টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

সিজিআই বনাম এআই: কেন প্রতিটি ফ্রেমে ‘এআই’ খুঁজছেন দর্শক?

সিজিআই বনাম এআই, এই দুইয়ের তফাত না বুঝেই কি দর্শক এখন প্রতিটি ছবির ভিজ্যুয়াল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? জাতীয় পুরস্কারজয়ী ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ সিবি অরুণ কুমারের মতে, হ্যাঁ। ‘রামায়ণ’, ‘জেলার ২’ আর ‘দাদা’র প্রচারমূলক ভিডিও ও পোস্টার নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই বিভ্রান্তিরই প্রতিফলন।

অরুণ কুমার পার্ল একাডেমির কমিউনিকেশন, ফিল্ম ও গেমিং বিভাগের ডিন। অ্যানিমেশন ও ভিএফএক্সে তাঁর কাজের বয়স প্রায় ৩০ বছর।

বিতর্কটা আসলে কী নিয়ে?

‘রামায়ণ’, ‘জেলার ২’ ও ‘দাদা’র নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা প্রচারের ভিডিও আর পোস্টারে এআই ব্যবহার করেছেন। অরুণের মতে, আজকের ডিজিটাল ছবি আসলে কীভাবে তৈরি হয়, তা নিয়ে দর্শকের বিভ্রান্তি বাড়ছে।

সিজিআই বনাম এআই: তিনটি শব্দ, তিন রকম মানে

  • সিজিআই: কম্পিউটারে তৈরি ছবি বা দৃশ্য।
  • ভিএফএক্স কম্পোজিটিং: আলাদা আলাদা শট ও ডিজিটাল উপাদান জুড়ে একটি ফ্রেম বানানো।
  • জেনারেটিভ এআই: নির্দেশ দিলে যে প্রযুক্তি নিজে ছবি বা ভিডিও তৈরি করে।

অরুণ বলছেন, এই তিনটি একে অপরের প্রতিশব্দ নয়। অদ্ভুত দেখতে কোনো দৃশ্য, অবাস্তব ছবি বা অতি-বাস্তব চেহারা মানেই এআই, এমন নয়।

কেন এখন প্রতি ফ্রেমে ভুল খোঁজা হচ্ছে?

অরুণ মনে করিয়ে দেন, তিনি যখন কাজ শুরু করেন, তখন দেশে ছিল মাত্র একটি টিভি চ্যানেল। সিনেমা দেখতে হতো হলে বা ব্যক্তিগত স্ক্রিনিংয়ে। সমালোচনা করতেন হাতে গোনা কয়েকজন, যাঁদের কাছে সংবাদপত্র ও পত্রিকার মতো মাধ্যম ছিল। পরে এল টিভি চ্যানেল, ভিএইচএস, ভিসিডি ও ডিভিডি। ২০০০-এর দশকে অনলাইনে সিনেমা পাইরেসি ছড়িয়ে পড়ল। সবার হাতে কনটেন্ট এল, আর সবাই হয়ে উঠলেন সমালোচক।

গত তিন বছরে এআইয়ের ব্যাপক ব্যবহার, তাঁর ভাষায়, হিমশৈলের চূড়া মাত্র। এখন সবাই প্রতিটি ফ্রেম ধরে খুঁটিয়ে দেখেন।

তিনি আরও বলেন, ট্রেলারের মতো প্রচারের উপকরণ বানানোর সময় মার্কেটিং টিম প্রায়ই এআই দিয়ে এমন কিছু উপাদান বাড়িয়ে দেয়, যা হয়তো ছবিতেই নেই। দর্শক সেটা বোঝেন না।

দায় কার, সমাধান কী?

অরুণের মতে, ‘এটা এআই’ বলাটা এখন অপছন্দের যেকোনো ভিজ্যুয়ালের সুবিধাজনক তকমা হয়ে উঠছে। এতে অবিচার হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ভিএফএক্স শিল্পীদের প্রতি, আবার সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে এআই নিয়ে কাজ করা নির্মাতাদের প্রতিও।

তাঁর পরামর্শ, নির্মাতাদের নিজেদের কাজের পদ্ধতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ হতে হবে। পর্দার আড়ালের পরিশ্রম দেখালে দর্শকের আস্থা বাড়বে। দর্শকের অবিশ্বাস এতটাই বেশি যে ক্রিস্টোফার নোলানকেও ‘ওডিসি’র মতো ছবিতে প্রমাণ করতে হচ্ছে, তাঁর কাজ ভিএফএক্স ছাড়াই পুরোপুরি বাস্তব।

 

সিজিআই বনাম এআই বিতর্কে অরুণ কুমারের জোর স্পষ্টতা আর স্বচ্ছতার ওপর। কোনটা সিজিআই, কোনটা ভিএফএক্স, আর কোনটা সত্যিই এআই, তা না বুঝে ‘এআই’ তকমা দিলে শিল্পীরা অন্যায়ের শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ