টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ভারতের এআই ভবিষ্যৎ কেন নিজের হাতে থাকা জরুরি, কী বললেন মনীশ রঞ্জন?

ভারত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ডেটা তৈরি করে, অথচ সেই ডেটায় গড়া বুদ্ধিমত্তার মালিকানা প্রায় নেই। মনীশ রঞ্জনের প্রশ্ন: সুইচটা কার হাতে? উত্তর খুঁজতে হলে আগে বুঝতে হবে সার্বভৌম এআই কী।

বুদ্ধিমত্তাই নতুন শস্য। কিছুটা আমদানি করা যায়, সবটা নয়।

মনীশ রঞ্জন, লেখক

চটজলদি জেনে নিন

  • ভাড়ার প্রযুক্তি কেন ঝুঁকির ২০২৫-এর জানুয়ারিতে আমেরিকার একটি নতুন নিয়ম উন্নত এআই চিপ কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বকে তিন স্তরে ভাগ করে।
  • ভারত পড়ে মাঝের স্তরে, অর্থাৎ কেনার সীমা নিয়ে।
  • কয়েক মাসের মধ্যে নিয়মটি প্রত্যাহার হয়, কার্যকর হয়নি।
  • তবু শিক্ষা একটাই: যা ভাড়া নেওয়া, তার সরবরাহ আটকে দেওয়া যায়।

ভাড়ার প্রযুক্তি কেন ঝুঁকির

২০২৫-এর জানুয়ারিতে আমেরিকার একটি নতুন নিয়ম উন্নত এআই চিপ কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বকে তিন স্তরে ভাগ করে। ভারত পড়ে মাঝের স্তরে, অর্থাৎ কেনার সীমা নিয়ে। কয়েক মাসের মধ্যে নিয়মটি প্রত্যাহার হয়, কার্যকর হয়নি। তবু শিক্ষা একটাই: যা ভাড়া নেওয়া, তার সরবরাহ আটকে দেওয়া যায়।

সার্বভৌম এআই মানে বিদেশি প্রযুক্তি বর্জন নয়। বরং যা বন্ধ হলে দেশই থমকে যাবে, সেই ভাষার মডেল, মানুষের ডেটা, কম্পিউটার আর ভবিষ্যতের চিপে নির্ভরতা কমানো।

ডেটা, ভাষা আর সংস্কৃতির হিসাব

  • ডেটার ফসল আমাদের, কল অন্যের: বিশ্বের ডেটা সেন্টার ক্ষমতার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ ভারতে।
  • ভাষার বাড়তি খরচ: অক্সফোর্ডের এক গবেষণা অনুযায়ী কিছু ভাষায় একই বাক্যে ইংরেজির চেয়ে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেশি প্রক্রিয়াকরণ লাগে। ভারতীয় ভাষা এর মধ্যে পড়ে, তাই ওড়িয়ায় প্রশ্ন করা কৃষককে বেশি খরচ ও বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে।
  • সংস্কৃতির মালিকানা: হাজারিবাগের সোহরাই ও খোভর চিত্রকলা জিআই-সুরক্ষিত। তবু এআই সেকেন্ডে “উপজাতি-ধাঁচের” ছবি বানায়, আসল শিল্পীরা কিছুই পান না।

সার্বভৌম এআই: দেশে কী শুরু হয়েছে

২০২৫-এর মে মাসে আইআইটিএম পুনের তৈরি ভারত ফোরকাস্ট সিস্টেম চালু হয়। এটি ৬ কিমি গ্রিডে পূর্বাভাস দেয়, যেখানে ইউরোপ, ব্রিটেন ও আমেরিকার শীর্ষ মডেল ৯ থেকে ১৪ কিমির। ইন্ডিয়াএআই মিশনের অধীনে ১২টি ভারতীয় দল নিজস্ব ফাউন্ডেশন মডেল বানাচ্ছে। গুজরাটে তিনটি চিপ অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং কারখানায় এ বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে, তবে প্রথম ওয়েফার ফ্যাব ২০২৮-এর আগে নয়।

অন্য দেশ, অন্য শিক্ষা

প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের সুইজারল্যান্ড ১,০০০-র বেশি ভাষায় প্রশিক্ষিত নিজস্ব ওপেন মডেল “অ্যাপার্টাস” বানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৫-এ পাঁচটি জাতীয় দল বেছেছে। আবার ১৯৮০-র দশকে জাপানের সরকার-নকশা করা ফিফথ-জেনারেশন প্রকল্প সস্তা সাধারণ যন্ত্রের কাছে হেরে যায়। অর্থাৎ সরকার প্রযুক্তি বেছে দিলে ব্যর্থতা, জনভিত্তি গড়ে প্রতিযোগিতা হতে দিলে সাফল্য।

সার্বভৌম এআই-এর চার ভিত

  • দেশের মাটিতে ডেটা সেন্টার
  • ২২টি তফসিলি ভাষায় সম্মতিভিত্তিক ভাষা-ডেটা ভাণ্ডার
  • সরকার হবে ধৈর্যশীল প্রথম ক্রেতা, যেমন ইসরোর অর্ডারে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা বেড়েছে
  • ভারতীয় বেঞ্চমার্ক: সরকারি দপ্তরে ঢোকার আগে মডেলকে প্রমাণ করতে হবে সে আমাদের ভাষা বোঝে

সবচেয়ে কঠিন অংশ গবেষণা। ভারত গবেষণায় জিডিপির ১ শতাংশেরও কম খরচ করে; চীন প্রায় ২.৪ ও আমেরিকা প্রায় ৩.৫ শতাংশ।

 

১৯৬০-এর দশকে বিদেশি গমের ওপর নির্ভরতা কী কষ্টের, তা শিখিয়েছিল; উত্তর এসেছিল সবুজ বিপ্লবে। এখন বুদ্ধিমত্তাই নতুন শস্য। কিছুটা আমদানি করা যায়, সবটা নয়। সার্বভৌম এআই-ই তাই ভারতের এআই ভবিষ্যতের রক্ষাকবচ।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ