ভারতের গবেষণা ও উন্নয়ন: ৭৫ বছর অপেক্ষা নয়, বলছেন ANRF সিইও
ভারতের গবেষণা ও উন্নয়ন কি পশ্চিমা দেশের মতো ৭৫ বছর ধরে ধীরে ধীরে এগোবে? অনুসন্ধান ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ANRF) সিইও শিবকুমার কল্যাণরামন বলছেন, একেবারেই না। ইয়োরস্টোরির বার্ষিক সম্মেলন টেকস্পার্কস ২০২৬-এ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন বা ডারপার মতো প্রতিষ্ঠান যে পথ পেরোতে ৭৫ বছর নিয়েছে, ভারতের অত সময় নেই।
চটজলদি জেনে নিন
- ANRF আসলে কী?
- ২০২৩ সালে সংসদ আইন করে এই সংস্থা গড়েছে।
- জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সুপারিশই এর ভিত্তি।
- এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আর সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।

ANRF আসলে কী?
২০২৩ সালে সংসদ আইন করে এই সংস্থা গড়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র সুপারিশই এর ভিত্তি। এটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আর সভাপতি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। কল্যাণরামন একে বলেছেন “প্রাতিষ্ঠানিক স্টার্টআপ”। কাজটা সোজা: উচ্চশিক্ষা, শিল্প, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আর বিশ্বের দাতব্য সংস্থাকে এক সুতোয় বেঁধে গবেষণাগারের আবিষ্কার দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়া।
ভারতের গবেষণা ও উন্নয়নে ১ লক্ষ কোটির ধৈর্যশীল পুঁজি
এর মূল ভরসা গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবন তহবিল। এতে সরকারের জমা ১ লক্ষ কোটি টাকা। এটি ধৈর্যশীল পুঁজি, অর্থাৎ এমন বিনিয়োগ, যা তাড়াহুড়ো করে মুনাফা চায় না। ডিপ-টেক (গভীর প্রযুক্তি) সংস্থার ফল পেতে সময় লাগে, তাই এই ব্যবস্থা তাদের জন্যই।
ANRF সরাসরি কোনও কোম্পানিকে টাকা দেয় না। টাকা যায় ১৯টি নির্বাচিত ফান্ড ম্যানেজার ও বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে। তাঁরা আবার বেসরকারি বিনিয়োগ টানেন। একে বলে ফান্ড-অফ-ফান্ডস। কল্যাণরামনের হিসাবে, সরকারি ১ লক্ষ কোটি টাকা বাস্তব অর্থনীতিতে পৌঁছনোর আগে আরও ৫ থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা টেনে আনবে।
এর সঙ্গে যোগ হবে সিএসআর অনুদান, প্রবাসীদের দান আর বিশ্বজুড়ে পরোপকারী সংস্থার সহযোগিতা।
ভারতের গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্য কত দূর?
এখন এই খাতে খরচ জিডিপির ১ শতাংশেরও কম। বছরে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে তা ৩ শতাংশ বা তার বেশি করাই লক্ষ্য।
শুধু নামী প্রতিষ্ঠানে নয়
এতদিন উন্নত গবেষণা আটকে ছিল আইআইটি আর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের মতো হাতে-গোনা প্রতিষ্ঠানে। কল্যাণরামন বলেন, শুধু টাকা ছড়িয়ে দিলে হবে না, সত্যিকারের মানও ছড়াতে হবে।
তাই চালু হয়েছে “পার্টনারশিপস ফর অ্যাক্সিলারেটেড ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ”। এখানে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকের মতো কাশ্মীর থেকে নাগাল্যান্ডের আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানকে পথ দেখাবে।
ল্যাব থেকে স্টার্টআপে
গবেষণার ফল যাতে কাজে লাগে, সেজন্য “মহা” কর্মসূচি চালু হয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হল:
- বৈদ্যুতিক যানবাহন
- চিকিৎসা-যন্ত্র
- মহাকাশ প্রযুক্তি
- বিজ্ঞানের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- ড্রোন
- জলনিরাপত্তা
- গুরুত্বপূর্ণ খনিজ
আরেক বড় বাধা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্টার্টআপে মেধাস্বত্ব হস্তান্তর। সমাধান হিসেবে এআই ফর সায়েন্সের মতো কর্মসূচির আবিষ্কার এমআইটি লাইসেন্স-ভিত্তিক খোলা চুক্তিতে দেওয়া হবে। ফলে স্টার্টআপ সহজে সেই গবেষণা ব্যবহার করতে পারবে।
ভারতের গবেষণা ও উন্নয়নকে ল্যাবের চার দেওয়াল থেকে বাজারে আনতে ANRF-এর ছক স্পষ্ট: ধৈর্যশীল পুঁজি, ছড়ানো শ্রেষ্ঠত্ব আর খোলা লাইসেন্স।











