মহাকাশে ডেটা সেন্টার: গুগলের স্বপ্নে স্টারশিপের ১,৮০০ উড়ান
গুগল এবার তাদের একটি অ্যাডভান্সড চিপ সত্যিই মহাকাশে পাঠাল। বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়া থেকে স্পেসএক্সের রকেটে উড়েছে গুগলের পরীক্ষামূলক কম্পিউটিং স্যাটেলাইট। প্রশ্ন একটাই: মহাকাশে ডেটা সেন্টার বানানো কি আদৌ সম্ভব?
চটজলদি জেনে নিন
- স্যাটেলাইটে কী আছে?
- স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে প্ল্যানেট ল্যাবস।
- ভেতরে আছে গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা TPU।
- এটা এআই চালানোর বিশেষ চিপ, এনভিডিয়ার জিপিইউ-র প্রতিদ্বন্দ্বী।

স্যাটেলাইটে কী আছে?
স্যাটেলাইটটি বানিয়েছে প্ল্যানেট ল্যাবস। ভেতরে আছে গুগলের টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা TPU। এটা এআই চালানোর বিশেষ চিপ, এনভিডিয়ার জিপিইউ-র প্রতিদ্বন্দ্বী। কক্ষপথে গিয়ে চিপটিকে তিনটি পরীক্ষা পার হতে হবে:
- টানা এক কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া
- চিপ ঠান্ডা রাখা
- একের পর এক এআই মডেল চালিয়ে দেখা, কিছু গোলমাল হয় কি না
স্যাটেলাইটের ওপর চাপ কমাতে চিপ চালু হবে ১৫ মিনিটের ছোট ছোট ধাপে। গুগলের প্রজেক্ট সানক্যাচার-এর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ট্রাভিস বিলস বলেন, মাটিতে পরীক্ষা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসল পরিবেশের মতো নিখুঁত কোনো পরীক্ষা নেই।
প্রজেক্ট সানক্যাচার: দূরের লক্ষ্য
বিলসের ভাষায় এটা এক “দীর্ঘমেয়াদি মুনশট”। গুগলের পরিকল্পনা হলো ৮১টি স্যাটেলাইট কাছাকাছি উড়বে, আর সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবে। আগামী বছর আরও উন্নত দুটি স্যাটেলাইটের ডেমো ওড়ার কথা, যারা লেজার লিংকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। একই রকেটে ১০০টিরও বেশি পে-লোড আছে, তার মধ্যে স্যাটলিট ও কাউবয় স্পেস কোম্পানির মিশনও রয়েছে।
আসল বাধা রকেটের খরচ
এই সপ্তাহে গুগল তাদের গবেষণাপত্রের পিয়ার-রিভিউড সংস্করণ প্রকাশ করেছে, যা ছাপা হবে Joule জার্নালে। গবেষকদের হিসাবে, স্পেসএক্স প্রতি বছর প্রায় ২০% করে খরচ কমিয়েছে। সেই ধারা বজায় থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি কিলোগ্রামে খরচ নেমে আসতে পারে প্রায় ২০০ ডলারে।
তবে এর জন্য স্টারশিপকে কক্ষপথে তুলতে হবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন মালপত্র। প্রতিবার ২০০ মেট্রিক টন নিলেও দশ বছরে লাগবে প্রায় ১,৮০০ উড়ান, অর্থাৎ বছরে ১৮০টি। অথচ স্টারশিপ এখনো এক বছরে পাঁচবারের বেশি ওড়েনি। ইলন মাস্ক ২০২৯ সালে ঘণ্টায় একটি উড়ানের কথা বলেছেন, তবে সেটা নিয়ে সংশয় থাকাই স্বাভাবিক। গুগল স্পেসএক্সের একজন বড় বিনিয়োগকারীও।
মহাকাশের বিকিরণ কি চিপ নষ্ট করবে?
আপাতত ভালো খবর আছে। পার্টিকল অ্যাক্সিলারেটরে চিপের পরীক্ষা আবার করতে হয়েছিল, কারণ আগের সেটআপে চিপ আসল অবস্থার চেয়ে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছিল। নতুন ফলাফলে লজিক সার্কিটে ত্রুটি সামান্য বেড়েছে। তবু গুগল আশাবাদী, পাঁচ বছরের স্যাটেলাইট জীবনে চিপ বড় ইনফারেন্স কাজ সামলাতে পারবে। তবে হাজার হাজার চিপ মাসের পর মাস চালিয়ে বিশাল এআই ট্রেনিং করানো এখনো সমস্যার জায়গা।











