ভারত-ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও মজবুত হল, দিল্লিতে বৈঠক
দিল্লিতে বসেছিল বড় এক বৈঠক। বিষয়— ভারত-ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও মজবুত করা। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে, ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বৈঠক করেন ভিয়েতনামের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ট্রুওং থাংয়ের সঙ্গে।
Quick Take
- ভারত ও ভিয়েতনাম মোদির ব্রিকস বৈঠকের আলোচনার পর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।
- মূল ক্ষেত্রগুলি হল: প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা।
- ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে উভয় দেশই নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়েছে।
- পরবর্তী প্রতিরক্ষা নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে অ্যারো ইন্ডিয়া ২০২৭-এ, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই আলোচনা এমনিতেই আসেনি। কিছুদিন আগেই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ভিয়েতনামি প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠকেই ঠিক হয়েছিল, দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও কাছাকাছি আসবে। এবার সেই দিশা অনুযায়ী কাজ শুরু হলো আমলা পর্যায়ে।
কী নিয়ে কথা হলো?
মূলত তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে:
- প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উদ্যোগ দ্রুততর করা
- প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থাৎ অস্ত্র বা সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করা
- সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও প্রসারিত করা
দুই দেশই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা একটা শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং নিয়মভিত্তিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো চায়— বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে, যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
আসিয়ান মঞ্চে যৌথ ভূমিকা
এই ভারত-ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটা বড় অংশ জুড়ে আছে আসিয়ান সংক্রান্ত মঞ্চ। দুই দেশ একমত হয়েছে যে ADMM-Plus (আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক প্লাস) এবং তার এক্সপার্টস ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো বাস্তব প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বহুপাক্ষিক মঞ্চে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
পরবর্তী ধাপ কী?
দুই পক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী প্রতিরক্ষা নীতি সংলাপ (Defence Policy Dialogue) আয়োজন করবে ভারত, এরো ইন্ডিয়া ২০২৭-এর সময়ে। অর্থাৎ, এই সহযোগিতা এখানেই থেমে থাকছে না— সামনে আরও বড় পরিকল্পনা আছে।
এই বৈঠক আসলে দুই দেশের মধ্যে “এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ” বা উন্নত ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার একটা ধাপ। সহজ কথায়— ভারত ও ভিয়েতনাম শুধু কথায় নয়, বাস্তবেও একে অপরের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে চায়।
References











