স্টার্ট আপ বার্তা (Start Up Newz)

দিল্লির অলিগলিতে জন্ম নেওয়া এক অন্যরকম গল্প: ভিন্নভাবে সক্ষম শিল্পীদের হাতে তৈরি স্নিকার্স

হাউজ খাস ভিলেজের মাঝে একটা ছোট্ট অফিস। সেখানে একদিকে সাজানো আছে রংবেরঙের জুতো, আরেকদিকে চলছে আসল কাজ — শিল্পীরা বসে ছবি আঁকছেন, অর্ডার প্যাক হচ্ছে, স্টক গোনা হচ্ছে। এটাই কবসুক (KobSook)-এর রোজকার ছবি, ২০২৩ সালে দিল্লিতে শুরু হওয়া একটি স্টার্টআপ, যারা হাতে তৈরি স্নিকার্স বানায় ভিন্নভাবে সক্ষম শিল্পীদের আঁকা ডিজাইন দিয়ে। এখানে কোনো মেশিন লাইন নেই, নেই কনভেয়র বেল্ট। প্রতিটা জুতো — কাপড় প্রিন্ট করা থেকে কাটা, সেলাই করা পর্যন্ত — হয় একদম হাতে।

লক্ষ্য হলো ভিন্নভাবে সক্ষম তরুণদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া, যেখানে তারাই সামনে থাকবে — ডিজাইনে হোক বা কাজের অন্যান্য জায়গায়।

অজিজ কাপাসি, প্রতিষ্ঠাতা, KobSook

চটজলদি জেনে নিন

  • কেন শুরু হলো কবসুক?
  • প্রতিষ্ঠাতা অজিজ কাপাসি চেয়েছিলেন এমন কিছু তৈরি করতে, যা শুধু ব্যবসা নয়, বরং সৃজনশীল কিন্তু কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের জন্য স্…
  • তিনি বলেন — "কবসুকের গোটা উদ্দেশ্যই ছিল ভিন্নভাবে সক্ষম তরুণদের জন্য অর্থবহ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।" ভারতের ক্যানভাস স্নিকার্…
  • কাপাসির ভাষায়, "এগুলো সব দেখতে একইরকম, একটা নকল।" ঠিক এই ফাঁকটাই ভরাতে চেয়েছে কবসুক — এমন জুতো, যা একজন শিল্পীর নিজস্ব গল্প বহন করে।

কেন শুরু হলো কবসুক?

প্রতিষ্ঠাতা অজিজ কাপাসি চেয়েছিলেন এমন কিছু তৈরি করতে, যা শুধু ব্যবসা নয়, বরং সৃজনশীল কিন্তু কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের জন্য স্থায়ী আয়ের পথও খুলে দেবে। তিনি বলেন — “কবসুকের গোটা উদ্দেশ্যই ছিল ভিন্নভাবে সক্ষম তরুণদের জন্য অর্থবহ ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।”

ভারতের ক্যানভাস স্নিকার্স বাজারে বেশিরভাগ ব্র্যান্ডের ডিজাইন একইরকম, ব্যক্তিত্বহীন। কাপাসির ভাষায়, “এগুলো সব দেখতে একইরকম, একটা নকল।” ঠিক এই ফাঁকটাই ভরাতে চেয়েছে কবসুক — এমন জুতো, যা একজন শিল্পীর নিজস্ব গল্প বহন করে।

শিল্পীরাই কেন্দ্রে

কবসুক কাজ করে AIMS Media নামের একটি প্রশিক্ষণ সংস্থার সঙ্গে মিলে, যারা প্রার্থীদের চিহ্নিত করে এবং ইলাস্ট্রেশন, ডিজিটাল ডিজাইন, ফটো-ভিডিও এডিটিংয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। নিয়োগের আগে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়, তারপর ইন্টার্নশিপ, তারপর পাকাপাকি কাজ।

শিল্পীরা এখানে বেতনভুক্ত কর্মী, আর তাদের নাম ডিজাইনের পাশেই ছাপা থাকে ওয়েবসাইটে। কাপাসি বলেন —

“লক্ষ্য হলো ভিন্নভাবে সক্ষম তরুণদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া, যেখানে তারাই সামনে থাকবে — ডিজাইনে হোক বা কাজের অন্যান্য জায়গায়।”

জুতো তৈরির প্রক্রিয়া

  • শিল্পীর আঁকা ছবি ডিজিটাল প্যাটার্নে বসানো হয়
  • ক্যানভাস কাপড়ে ডিজিটাল প্রিন্ট করা হয়
  • হাতে কাটা ও সেলাই হয়
  • প্রতিটি জোড়া চেক করে প্যাক করা হয় বায়োডিগ্রেডেবল পাউচে

সোল তৈরি হয় TPR (থার্মোপ্লাস্টিক রাবার) দিয়ে, ভেতরে থাকে EVA ইনসোল — আরামের জন্য। সব উপকরণ, সুতো থেকে সোল পর্যন্ত, আসে ভারত থেকেই।

বাজার ও দাম

প্রতিটি জুতোর দাম রাখা হয়েছে ১,৭০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে, যাতে সাধারণ মানুষও কিনতে পারেন। কাস্টম ডিজাইনের জুতো পেতে সময় লাগে প্রায় ২৫ দিন। কবসুক বিক্রি করে নিজেদের ওয়েবসাইট ছাড়াও Myntra, Amazon, Ajio ও Flipkart-এ। পুরো ব্যবসাটাই স্ব-অর্থায়িত (bootstrapped), আর বিপণন মূলত মুখে-মুখেই ছড়ানো ভরসা।

কবসুকের গল্প তাই শুধু একটা স্টার্টআপ-এর নয় — এটা দেখায়, কীভাবে ব্যবসা আর সামাজিক দায়বদ্ধতা একসঙ্গে চলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ