পীযূষ গয়ালের জাপান সফরঃ সেমিকন্ডাক্টর ও টেকনোলজি সেক্টরে বিনিয়োগের ডাক
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সবে জাপান সফর শেষ করলেন। এই পীযূষ গয়াল জাপান সফর-এর মূল লক্ষ্য ছিল একটাই— ভারতে বেশি করে জাপানি বিনিয়োগ টেনে আনা, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ তৈরির প্রযুক্তি) আর টেকনোলজি সেক্টরে। চার দিনের এই সফরে তিনি ঘুরেছেন টোকিও, নাগোয়া আর ওসাকা। দেখা করেছেন ৩০টিরও বেশি বড় জাপানি সংস্থা আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে।
চটজলদি জেনে নিন
- আলোচনা কাদের সাথে?
- গয়াল বৈঠক করেছেন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে: MUFG, Mizuho, Nomura Nippon Life, Development Bank of Japan Morgan Stanley MUFG Securities জাপা…
- গয়াল জানান, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতের সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা পৌঁছাবে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে।
- এই লক্ষ্যে সরকারের ছয়টি স্তম্ভ— চিপ ডিজাইন সেমিকন্ডাক্টর মেশিনারি ও কাঁচামাল ফ্যাব্রিকেশন (চিপ তৈরির কারখানা) ATMP/OSAT (প্যাকেজিং ও টেস্ট…

আলোচনা কাদের সাথে?
গয়াল বৈঠক করেছেন এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে:
- MUFG, Mizuho, Nomura
- Nippon Life, Development Bank of Japan
- Morgan Stanley MUFG Securities
- জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই
- JETRO, JBIC ও JICA-র প্রতিনিধিরা
- Keidanren (১৫০০-র বেশি সংস্থার জাপানি বাণিজ্য সংগঠন)
সেমিকন্ডাক্টরে ভারতের ছয়-স্তম্ভ পরিকল্পনা
সফরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ। গয়াল জানান, ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতের সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা পৌঁছাবে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে।
এই লক্ষ্যে সরকারের ছয়টি স্তম্ভ—
- চিপ ডিজাইন
- সেমিকন্ডাক্টর মেশিনারি ও কাঁচামাল
- ফ্যাব্রিকেশন (চিপ তৈরির কারখানা)
- ATMP/OSAT (প্যাকেজিং ও টেস্টিং)
- গবেষণা ও উন্নয়ন
- দক্ষ জনশক্তি তৈরি
গয়ালের কথায়, ভারতের তরুণ, দক্ষ জনবল আর জাপানের প্রযুক্তি-ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা একসঙ্গে কাজ করলে একটা বিশ্বমানের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম তৈরি সম্ভব। ধোলেরা আর সানন্দের মতো উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর ক্লাস্টারে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ জল ও দক্ষ শ্রমিকের মতো পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা হয়েছে।
১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য
২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জাপান সফরের সময় স্থির হয়েছিল, আগামী দশকে জাপান থেকে ভারতে আসবে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ। এই লক্ষ্য এগিয়ে নিতেই মূলত গয়ালের এই যাত্রা।
নাগোয়ায় শিল্প-সংযোগ
নাগোয়ায় “ইন্ডিয়া-জাপান নেক্সট জেনারেশন ইকোনমিক পার্টনারশিপ” রোডশোতে অংশ নেন গয়াল, যেখানে চুবু অঞ্চলের ৮০-রও বেশি জাপানি সংস্থা উপস্থিত ছিল। আলোচনা হয় অটোমোবাইল, এরোস্পেস, মেশিন টুলস আর সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে।
ভারতের অর্থনীতির ছবি তুলে ধরলেন গয়াল
গয়াল বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ হারে বেড়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যেও ভারত এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
সবমিলিয়ে, এই ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব এখন শুধু বাণিজ্যেই আটকে নেই— তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন আর মানুষে-মানুষে সম্পর্কের দিকেও।











