়ে খোঁচা

একই অনুষ্ঠানে গোয়েল ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “দুটো যুদ্ধ চলছে, বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা — তার মধ্যেও ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারত ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, আমরা ভারতের মানুষকে নিয়ে গর্বিত।” কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে হিন্দি প্রবাদ ব্যবহার করে তিনি বলেন, “আঙুর খাট্টে হ্যায়, মুঝে লাগতা হ্যায়” — অর্থাৎ বাংলায় যাকে বলে “আঙুর ফল টক”। তাঁর সংযোজন, “যাঁরা বছরের পর বছর কষ্ট করে এই ফল অর্জন করেছেন, তাঁদের অপমান করা হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ