ব্র্যান্ড ও শিল্প (Brand & Industry)

মিউজিক লাইসেন্সিং: ক্রিয়েটরের রিলে গান বাজালে কোথায় ফাঁসতে পারে ব্র্যান্ড, জেনে নিন

উৎসবের লঞ্চে এক জনপ্রিয় ক্রিয়েটরের সঙ্গে হাত মেলাল একটি ব্র্যান্ড। রিলে বাজল মরশুমের সবচেয়ে বেশি শোনা গান। কয়েক ঘণ্টায় রিলটি ক্যাম্পেইনের বাকি সব পেইড বিজ্ঞাপনকে ছাড়িয়ে গেল। কয়েক সপ্তাহ পরে গানের মালিক মিউজিক লেবেলের নোটিশ এল, আর বিষয়টি মার্কেটিং টিমের হাত থেকে চলে গেল আইন বিভাগে। তারপর? 

চটজলদি জেনে নিন

  • গল্পটা কাল্পনিক হলেও মার্কেটিং টিমগুলোর কাছে চেনা।
  • ক্রিয়েটর মার্কেটিং এখন ব্র্যান্ড-কৌশলের কেন্দ্রে, তাই মিউজিক লাইসেন্সিং নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
  • গান "পাওয়া যায়" মানেই "ব্যবহার করা যায়" নয় ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম লেবেলের সঙ্গে চুক্তি করে, যাতে ব্যবহারকারীরা পোস্টে গান দিতে প…
  • কিন্তু সেই অনুমতি মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য।

গল্পটা কাল্পনিক হলেও মার্কেটিং টিমগুলোর কাছে চেনা। ক্রিয়েটর মার্কেটিং এখন ব্র্যান্ড-কৌশলের কেন্দ্রে, তাই মিউজিক লাইসেন্সিং নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

গান “পাওয়া যায়” মানেই “ব্যবহার করা যায়” নয়

ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম লেবেলের সঙ্গে চুক্তি করে, যাতে ব্যবহারকারীরা পোস্টে গান দিতে পারেন। কিন্তু সেই অনুমতি মূলত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য।

কিছু বিক্রির উদ্দেশ্যে ভিডিও বানালে সেটি বাণিজ্যিক কনটেন্ট। তখন গানের মালিকের কাছ থেকে সরাসরি সিঙ্ক্রোনাইজেশন লাইসেন্স নিতে হয়। সহজ কথায়, ভিডিওর সঙ্গে গান জুড়ে ব্যবহারের লিখিত অনুমতি।

ক্রিয়েটর পেইড পার্টনারশিপে ঢুকলে তাঁর কনটেন্টও বাণিজ্যিক হয়ে যায়। তখন ব্যক্তিগত ব্যবহারের অনুমতি সঙ্গে যায় না। ইনফ্লুয়েন্সারের অ্যাকাউন্ট দিয়ে গান চালালে তাই ব্র্যান্ড নিরাপদ হয় না।

মিউজিক লাইসেন্সিং নিয়ে আদালতে কী চলছে

  • বছরের শুরুতে একটি বড় এন্টারটেইনমেন্ট সংস্থা দিল্লি হাইকোর্টে একটি নামী রিটেইলারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। কারণ, প্রচারের ইনস্টাগ্রাম রিলে তাদের গান ব্যবহার।
  • মামলার প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামের মূল কোম্পানির সঙ্গে ওই সংস্থার চুক্তিতে গান শুধু অবাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য। রিল পরে সরিয়ে ফেললেও যতদিন লাইভ ছিল, ততদিনের দায় থেকে যায়।
  • আরেক বড় সংস্থা দেশের অন্যতম বড় ব্রডকাস্ট ও স্ট্রিমিং যৌথ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০টি ব্যবহারের অভিযোগে ৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৮ কোটি টাকা) চেয়েছে। শুনানি চলাকালীন যেন আর লঙ্ঘন না হয়, হাইকোর্ট সে নির্দেশ দিয়েছে।
  • ব্র্যান্ডেড রিল নিয়ে আরেকটি বিরোধে ব্র্যান্ড চাইছে প্ল্যাটফর্মের মূল কোম্পানিকেও মামলায় যুক্ত করা হোক। তাদের যুক্তি, লাইসেন্সের শর্ত ভাঙা হয়েছে কি না, তা কেবল প্ল্যাটফর্মই বলতে পারে।

প্ল্যাটফর্মের লাইসেন্স, ব্র্যান্ডের প্রচার আর গানের কপিরাইট কীভাবে মেলে, তা নিয়ে ভারতে এখনও চূড়ান্ত রায় নেই। এসব মামলার ফল দেশের ক্রিয়েটর ইকোনমির জন্য নজির হয়ে উঠতে পারে। আইনজ্ঞদের মতে, ভারতীয় আইনে ইনফ্লুয়েন্সার ক্যাম্পেইনে ব্র্যান্ডের পরোক্ষ দায় (সেকেন্ডারি লায়াবিলিটি) তৈরি হতে পারে। দায় শুধু ক্রিয়েটরের ওপর যায় না।

বাজার বাড়ছে, লোভও বাড়ছে

একটি ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতের ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রি ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ কোটি টাকা ছাড়াবে বলে আশা। মিউজিক লেবেলগুলোর পর্যবেক্ষণ, শর্ট ভিডিওতে কোনো গান ক্লিক করলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্ট্রিম ৩০০ থেকে ৫০০ শতাংশ বাড়তে পারে। অনুমতি ছাড়া গান ব্যবহারের প্রলোভনও তাই বাড়ে।

সমাধান: আগে অধিকার, পরে রিল

জনপ্রিয় গান ছেড়ে দেওয়া সমাধান নয়। ক্যাম্পেইন লাইভ হওয়ার পরে আইন বিভাগের ওপর ছেড়ে না দিয়ে পরিকল্পনার শুরুতেই লাইসেন্সিং রাখতে হবে। এজন্য:

  • আগের প্রচারমূলক কনটেন্ট যাচাই করা
  • ইনফ্লুয়েন্সারদের চুক্তিতে মিউজিক নিয়ে স্পষ্ট শর্ত রাখা
  • পেইড বা পার্টনারশিপ কনটেন্টের প্রতিটি ট্র্যাকের অনুমতি নিশ্চিত করা

আগের বড় বাধা ছিল ঝক্কি। এক লেবেল থেকে আরেক লেবেলে ঘুরে অনুমোদন আনা কয়েক দিনের ক্যাম্পেইনের গতির সঙ্গে মেলে না। এখন নতুন ধরনের সেলফ-সার্ভ মিউজিক লাইসেন্সিং মার্কেটপ্লেস সরাসরি লেবেলের সঙ্গে কাজ করে ফিল্ম, আঞ্চলিক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ক্যাটালগ এক জায়গায় আনছে। সেখানে আগে থেকে ছাড়পত্র পাওয়া, তুলনামূলক সস্তা লাইসেন্স মেলে। কিছু লাইসেন্স পেইড বিজ্ঞাপন, ক্রিয়েটর রিল ও লাইভ কমার্সেও চলে।

 

মূল কথা হল, কপিরাইট গ্যাপ বাস্তব, কিন্তু মেটানো সম্ভব, যদি ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ থেকেই লাইসেন্সিং ভাবা হয়।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ