ইন্ডিয়া এআই সামিট ২০২৬: ভারত প্রযুক্তি বানায়, প্রযুক্তি গ্রহণও করে দ্রুত— প্রধানমন্ত্রী
নয়াদিল্লির ভারত মন্ডপমে শুরু হওয়া ভারত এআই সামিট ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটা সহজ কিন্তু জোরালো কথা বললেন—ভারত শুধু নতুন প্রযুক্তি বানায় না, সেটা দ্রুত গ্রহণও করে। তাঁর মতে, ভারতই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক-পুল বা প্রযুক্তি-দক্ষ জনশক্তির কেন্দ্র।
চটজলদি জেনে নিন
- এআই হোক সবার জন্য মোদি বলেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন শুধু ধনী দেশগুলোর হাতিয়ার না হয়ে যায়।
- বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য এটা যেন অন্তর্ভুক্তি আর ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
- তাঁর ভাষায়, মানুষ আর বুদ্ধিমান সিস্টেম এখন একসঙ্গে তৈরি করবে, একসঙ্গে কাজ করবে, একসঙ্গে বিকশিত হবে।
- মানব (M.A.N.A.V.) ভিশন—এআই-এর জন্য পাঁচটা স্তম্ভ প্রধানমন্ত্রী একটা নতুন কাঠামো তুলে ধরলেন, যার নাম মানব ভিশন।

এআই হোক সবার জন্য
মোদি বলেন, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন শুধু ধনী দেশগুলোর হাতিয়ার না হয়ে যায়। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য এটা যেন অন্তর্ভুক্তি আর ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, মানুষ আর বুদ্ধিমান সিস্টেম এখন একসঙ্গে তৈরি করবে, একসঙ্গে কাজ করবে, একসঙ্গে বিকশিত হবে।
মানব (M.A.N.A.V.) ভিশন—এআই-এর জন্য পাঁচটা স্তম্ভ
প্রধানমন্ত্রী একটা নতুন কাঠামো তুলে ধরলেন, যার নাম মানব ভিশন। এতে পাঁচটা মূল বিষয় আছে:
- নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক ব্যবস্থা (Moral and Ethical Systems)
- দায়বদ্ধ শাসন (Accountable Governance)
- জাতীয় সার্বভৌমত্ব (National Sovereignty)
- সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (Accessible and Inclusive)
- বৈধ ও গ্রহণযোগ্য (Valid and Legitimate)
মোদির মতে, এই ভিশনই ২১ শতকের এআই-চালিত বিশ্বে মানবকল্যাণের একটা গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠবে।
ডিপফেক আর শিশু-নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডিপফেক আর ভুয়ো কনটেন্ট এখন সমাজকে অস্থির করে তুলছে। যেমন খাবারের প্যাকেটে নিউট্রিশন লেবেল থাকে, তেমনি ডিজিটাল কনটেন্টেও সত্যতার লেবেল দরকার—যাতে মানুষ বুঝতে পারে কোনটা আসল আর কোনটা এআই-জেনারেটেড। ওয়াটারমার্কিং আর উৎস যাচাইয়ের মান নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিয়ম দরকার বলেও তিনি জানান। স্কুলের সিলেবাস যেমন ভেবেচিন্তে বানানো হয়, এআই-এর জগতটাও তেমনই শিশু-সুরক্ষিত আর পরিবার-বান্ধব হওয়া উচিত।
সেমিকন্ডাক্টর থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং
মোদি জানান, ভারত সেমিকন্ডাক্টর, চিপ তৈরি আর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পর্যন্ত একটা শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্র গড়ে তুলছে। নিরাপদ ডেটা সেন্টার, মজবুত আইটি পরিকাঠামো আর প্রাণবন্ত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম মিলিয়ে ভারত এখন সাশ্রয়ী, নিরাপদ এআই সমাধানের স্বাভাবিক কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বিশ্বের কাছে তাঁর ডাক ছিল—”ভারতে তৈরি করুন, বিশ্বকে দিন, মানবতাকে দিন।”
অন্য নেতারা কী বললেন
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ভারত এমন কিছু গড়েছে যা বিশ্বের আর কোনো দেশ পারেনি—১৪০ কোটি মানুষকে ডিজিটাল পরিচয়, মাসে ২০০০ কোটি লেনদেন প্রক্রিয়া করা পেমেন্ট সিস্টেম, আর ৫০ কোটি ডিজিটাল হেলথ আইডি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এআই সবার হওয়া উচিত, আর এর ভবিষ্যৎ মুষ্টিমেয় কয়েকটা দেশ ঠিক করতে পারে না। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটা বৈশ্বিক এআই তহবিলের দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সরকার ৩৮ হাজার জিপিইউ সমেত একটা কমন কম্পিউট প্ল্যাটফর্ম বানিয়েছে, যা স্টার্টআপ ও গবেষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সুবিধা দেয়—শিগগিরই আরও ২০ হাজার জিপিইউ যোগ হবে। তিনি ঘোষণা করেন নতুন “নিউ দিল্লি ফ্রন্টিয়ার এআই ইমপ্যাক্ট কমিটমেন্টস”, যার লক্ষ্য বাস্তব-জীবনের এআই ব্যবহার বোঝা আর বিভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতিতে এআই কার্যকর করা।











