‘কোয়ায়েট প্রিমিয়াম’: লোগো ছেড়ে কারুশিল্পে ঝুঁকছে ভারত
দামি জিনিস কিনলেই কি তাতে বড় করে ব্র্যান্ডের নাম থাকতে হবে? ভারতের তরুণ ক্রেতাদের অনেকে এখন বলছেন, না। বাজারে এই প্রবণতার নাম কোয়ায়েট প্রিমিয়াম। সহজ কথায়, জিনিসটা দামি ও ভালো মানের, কিন্তু নিজের পরিচয় নিয়ে চিৎকার করে না।
চটজলদি জেনে নিন
- লোগোর বদলে এখন কাপড়ের মান আর কারুকাজই আসল পরিচয়
- জেন জি ক্রেতারা ব্র্যান্ডের নামের বদলে টেকসই ও মানের দিকে ঝুঁকছেন
- ভারতে প্রিমিয়াম বিভাগ থেকেই আসছে ই-কমার্স বিক্রির অর্ধেকের বেশি
- লোগোর জৌলুস এখনও আছে, তাই নীরব বিলাসের বাজার পুরোপুরি জমেনি

কোয়ায়েট প্রিমিয়াম আসলে কী?
এখানে ব্র্যান্ডের ছাপ নয়, গুরুত্ব পায় কাপড়ের মান, বানানোর কায়দা আর টেকসই হওয়া। চান্দেরি শাড়ি বা বছরের পর বছর গায়ে জড়ানো পশমিনা শাল এর ভালো উদাহরণ। অনেকে এই ধারণাকে কোয়ায়েট লাক্সারিও বলছেন।
লোগোর দিন কি শেষ?
একসময় বেল্টের বাকলে বা জুতোয় পরিচিত নাম মানেই ছিল স্ট্যাটাস। এখন নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন তুলছে, জিনিসটা ডিজাইন, আরাম আর টেকার দিক থেকে সত্যিই ভালো তো? নাকি শুধু নামের জন্য বাড়তি দাম দিচ্ছি?
ক্রেতারা এখন যা দেখছেন
- জিনিসটা কোথায় তৈরি, কারা বানিয়েছেন
- কাপড় ও কারুশিল্পের মান
- অনেক দিন ব্যবহার করা যাবে কি না
- সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যোগ
সংখ্যায় ছবিটা
ভারতে জেন জি ক্রেতার সংখ্যা আনুমানিক ৪০ কোটি। এঁরা নতুন কিছু চেখে দেখতে চান, ব্র্যান্ডের প্রতি কম অনুগত। ডেলয়েট ইন্ডিয়ার এক সমীক্ষায় (৬০০-র বেশি উত্তরদাতা) দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ ক্রেতা গত এক বছরে নতুন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছেন। আবার ডেলয়েট ও রিটেইলার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার গবেষণা বলছে, দেশের ই-কমার্স বিক্রির অর্ধেকের বেশি আসছে প্রিমিয়াম বিভাগ থেকে। প্রিমিয়ামাইজেশনের এই ঢেউ তাই কোয়ায়েট প্রিমিয়ামের জমিও তৈরি করছে।
ছবির উল্টো পিঠও আছে
সবাই কিন্তু নীরব বিলাসে ঝুঁকছেন না। এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতের বিলাসবহুল পণ্যের বাজার এক বছরে ৩২.৮ শতাংশ বেড়েছে, আর উদযাপন ও চোখে পড়ার মতো স্ট্যাটাসের টান এখনও জোরালো। আরেকটি সমস্যা, কোয়ায়েট প্রিমিয়াম পণ্য এক নজরে চেনা যায় না, তাই তার প্রচারও কঠিন।
ব্র্যান্ডের জন্য বার্তা
দেশি ব্র্যান্ডের কাছে এটা সুযোগ। শুধু বিজ্ঞাপন নয়, ডিজাইনের সততা দিয়ে ক্রেতার আস্থা জিততে হবে। কোয়ায়েট প্রিমিয়ামের যুগে নামের চেয়ে গল্প আর মানই আসল পুঁজি।











