ভারতের জ্যাভলিন মিসাইল: টাটা-রেথিয়ন-লকহিড চুক্তি
ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বড় খবর। টাটা গ্রুপের প্রতিরক্ষা শাখা, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL), একটি চুক্তিতে সই করেছে জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারের সঙ্গে। এই জয়েন্ট ভেঞ্চার আসলে দুটো বড় মার্কিন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগ — রেথিয়ন (RTX-এর অংশ) আর লকহিড মার্টিন। উদ্দেশ্য একটাই: ভারতে জ্যাভলিন অল আপ রাউন্ড (AUR) মিসাইল একসঙ্গে তৈরি করা। জ্যাভলিন আসলে একটা অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম — মানে সহজ ভাষায়, শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ধ্বংস করার জন্য কাঁধে নিয়ে ছোঁড়া যায় এমন একটা অস্ত্র। এটাই এতদিন আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হতো।
এই সহযোগিতা শুধু ভারতের হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতা বাড়ায় না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল জুড়ে একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল নিরাপত্তা কাঠামোকেও মজবুত করে, যা আমাদের বিশ্বজুড়ে থাকা অংশীদারদের দ্রুত হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম করবে।
রিচ লিক্সিওন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর, লকহিড মার্টিন জ্যাভলিন
চটজলদি জেনে নিন
- কী কী হবে এই চুক্তিতে কয়েকটা কোম্পানির মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসকে প্রাথমিক পার্টনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
- এই সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী দুই পক্ষ মিলে খতিয়ে দেখবে: ভারতে জ্যাভলিন AUR-এর ফাইনাল অ্যাসেম্বলি ও ইন্টিগ্রেশন ফ্যাসিলিটি বানানো এখানেই…
- এই দুটো অংশ তারপর জাহাজে করে ভারতে পাঠানো হবে, যেখানে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে চূড়ান্ত মিসাইল তৈরি হবে।
- কোম্পানিগুলোর দাবি, এতে ভারতে হাই-টেক চাকরি তৈরি হবে, স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং দক্ষতা বাড়বে, আবার আমেরিকার সাপ্লাই চেইনেও কাজ বজায় থাকবে।

কী কী হবে এই চুক্তিতে
কয়েকটা কোম্পানির মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসকে প্রাথমিক পার্টনার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী দুই পক্ষ মিলে খতিয়ে দেখবে:
- ভারতে জ্যাভলিন AUR-এর ফাইনাল অ্যাসেম্বলি ও ইন্টিগ্রেশন ফ্যাসিলিটি বানানো
- এখানেই যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করা
- আমেরিকার বর্তমান উৎপাদনের সঙ্গে ভারতের অ্যাসেম্বলি লাইনকে জুড়ে দেওয়া
কোথায় তৈরি হবে কোন অংশ
আলাবামার ট্রয়ে লকহিড মার্টিনের কারখানা সাব-অ্যাসেম্বলি কিট বানাবে, আর অ্যারিজোনার টুসনে রেথিয়নের কারখানা তৈরি করবে গাইডেন্স ইলেকট্রনিক্স ইউনিট। এই দুটো অংশ তারপর জাহাজে করে ভারতে পাঠানো হবে, যেখানে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে চূড়ান্ত মিসাইল তৈরি হবে।
কোম্পানিগুলোর দাবি, এতে ভারতে হাই-টেক চাকরি তৈরি হবে, স্থানীয় ম্যানুফ্যাকচারিং দক্ষতা বাড়বে, আবার আমেরিকার সাপ্লাই চেইনেও কাজ বজায় থাকবে।
কর্তাব্যক্তিরা কী বলছেন
জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লকহিড মার্টিন জ্যাভলিন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর রিচ লিক্সিওন বলেছেন, টাটার সঙ্গে এই পার্টনারশিপ এই গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য একটা মজবুত সাপ্লাই চেইন গড়ার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ।
টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুকরণ সিং একে লকহিড মার্টিন ও রেথিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ বলে বর্ণনা করেছেন।
সংখ্যায় জ্যাভলিন
জয়েন্ট ভেঞ্চারের হিসেবে, এখন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে ৫৫,০০০-এরও বেশি জ্যাভলিন মিসাইল আর ১২,০০০-এর বেশি রি-ইউজেবল কমান্ড লঞ্চ ইউনিট। ভারতে উৎপাদন শুরু হলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে, আর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহও সহজ হবে বলে দাবি সংস্থাগুলোর।
তবে মনে রাখা দরকার, এখনও এটা একটা সমঝোতা স্মারক — চূড়ান্ত উৎপাদন শুরু হতে সময় লাগবে।











