টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

এআই ডায়াগনসিস টুল: ডাক্তারের মতো ধাপে ধাপে রোগ ধরছে মাইক্রোসফটের এআই

রোগী ডাক্তারের কাছে গেলে কী হয়? আগে প্রশ্ন, তারপর পরীক্ষা, তারপর রিপোর্ট দেখে সিদ্ধান্ত। মাইক্রোসফটের গবেষকরা ঠিক এই পথেই চলা একটি এআই ডায়াগনসিস টুল বানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জটিল কেসে এটি সাধারণ চিকিৎসকদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি নির্ভুল। ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

চটজলদি জেনে নিন

  • কীভাবে কাজ করে এই এআই ডায়াগনসিস টুল?
  • এর মূল ভরসা একটি "অর্কেস্ট্রেটর"।
  • সহজ ভাষায়, এটি একটি সমন্বয়কারী ব্যবস্থা।
  • এটি কাজটাকে ভাগ করে দেয় এবং ঠিক করে কখন কী করতে হবে।

কীভাবে কাজ করে এই এআই ডায়াগনসিস টুল?

এর মূল ভরসা একটি “অর্কেস্ট্রেটর”। সহজ ভাষায়, এটি একটি সমন্বয়কারী ব্যবস্থা। এটি কাজটাকে ভাগ করে দেয় এবং ঠিক করে কখন কী করতে হবে। কাজ করে একটি কাল্পনিক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতো, যেখানে সবাই মিলে রোগ নির্ণয়ের ধাঁধা মেলায়।

এআই মডেলটি যা করে:

  • প্রথমে রোগীর ইতিহাস থেকে কী জিজ্ঞেস করতে হবে, তা ঠিক করে
  • শারীরিক পরীক্ষায় কোন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা বেছে নেয়
  • কোন টেস্ট করাতে হবে, তা নির্ধারণ করে
  • ফল দেখে প্রয়োজনে আরও টেস্টের নির্দেশ দেয়
  • পুরো সময় ধরে নিজের অনুমান ও পরিকল্পনা বদলাতে থাকে

পুরোনো মেডিক্যাল এআই থেকে আলাদা কোথায়?

বেশিরভাগ বর্তমান মেডিক্যাল এআই “সব একসাথে” পদ্ধতিতে চলে। উপসর্গ, ল্যাব রিপোর্ট আর ইমেজিংয়ের ফল একসঙ্গে দেখে একবারেই রোগ নির্ণয় করে ফেলে। এই এআই ডায়াগনসিস টুল তা করে না। বাস্তবে ডাক্তাররা যেমন এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে এগোন, এটিও তেমনই।

পরীক্ষায় কী দেখা গেল?

গবেষকরা ৩০০টিরও বেশি অস্বাভাবিক ও ধোঁয়াশাপূর্ণ কেসে মডেলটিকে পরীক্ষা করেন। রোগীকে “ওয়ার্ক-আপ” করে রোগ ধরতে এটি ছিল সাধারণ চিকিৎসকদের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি নির্ভুল। চিকিৎসকরা অবশ্য বই ও ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে পেরেছিলেন। জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় ডেটাবেস থেকে নেওয়া পরিস্থিতিতেও এটি মানুষ চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে গেছে। আরেকটি তথ্য হলো, অর্কেস্ট্রেটর পরিকল্পনা করলে রোগ নির্ণয়ের খরচও কম পড়ে।

বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল কতটা?

গবেষকদের মতে, এআই মডেলের মূল্যায়নে সাধারণত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ব্যবহার করা হয়। মাইক্রোসফট এআইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. ডমিনিক কিং বলেন, এআই সেসব প্রশ্নে এখন শতভাগ নম্বর পায়। কিন্তু তাঁর কথায়, “সেটা তো বাস্তব নয়। কোনো রোগী আমার কাছে সুন্দর করে সাজানো সারাংশ নিয়ে আসেননি।”

মাইক্রোসফট এআই হেলথের এআই প্রধান হর্ষা নোরি জানান, তাঁরা শুধু নির্ভুলতা মাপছেন না। রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াটি কতটা বিচক্ষণ ও সতর্কভাবে এগোচ্ছে, সেটাও দেখছেন।

এরপর কী?

 

বোস্টনের বেথ ইসরায়েল ডিকনেস মেডিক্যাল সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষকরা এবার জরুরি বিভাগের ওয়েটিং রুমে রোগীদের অগ্রাধিকার ঠিক করার (ট্রায়াজ) কাজে এই এআই ডায়াগনসিস টুল পরীক্ষা করবেন।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ