বনভূমি মূল্যায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে: ভূপেন্দ্র যাদব
দেশের বনভূমি ও গাছপালা সম্পদ কতটা আছে, তা সঠিকভাবে জানতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বৃহস্পতিবার বলেছেন, বন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা জরুরি। তবে শুধু প্রযুক্তি আমদানি করলেই হবে না, দেশীয় সক্ষমতা এবং বনকর্মীদের দক্ষতাও বাড়াতে হবে।
২০৩৫ সালের মধ্যে ৩.৫–৪.০ বিলিয়ন টন কার্বন-সমতুল্য কার্বন সিঙ্ক তৈরির লক্ষ্য পূরণে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নীতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
ভূপেন্দ্র যাদব, কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী
Quick Take
- দিল্লিতে জাতীয় কর্মশালায় প্রযুক্তি-চালিত বন মূল্যায়নে জোর দিলেন ভূপেন্দর যাদব।
- ভারত তার তৃতীয় এনডিসি (জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান) লক্ষ্যমাত্রার আওতায় বনের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বৃদ্ধি করতে চায়।
- মন্ত্রী অভিন্ন মানদণ্ড, জলাভূমি-বন ভারসাম্য এবং দাবানল-প্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
- লক্ষ্য: প্রযুক্তি, নীতি ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩.৫-৪ বিলিয়ন টন কার্বন সিঙ্ক তৈরি করা।

নয়াদিল্লিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক (MoEFCC) আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালা উদ্বোধন করে তিনি এই কথা বলেন। কর্মশালাটির নাম ছিল “বন ও গাছপালা সম্পদের মূল্যায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার”। এতে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং-সহ বিভিন্ন রাজ্যের বন দফতর, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা।
কর্মশালায় কী নিয়ে আলোচনা হল?
কর্মশালায় তিনটি প্রযুক্তিগত সেশন হয়। বিষয়গুলি ছিল—
- বন এলাকার সীমানা ডিজিটাইজেশন
- বন ও গাছপালার আচ্ছাদন মূল্যায়ন
- কার্বন মজুতের হিসাব-নিকাশ
যাদব বলেন, মানুষ প্রকৃতির ঊর্ধ্বে নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করেই এগোতে হবে। তথ্যের মান বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে এবং জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণ করতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের উপর জোর দিতে হবে বলে তিনি জানান।
কেন এই বন মূল্যায়ন এত গুরুত্বপূর্ণ?
জাতিসংঘের জলবায়ু চুক্তি (UNFCCC)-এর আওতায় ভারতের তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা (NDC) হল বন ও গাছপালার মাধ্যমে কার্বন শোষণ ক্ষমতা বাড়ানো। এই লক্ষ্য পূরণে সঠিক বন মূল্যায়ন ছাড়া উপায় নেই।
ফরেস্ট সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (FSI) ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতি দুই বছর অন্তর দেশের বন ও গাছপালা সম্পদের মূল্যায়ন করে আসছে। এর ভিত্তিতে তৈরি হয় ইন্ডিয়া স্টেট অফ ফরেস্ট রিপোর্ট (ISFR), যা দেশে-বিদেশে বনের অবস্থা জানানোর প্রধান বৈজ্ঞানিক দলিল।
মন্ত্রী চান, সব প্রতিষ্ঠান একই মানদণ্ড মেনে কাজ করুক, যাতে বন সংরক্ষণে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজনের ক্ষেত্রে শুধু গাছের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং বিদ্যমান বনভূমির গুণমান বজায় রাখাটাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি জানান।
দাবানল ও জলাভূমি নিয়েও পরামর্শ
দাবানলপ্রবণ এলাকাগুলিকে ঘটনার হার অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করে হটস্পট চিহ্নিত করার কথাও বলেছেন যাদব, যাতে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়। জলাভূমি, বনভূমি ও তৃণভূমির মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, কারণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলাভূমির গুরুত্ব অপরিসীম।
তাঁর মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩.৫ থেকে ৪ বিলিয়ন টন কার্বন-সমতুল্য কার্বন সিঙ্ক তৈরির লক্ষ্য পূরণ করতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, কার্যকর নীতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ—সবকিছুরই দরকার।
গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন, মিষ্টি (MISHTI), নগর বন যোজনা, নমো বন ও এক পেড় মা কে নাম-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।











