Uncategorized

এআই ও রোবট ল্যাবঃ কীভাবে বদলে যাচ্ছে নতুন আবিষ্কারের সংজ্ঞা?

একটা নতুন উপাদান ধারণা থেকে বাজারের পণ্য হতে অনেক সময় ১০ বছরেরও বেশি লাগে। দেরির বড় কারণ হাতে-কলমে বারবার পরীক্ষা। এখন নতুন পদার্থ আবিষ্কার-এর এই ধীর পথে ঢুকেছে দুই প্রযুক্তি। একটি মেশিন লার্নিং, যা কম্পিউটারে সম্ভাব্য যৌগ খুঁজে দেয়। অন্যটি রোবটিক ল্যাব, যেখানে প্রায় মানুষ ছাড়াই পরীক্ষা চলে।

চটজলদি জেনে নিন

  • রেসিপি ছাড়া রামেন: সমস্যাটা কোথায়?
  • ফুজিৎসুর একটা উপমা বেশ মজার।
  • ভাবুন, এক দোকানির রামেনের স্বাদ অসাধারণ, কিন্তু রেসিপি কোথাও লেখা নেই।
  • তাপমাত্রা বা নাড়ার ধরন একটু বদলালেই স্বাদ আলাদা হয়ে যায়।

রেসিপি ছাড়া রামেন: সমস্যাটা কোথায়?

ফুজিৎসুর একটা উপমা বেশ মজার। ভাবুন, এক দোকানির রামেনের স্বাদ অসাধারণ, কিন্তু রেসিপি কোথাও লেখা নেই। তাপমাত্রা বা নাড়ার ধরন একটু বদলালেই স্বাদ আলাদা হয়ে যায়। পদার্থ তৈরির জগতেও অনেক সাফল্য আসে অভিজ্ঞ গবেষকের আন্দাজ থেকে, যার কারণ কেউ ব্যাখ্যা করতে পারে না। তাই ফুজিৎসু বলছে, ডেটা আর এআই-নির্ভর মেটেরিয়ালস ইনফরমেটিক্সের মাধ্যমে আন্দাজ ছেড়ে নীতি-নির্ভর পথে হাঁটতে হবে।

নতুন পদার্থ আবিষ্কার এখন কীভাবে চলছে?

  • গুগল ডিপমাইন্ডের GNoME: প্রায় ২২ লাখ স্ফটিক কাঠামো (পরমাণু সাজানোর ধরন) শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার স্থিতিশীল হতে পারে বলে ধারণা।
  • মাইক্রোসফটের MatterGen: চাওয়া বৈশিষ্ট্য দিলে সেই অনুযায়ী স্ফটিকের নকশা বানায়।
  • বার্কলের A-Lab: রোবট নিজেই পদার্থ বানায় ও ফল বিশ্লেষণ করে। ব্যর্থ হলে পরের চেষ্টার পথও বদলে নেয়।
  • লিভারপুলের রোবট রসায়নবিদ: আট দিনে ৬৮৮টি পরীক্ষা চালিয়েছে।
  • বার্লিনের Dunia Innovations: ২,৫০০-এর বেশি পরীক্ষা করে সুপারক্যাপাসিটরের সেরা ফর্মুলায় ক্যাপাসিট্যান্স (চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা) ৪৫% বাড়ানোর দাবি করেছে।

উচ্ছ্বাসে লাগাম

২০২৩ সালে বলা হয়েছিল, A-Lab ১৭ দিনে কয়েক ডজন নতুন যৌগ বানিয়েছে। পরে দুটি স্বাধীন বিশ্লেষণ সেই “নতুনত্ব” নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৬-এর জানুয়ারিতে Nature একটি সংশোধনী ছাপে। গবেষকরা মেনে নেন, তাঁদের দাবি ভুলভাবে বোঝার সুযোগ ছিল। “নতুন” বলতে তাঁরা বুঝিয়েছিলেন প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্মের কাছে নতুন, বিজ্ঞানের কাছে নয়। হাতে-কলমে পুনর্বিশ্লেষণে ৪০টি সাফল্যের ৩৬টির সিদ্ধান্ত সঠিক মিলেছে, বাকি চারটি অমীমাংসিত। অর্থাৎ নতুন পদার্থ আবিষ্কারের এই পদ্ধতি বাতিল হয়নি, শুধু আরও প্রমাণ দরকার।

এরপর কী?

লক্ষ্য এখন শুধু অটোমেশন নয়, স্বায়ত্তশাসন। অর্থাৎ এআই ছবি, লেখা আর সংখ্যা মিলিয়ে নিজেই বুঝবে পরীক্ষার ফল কী বলছে। বিনিয়োগও আসছে। ২০২৫ সালে Periodic Labs ৩০ কোটি ডলার সিড ফান্ডিং নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, আর Lila Sciences তুলেছে ৫৫ কোটি ডলার। A-Lab-এর মূল বিজ্ঞানী জেরব্র্যান্ড সেডার (Gerbrand Ceder) MIT Technology Review-কে জানিয়েছেন, শুধু সলিড-স্টেট ব্যাটারি নিয়েই প্রতিদিন প্রায় ৫০টি গবেষণাপত্র ছাপা হয়।

 

নতুন পদার্থ আবিষ্কার সত্যিই দ্রুত হয়েছে। এবার দেখার বিষয়, এই গতি কি আরও ভালো ব্যাটারি ইলেকট্রোড বা উচ্চ-তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টর এনে দেবে? সেই উত্তর মিলবে ল্যাবেই।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ