হাইড্রোজেন ট্রেন এবার ছুটবে ঘণ্টায় ১১০ কিমি বেগে, জানাল রেল বোর্ড
ভারতীয় রেল এবার তার প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন-কে আরও জোরে ছোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইন্দোরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার জানিয়েছেন, এই হাইড্রোজেন ট্রেন এখন থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে চালানোর কাজ চলছে।
হাইড্রোজেন ট্রেনের পরিচালন গতি এখন পর্যন্ত ৭৫ কিমি/ঘণ্টা রাখা হয়েছিল। তবে ১২০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তার পরে এখন সর্বোচ্চ ১১০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ট্রেনটি চালানোর চেষ্টা চলছে।
রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সিইও সতীশ কুমার
Quick Take
- ভারতীয় রেল হাইড্রোজেন ট্রেনের গতি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার করার লক্ষ্য নিয়েছে।
- পরীক্ষামূলক যাত্রায় ইতিমধ্যে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতি অর্জিত হয়েছে, যা প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
- হাইড্রোজেন ট্রেন নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা কেবল জলীয় বাষ্প নির্গত করে, কার্বন নির্গমন শূন্য।
- বন্দে ভারত স্লিপারও সম্প্রসারিত হচ্ছে, পিপিপি মডেলের অধীনে ২০০টি ট্রেন পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত গতিবেগ কত ছিল?
এখনও পর্যন্ত এই ট্রেনটির স্বাভাবিক পরিচালন গতি রাখা হয়েছিল ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার। তবে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনটিকে ইতিমধ্যেই ১২০ কিমি/ঘণ্টা বেগে চালিয়ে দেখা হয়েছে। সেই পরীক্ষার সাফল্যের পরই এখন লক্ষ্য রাখা হয়েছে, নিয়মিত পরিষেবায় ট্রেনটি ১১০ কিমি/ঘণ্টা বেগে চালানো যায় কিনা।
হাইড্রোজেন ট্রেন আসলে কী?
সহজ ভাষায় বললে, সাধারণ ইলেকট্রিক ট্রেন ওভারহেড তার থেকে বিদ্যুৎ টানে। কিন্তু হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ট্রেন নিজেই ট্রেনের ভেতরে বিদ্যুৎ তৈরি করে — হাইড্রোজেন আর অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরোয় শুধু জলীয় বাষ্প আর তাপ। কোনও দহন নেই, ধোঁয়া নেই, কার্বন নির্গমনও নেই। অর্থাৎ এটি একটি পরিবেশ বান্ধব ট্রেন।
রুট ও পরিকাঠামো নিয়ে কী চলছে
রেলওয়ে বোর্ড এখন সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যে —
- কোন কোন রেল সেকশনে হাইড্রোজেন ট্রেন চালানো যায়
- প্রযুক্তিগত দিকগুলি কীভাবে ঠিক করা হবে
- জ্বালানি (হাইড্রোজেন) সরবরাহের ব্যবস্থা কীভাবে তৈরি হবে
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১৭ জুলাই ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের সূচনা করেছিলেন, যা হরিয়ানার ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে চলছে।
বন্দে ভারত স্লিপারেও অগ্রগতি
শুধু হাইড্রোজেন ট্রেন নয়, একই অনুষ্ঠানে সতীশ কুমার জানান, দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি বর্তমানে হাওড়া থেকে কামাখ্যা (গুয়াহাটি) রুটে চলছে। আরও চারটি এই ধরনের ট্রেন তৈরি হয়ে গেছে এবং শীঘ্রই সেগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। এই বছর আরও ১১টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন হাতে পাওয়ার কথা রয়েছে রেলের। পিপিপি মডেলে মোট ২০০টি বন্দে ভারত স্লিপার তৈরি হচ্ছে, প্রতিটি ট্রেন তৈরি হতে সময় লাগছে প্রায় দেড় বছর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতীয় রেল একদিকে যেমন গতি বাড়িয়ে হাইড্রোজেন ট্রেনকে আরও কার্যকর করে তুলতে চাইছে, তেমনই যাত্রী পরিষেবার মানও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে একযোগে।











