সাইবার জালিয়াতিতে এখন পুরো অ্যাকাউন্ট নয়, শুধু সন্দেহজনক টাকাই আটকাবে ব্যাংক RBI
সাইবার জালিয়াতি রুখতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবার একটা বড়সড় বদল আনতে চলেছে। এতদিন কোনো অ্যাকাউন্টে জালিয়াতির সন্দেহ হলেই ব্যাংক পুরো অ্যাকাউন্টটাই ফ্রিজ করে দিত। ফলে নির্দোষ গ্রাহকরাও নিজের টাকা তুলতে পারতেন না। এবার RBI-র নতুন খসড়া নিয়মে বলা হয়েছে, শুধু যে লেনদেনটা সন্দেহজনক, সেই পরিমাণ টাকাই আটকানো হবে — গোটা অ্যাকাউন্ট নয়।
Quick Take
- আরবিআই-এর নতুন খসড়া নিয়ম শুধুমাত্র সন্দেহজনক লেনদেন স্থগিত করবে, পুরো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নয়।
- ১,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এআই টুল মিউল অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করবে।
- গ্রাহকরা ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ২০ দিন সময় পাবেন, আর ব্যাংকগুলি ১০ দিনের মধ্যে যাচাই করবে।
- এই নিয়ম ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে, যার লক্ষ্য নিরপরাধ অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের সুরক্ষা দেওয়া।

কী বলছে RBI-র নতুন খসড়া?
“Reserve Bank of India (Know Your Customer) Amendment Directions, 2026” নামের এই খসড়া নিয়ম এসেছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই। আগস্ট মাসে সুপ্রিম কোর্ট RBI-কে বলেছিল, সাইবার জালিয়াতির অভিযোগ এলে ব্যাংকগুলো যেন একই নিয়মে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা নেয়।
কীভাবে কাজ করবে সিস্টেমটা?
RBI-র প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যাংকগুলো AI ও মেশিন লার্নিং ভিত্তিক মনিটরিং টুল ব্যবহার করবে। ₹1,000 বা তার বেশি টাকার যেকোনো “মিউল অ্যাকাউন্ট” সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়লেই—
- ব্যাংক সেই নির্দিষ্ট লেনদেনের টাকায় সাময়িক ডেবিট হোল্ড বসাবে
- গ্রাহককে একই দিনে ডিজিটালি বা পরদিনের মধ্যে সশরীরে জানাতে হবে
- গ্রাহক ২০ দিনের মধ্যে প্রমাণ দিয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারবেন
- ব্যাংক সেই ব্যাখ্যা ১০ দিনের মধ্যে যাচাই করবে
- ব্যাখ্যা ঠিক হলে সঙ্গে সঙ্গে হোল্ড তুলে নেওয়া হবে
- ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে, ৩০ দিনের মধ্যে NCRP-CFCFRMS পোর্টালের মাধ্যমে পুলিশের কাছে পাঠানো হবে
আদালতের কোনো নির্দেশ না থাকলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্তই এই হোল্ড রাখা যাবে। তবে নোডাল, এসক্রো বা বিশেষ প্রয়োজনের অ্যাকাউন্টগুলো এর বাইরে থাকছে।
পুরো অ্যাকাউন্ট কবে ফ্রিজ হবে?
শুধু “মিউল অ্যাকাউন্ট”—অর্থাৎ যে অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির টাকা সরানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ—তেমন ক্ষেত্রেই পুরো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যাবে। বাকি সব ক্ষেত্রে শুধু বিতর্কিত টাকাটুকুই আটকে থাকবে।
কেন এই পদক্ষেপ জরুরি?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ভারতীয়রা সাইবার জালিয়াতিতে হারিয়েছেন প্রায় ₹22,495 কোটি টাকা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসেবে গত ছয় বছরে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ₹52,976 কোটি, যার প্রায় ৮% “ডিজিটাল অ্যারেস্ট” প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত।
কবে থেকে লাগু হবে নতুন নিয়ম?
RBI ২ অক্টোবরের মধ্যে জনমত চেয়েছে। খসড়া অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে, যদিও ব্যাংক চাইলে আগেভাগেও এটি চালু করতে পারে।
এই সাইবার জালিয়াতি বিরোধী পদক্ষেপ চালু হলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এখন আর নির্দোষ মানুষের গোটা অ্যাকাউন্ট আটকে থাকবে না।
References











