সোশ্যাল মিডিয়া কোড অফ কনডাক্ট: সরকারি কর্মীদের জন্য আসছে কড়া নিয়ম?
আপনার পাড়ার সরকারি অফিসার যদি ইনস্টাগ্রামে নিজের কাজের রিল বানিয়ে পোস্ট করেন, সেটা এবার থেকে হয়তো অত সহজ থাকবে না। কেন্দ্রীয় সরকার সব স্তরের সরকারি কর্মী ও অফিসারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া কোড অফ কনডাক্ট তৈরির কথা ভাবছে। উদ্দেশ্য একটাই— অনলাইনে তাঁরা কী পোস্ট করছেন, তার একটা স্পষ্ট নিয়মনীতি তৈরি করা।
চটজলদি জেনে নিন
- গল্পটা আসলে কী?
- খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিনিয়র আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন এই ধরনের একটা কোড অফ কনডাক্ট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে।
- বিষয়টি সম্প্রতি সরকারি সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল।
- এরপর ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টি ভি সোমনাথন সেই বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তগুলো একটি মেমোর মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের জানিয়ে দেন।

গল্পটা আসলে কী?
খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিনিয়র আমলাদের নির্দেশ দিয়েছেন এই ধরনের একটা কোড অফ কনডাক্ট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে। বিষয়টি সম্প্রতি সরকারি সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। এরপর ক্যাবিনেট সেক্রেটারি টি ভি সোমনাথন সেই বৈঠকের মূল সিদ্ধান্তগুলো একটি মেমোর মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের জানিয়ে দেন।
কেন হঠাৎ এই উদ্যোগ?
আসলে এই সোশ্যাল মিডিয়া নীতি তৈরির পেছনে একটা স্পষ্ট কারণ আছে—
- অনেক সরকারি অফিসার নিজেদের কাজ, পদমর্যাদা বা সাফল্য নিয়ে রিল, ভিডিও ও ব্যক্তিগত মতামত পোস্ট করছেন
- এই ধরনের পোস্ট অনেক সময় “নিজেকে জাহির করা”-র মতো দেখাচ্ছে, যা একজন সরকারি কর্মচারীর সংযমী ভাবমূর্তির সঙ্গে ঠিক মানানসই নয়
- এখন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই— তাই একটা বিশেষ কাঠামো দরকার বলে মনে করছে সরকার
সহজ ভাষায় বললে, অফিসারদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আর তাঁদের সরকারি পরিচয়— এই দুটোর মধ্যে লাইন ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, আর সরকার এখন সেই লাইনটা স্পষ্ট করতে চাইছে।
এখনও চূড়ান্ত হয়নি অনেক কিছু
তবে এখনই খুব বেশি নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার সময় আসেনি। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সোশ্যাল মিডিয়া বিধি ঠিক কবে চালু হবে, বা তাতে ঠিক কী কী বিধিনিষেধ থাকবে— তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ, সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত, বা সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কনটেন্ট নিয়ে সীমারেখা টানা হবে, কিন্তু সেই সীমারেখার বিস্তারিত রূপরেখা এখনও তৈরি হয়নি।
বড় ছবিটা: শুধু এটাই একমাত্র পদক্ষেপ নয়
এই উদ্যোগ কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। গত মাসেই কেন্দ্র সরকার সংবেদনশীল কনটেন্ট সরানোর সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে মাত্র ২ ঘণ্টা করে দিয়েছিল। এই সংশোধনী আনা হয়েছিল আইটি রুলস, ২০২১-এ, মূলত ডিপফেক ও এআই-জেনারেটেড ভুয়ো কনটেন্ট (SGI) মোকাবিলার জন্য। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার সামগ্রিকভাবেই আরও সক্রিয় হচ্ছে— আর সরকারি কর্মীদের জন্য এই নতুন কোড অফ কনডাক্ট তারই একটা অংশ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি চাকরি করেন যাঁরা, তাঁদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় “নিজেকে জাহির করা”-র দিন হয়তো শেষ হতে চলেছে— তবে ঠিক কতটা কড়া হবে সেই নিয়ম, তা জানার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।











