ইসরোর জিএসএলভি-এফ১৮ মিশনে ৪৬ প্যাকেজ জোগান অনন্ত টেকনোলজিস-এর
ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা মজবুত করতে এনভিএস-০৩ উপগ্রহ নিয়ে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের উৎক্ষেপণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এই মিশনের পেছনে ইসরোর পাশাপাশি আছে দেশের বেসরকারি শিল্পও। হায়দরাবাদের সংস্থা অনন্ত টেকনোলজিস ৩১ অক্টোবর জানিয়েছে, তারা রকেটের জন্য ৪৬টি অ্যাভিওনিক্স ও ইলেকট্রনিক্স প্যাকেজ এবং উপগ্রহের জন্য নয়টি সিস্টেম দিয়েছে। (অ্যাভিওনিক্স মানে রকেট বা বিমানের ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগের যন্ত্র।)
আমরা নির্ভরযোগ্য, দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিকে সমর্থন করতে এবং উন্নত মহাকাশ ব্যবস্থায় দেশকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ড. সুব্বা রাও পাভুলুরি, চেয়ারম্যান, অনন্ত টেকনোলজিস
চটজলদি জেনে নিন
- জিএসএলভি-এফ১৮ মিশনে ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ দিয়েছে অনন্ত টেকনোলজিস।
- মিশনের নকশা ও সামগ্রিক দায়িত্ব এখনও ইসরোর হাতেই।
- এনভিএস-০৩ উপগ্রহে পাওয়ার, স্টার সেন্সর ও কন্ট্রোল সিস্টেম জুগিয়েছে সংস্থাটি।
- বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে ইসরোর গবেষণা ও নতুন মিশনে মনোযোগ বাড়বে।

রকেটের জন্য কী দিয়েছে অনন্ত টেকনোলজিস
সংস্থার দাবি, এই ৪৬টি প্যাকেজ রকেটের বিভিন্ন ধাপে কাজ করে। এর মধ্যে আছে:
- টেলিমেট্রি ও ডেটা সংগ্রহের যন্ত্র
- নেভিগেশন ও গাইডেন্স ইলেকট্রনিক্স
- পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট ও রিলে সিস্টেম
- রকেটের কাঠামোর অবস্থা নজরে রাখার যন্ত্র
- অ্যাকচুয়েটর কন্ট্রোল সিস্টেম ও ট্রান্সপন্ডার
টেলিমেট্রি হলো রকেটের কাজকর্মের তথ্য মাটির স্টেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা। গাইডেন্স যন্ত্র রকেটকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করে। উড়ানের সময় প্রচণ্ড কাঁপুনি, গতি আর তাপমাত্রার ওঠানামা সামলাতে হয়। তাই এসব যন্ত্র নির্ভরযোগ্য হওয়া জরুরি।
তবে কয়েকটি যন্ত্র সরবরাহ করা আর পুরো রকেট ডিজাইন বা জোড়া লাগানো এক কথা নয়। মিশনের নকশা, সিস্টেম একত্রীকরণ, যোগ্যতা যাচাই ও সামগ্রিক পরিচালনার দায়িত্ব এখনও ইসরোর হাতেই।
এনভিএস-০৩ উপগ্রহে অনন্ত টেকনোলজিসের ভূমিকা
এনভিএস-০৩ ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয়টি। এটি নাভিক (NavIC) ব্যবস্থাকে ধারাবাহিক ও আরও উন্নত রাখতে তৈরি। সংস্থাটি এতে দিয়েছে পাওয়ার-ম্যানেজমেন্ট প্যাকেজ, বিভিন্ন ডিসি-ডিসি কনভার্টার, স্টার সেন্সর এবং অ্যাটিটিউড ও অরবিট কন্ট্রোল সিস্টেম। সহজ করে বললে, স্টার সেন্সর চেনা তারার নকশা দেখে বোঝে উপগ্রহ কোন দিকে মুখ করে আছে। ডিসি-ডিসি কনভার্টার বিভিন্ন যন্ত্রের জন্য দরকারি ভোল্টেজ জোগায়।
নতুন সিরিজে এল১ সংকেত যোগ হয়েছে, যা এল৫ ও এস-ব্যান্ডের পাশাপাশি চলবে। ফলে আরও বেশি সাধারণ রিসিভারে কাজ করার সম্ভাবনা বাড়ছে। এনভিএস-০৩-এ দেশীয় পারমাণবিক ঘড়িও আছে, সঙ্গে আমদানি করা ঘড়ি। নিখুঁত সময় না মাপলে অবস্থান বোঝা যায় না। তাই দেশীয় ঘড়ি বিদেশি নির্ভরতা কমাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নাভিক ভারত এবং সীমানার প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার বাইরে পর্যন্ত অবস্থান ও সময়ের পরিষেবা দেয়।
তবে শুধু নতুন উপগ্রহ ছাড়লেই সব সমস্যা মেটে না। চালু উপগ্রহমালা, নির্ভরযোগ্য ঘড়ি, গ্রাউন্ড অবকাঠামো আর সামঞ্জস্যপূর্ণ রিসিভারের প্রসারও সমান জরুরি।
বেসরকারি খাতের বাড়তি ভূমিকা
অনন্ত টেকনোলজিসের দাবি, কয়েক দশক ধরে তাদের সিস্টেম ও পরিষেবা ১১১টি উপগ্রহ ও ৯১টি রকেটের কাজে লেগেছে। সদর দপ্তর হায়দরাবাদে। বেঙ্গালুরুতে আছে উপগ্রহ জোড়া ও পরীক্ষার কেন্দ্র, আর তিরুবনন্তপুরমে রকেটের সাবসিস্টেম তৈরির কেন্দ্র।
বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে উৎপাদন ক্ষমতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল শক্ত হয়। ইসরোও উন্নত গবেষণা ও নতুন মিশনে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে অনন্ত টেকনোলজিসের মতো সংস্থাগুলোকে শুধু যন্ত্রাংশ তৈরির বাইরে গিয়ে সিস্টেম ডিজাইন, মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক সরবরাহের দায়িত্বও নিতে হবে। নিয়মিত অর্ডার, পরীক্ষার সুবিধা, গবেষণায় বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাজার এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।











