Uncategorized

স্প্যাম কল নিয়ে নতুন নিয়ম: ট্রুকলারের মতো অ্যাপে লাগাম TRAI-এর

অচেনা নম্বর থেকে প্রচারের ফোন আসছে তো আসছেই? এবার লাগাম টানছে টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাই (TRAI)। ১৮ সেপ্টেম্বর তারা নতুন স্প্যাম কল নিয়ম চূড়ান্ত করেছে। ২০১৮ সালের নিয়মের এটি তৃতীয় সংশোধনী। তবে নিয়মগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি আকারে জারি হয়নি।

চটজলদি জেনে নিন

  • ট্রুকলারের মতো অ্যাপ এখন থেকে সরকারি-বাণিজ্যিক নম্বর সিরিজ ব্লক বা ট্যাগ করতে পারবে না।
  • স্প্যাম রিপোর্ট এখন টেলিকম কোম্পানির যৌথ DLT প্ল্যাটফর্মেও পাঠাতে হবে।
  • AI সন্দেহজনক নম্বর ধরলে মাত্র তিনটি অভিযোগেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
  • নিয়ম ভাঙলে ছয় ঘণ্টায় হেডার বন্ধ ও এক বছরের ব্ল্যাকলিস্ট হতে পারে।

স্প্যাম কল নিয়ম: অ্যাপের ওপর কী বিধিনিষেধ?

১৪০, ১৬০০ ও ১৬০১ দিয়ে শুরু হওয়া নম্বর সিরিজ বাণিজ্যিক ও সরকারি যোগাযোগের জন্য আলাদা করা। নতুন নিয়মে ট্রুকলারের মতো কল-ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ এই সিরিজের কল ট্যাগ, ব্লক বা ফিল্টার করতে পারবে না। তবে ব্যবহারকারী চাইলে নিজের ফোনে ওই কল ব্লক করতে পারবেন।

আরেকটি শর্ত আছে। অ্যাপে কেউ কোনও কলকে “স্প্যাম” বলে রিপোর্ট করলে সেই তথ্য টেলিকম কোম্পানিগুলোর DLT প্ল্যাটফর্মেও পাঠাতে হবে। DLT হলো কোম্পানিগুলোর যৌথ ডিজিটাল রেকর্ড-ব্যবস্থা। অর্থাৎ রিপোর্ট আর অ্যাপের ভেতরে আটকে থাকবে না।

AI ধরবে সন্দেহজনক নম্বর

মূল বদলগুলো এক নজরে:

  • AI শনাক্তকরণ: গ্রহণকারী টেলিকম কোম্পানি সন্দেহজনক নম্বর ধরলে দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রেরক কোম্পানিকে জানাবে।
  • কম অভিযোগেই ব্যবস্থা: আগে ১০ দিনে পাঁচটি অভিযোগ লাগত। এখন তিনটি অভিযোগ থাকলে এবং নম্বরটি AI-ও চিহ্নিত করলে পদক্ষেপ শুরু হতে পারে।
  • রোবোকল (A2P): সফটওয়্যার-চালিত স্বয়ংক্রিয় কলকে A2P বলে। আগে থেকে না জানালে সেটি স্প্যাম ধরা হবে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে মিনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ পয়সা চার্জও বসতে পারে।
  • কড়া শাস্তি: অপব্যবহার হওয়া হেডার বা টেমপ্লেট ছয় ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। দোষী টেলিমার্কেটারের এক বছরের জন্য সংযোগ কাটা ও ব্ল্যাকলিস্ট।

একই প্রেরকের পাঁচটি বা তার বেশি নম্বর ১০ দিনে চিহ্নিত হলে পরিচয়ের নথি (KYC) আবার যাচাই হবে। অপব্যবহার চলতে থাকলে সংযোগ কাটা যাবে। তবে শুধু AI-এর ফ্ল্যাগ দেখে সরাসরি শাস্তি হবে না, ওটা তদন্তের সূত্র হিসেবে কাজ করবে।

অভিযোগ বন্ধ হয়ে গেলে আপিল

ট্রাইয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে রেজিস্টার্ড টেলিমার্কেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশ “অবৈধ” বলে বন্ধ করেছে অপারেটররা। এই স্প্যাম কল নিয়ম অনুযায়ী অসন্তুষ্ট হলে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। মাধ্যম হলো ট্রাইয়ের DND অ্যাপ, অপারেটরের অ্যাপ বা পোর্টাল, অথবা ১৯০৯ নম্বর। টেলিকম কোম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে।

ব্যবসার জন্যও কিছু নিয়ম আছে। আগের সম্মতি নথিভুক্ত করা যাবে, তবে তা যাচাইযোগ্য হতে হবে। গ্রাহকের জিজ্ঞাসার ভিত্তিতে প্রচারমূলক ফলো-আপ চলবে মাত্র সাত দিন।

কবে থেকে চালু হবে স্প্যাম কল নিয়ম?

বিজ্ঞপ্তি জারির পর ধাপে ধাপে কার্যকর হবে:

  • ৩০ দিন: AI শনাক্তকরণ, A2P ঘোষণা, অ্যাপের বিধিনিষেধ ও আপিল ব্যবস্থা
  • ৬০ দিন: A2P চার্জ
  • ৯০ দিন: তিন অভিযোগের নতুন সীমা

 

নিয়ম কাগজে কড়া হলেও আসল পরীক্ষা মাঠে। AI ভুল করে বৈধ কল আটকাচ্ছে কি না, সেটাই নজরে রাখবে নীতি-বিশ্লেষকরা। তাই নতুন স্প্যাম কল নিয়ম কতটা কাজ করে, তা বোঝা যাবে আগামী কয়েক মাসে। ট্রাইয়ের মূল প্রেস বিজ্ঞপ্তি এখানে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ