ম্যাকডোনাল্ডসের এআই প্রাইসিং: বিগ ম্যাকের দাম ঠিক করছে কে?
এক শাখায় বিগ ম্যাক কিনলেন এক দামে, দুই মাইল দূরের শাখায় দাম অন্যরকম। কখনো এমন হয়েছে? এর পেছনে থাকতে পারে ম্যাকডোনাল্ডসের এআই প্রাইসিং। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে খাবারের দাম ঠিক করার ব্যবস্থা।
চটজলদি জেনে নিন
- ম্যাকডোনাল্ডসের এআই প্রাইসিং কীভাবে কাজ করে?
- প্রায় ১৪ হাজার রেস্তোরাঁর প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি মেশিন লার্নিং প্রোগ্রাম।
- মেশিন লার্নিং মানে, কম্পিউটার তথ্য দেখে নিজে নিজে শেখে।
- এই প্রোগ্রাম প্রতিটি দোকানের প্রতিটি আইটেমের জন্য "সর্বোত্তম দাম" সুপারিশ করে।

ম্যাকডোনাল্ডসের এআই প্রাইসিং কীভাবে কাজ করে?
প্রায় ১৪ হাজার রেস্তোরাঁর প্রতিদিনের লাখ লাখ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি মেশিন লার্নিং প্রোগ্রাম। মেশিন লার্নিং মানে, কম্পিউটার তথ্য দেখে নিজে নিজে শেখে। এই প্রোগ্রাম প্রতিটি দোকানের প্রতিটি আইটেমের জন্য “সর্বোত্তম দাম” সুপারিশ করে।
- এলাকার ক্রেতারা কত দাম দিতে রাজি, তার আন্দাজ ধরা হয়
- কাছের ওয়েন্ডিজ ও বার্গার কিংয়ের অনলাইন মেনুর দামও দেখা হয়। ওই দুই চেইন জানিয়েছে, তারা দাম ঠিক করতে এআই ব্যবহার করে না
- প্ল্যাটফর্মটি চালায় টাইগার অ্যানালিটিক্স
- ২০১৯ সাল থেকেই কোনো না কোনো রূপে এমন টুল ব্যবহার হচ্ছে
একই বার্গার, দুই দাম
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে কোম্পানির নিজস্ব দুটি দোকান মাত্র দুই মাইল দূরে। একটিতে বিগ ম্যাকের দাম ৫.৬৯ ডলার, অন্যটিতে ৬.৮৯ ডলার, অর্থাৎ ২১ শতাংশ বেশি। তবে এই ফারাকের কারণ এআই কি না, রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। তিনজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক অবশ্য বলেছেন, এই ব্যবস্থায় এক এলাকার ভেতরেও দামের ফারাক বেড়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের অভিযোগ
ম্যাকডোনাল্ডস বলছে, চূড়ান্ত দাম ঠিক করার স্বাধীনতা মালিকদেরই আছে। কিন্তু পাঁচজন মালিক জানান, তাঁদের ওপর চাপ আছে। জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়মে কোম্পানির অনুমোদিত প্রাইসিং টুলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করা বাধ্যতামূলক। সুপারিশ না মানলে তার হিসাবও রাখা হয়।
আইনি ও সুনামের ঝুঁকি
অ্যালগরিদম-নির্ভর দাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রকদের নজর বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এতে প্রতিযোগীদের মধ্যে অবৈধ যোগসাজশ হচ্ছে কি না। ম্যাকডোনাল্ডসের নিজের পোর্টালের শর্তেই মালিকদের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন মানার সতর্কতা আছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালে ওয়েন্ডিজ ডায়নামিক প্রাইসিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। ইনস্টাকার্টও সমালোচনার পর একই ধরনের পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়।
ম্যাকডোনাল্ডস প্রতিবেদনটিকে “অনুমাননির্ভর ও অজ্ঞতাপ্রসূত” বলেছে। তাদের মতে, এটি একটি স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পদ্ধতি।
কোম্পানি বলছে, এটি শুধু সহায়ক টুল। মালিকদের একাংশ বলছেন, বাস্তবে এটি চাপ। আপনার পকেটের ওপর প্রভাব কতটা, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ ও ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।
তথ্যসূত্র











