দিল্লি আইটি নীতি ২০২৬-৩১: টেক ডিস্ট্রিক্টসহ আর কোন নতুন পরিষেবা, জেনে নিন
দিল্লিকে প্রযুক্তির বড় ঠিকানা বানাতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্যেই এসেছে খসড়া দিল্লি আইটি নীতি ২০২৬-২০৩১। নীতিটি তৈরি করেছে আইটি বিভাগ। প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললে তবেই এটি কার্যকর হবে।
চটজলদি জেনে নিন
- দিল্লিতে ২০০+ জিসিসি ও দুটি নতুন টেক ডিস্ট্রিক্ট গড়ার পরিকল্পনা
- ২০৩১ সালের মধ্যে ৫-৬ লাখ তরুণকে এআই-ক্লাউড-সাইবার নিরাপত্তায় প্রশিক্ষণ
- কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট ছাড়সহ একাধিক নতুন প্রণোদনা
- myDelhi পোর্টালে আসছে সব সরকারি সেবা, খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি

দিল্লি আইটি নীতির বড় লক্ষ্যগুলো
- ২০০-র বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (জিসিসি) গড়া। সহজ কথায়, বড় কোম্পানির নিজস্ব প্রযুক্তি-কেন্দ্র।
- ২০৩১ সালের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় লাখ তরুণকে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- প্রযুক্তি খাতে নারীকর্মীর অংশ ৪০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।
- বিজ্ঞপ্তিভুক্ত সব সরকারি সেবা অনলাইনে আনা।
দুটি টেক ডিস্ট্রিক্টের প্রস্তাব
খসড়ায় দুটি ইনোভেশন ও টেকনোলজি ডিস্ট্রিক্টের কথা আছে। অগ্রাধিকার পাচ্ছে দক্ষিণ দিল্লি, দ্বারকা ও পূর্ব দিল্লি। সেখানে প্রযুক্তি কোম্পানি ও স্টার্টআপের জন্য অফিস, ল্যাব ও কো-ওয়ার্কিং স্পেস থাকবে। পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত একটি টেক ডিস্ট্রিক্ট গড়তে চায় সরকার।
কোম্পানির জন্য কী কী সুবিধা?
বিনিয়োগ টানতে দিল্লি আইটি নীতিতে একগুচ্ছ প্রণোদনার প্রস্তাব আছে:
- সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থায় সাধারণ অনুমোদন ৩০ দিনের মধ্যে
- জিসিসি-র জন্য আলাদা ফ্যাসিলিটেশন সেল, যা কোম্পানির একমাত্র যোগাযোগ-কেন্দ্র হবে
- যোগ্য আইটি ও আইটিইএস কোম্পানি এবং জিসিসি-র জন্য বিদ্যুৎ বিলে ১০ শতাংশ ছাড়
- তিন বছর ধরে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ইন্টারনেট খরচ ফেরত
- ৫০০-র বেশি চাকরি তৈরি করলে তিন বছর ধরে প্রতি কর্মীর জন্য বছরে ২৫ হাজার টাকা
- যোগ্য নারী, তফসিলি জাতি-উপজাতি ও প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য পাঁচ বছর ধরে মাসে ৫ হাজার টাকা বৈচিত্র্য প্রণোদনা
এ ছাড়া প্রশিক্ষণ খরচ ফেরত, এআই কম্পিউটিং ক্রেডিট ও সাইবার নিরাপত্তা সার্টিফিকেশনে সহায়তার কথাও আছে। চারটি আলাদা তহবিলের প্রস্তাব রয়েছে। জিসিসি সহায়তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে বছরে ৫ কোটি টাকা করে, আর গভটেক উদ্ভাবনে ১০ কোটি টাকা। তবে এগুলো বাজেট বরাদ্দ ও অর্থ বিভাগের সম্মতির ওপর নির্ভর করবে।
সরকারি সেবা অনলাইনে: myDelhi পোর্টাল
বিজ্ঞপ্তিভুক্ত ১০০ শতাংশ সরকারি সেবা আনা হবে ‘myDelhi’ নামের একটি একীভূত পোর্টালে। সব দপ্তরে ই-অফিস ও ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যও আছে। ফলে কাগজপত্র আর সশরীরে দৌড়ঝাঁপ কমবে বলে আশা।
২০২৭ সালের মধ্যে দিল্লি স্টেট ডেটা সেন্টার চালুর প্রস্তাব আছে, সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার সাইবার নিরাপত্তা মনিটরিং কেন্দ্র। ট্রাফিক, দূষণ, জনস্বাস্থ্যের পূর্বাভাস ও জালিয়াতি ধরতে এআই ও প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স কাজে লাগানো হবে।
সব মিলিয়ে দিল্লি আইটি নীতি এখনও খসড়া। চূড়ান্ত রূপ কেমন হয়, সেটাই এখন দেখার।











