এআই-এর পেটে বিরল বই: খাঁটি ডেটার খোঁজে জ্ঞান ধ্বংসের খেলা

টেকনোলজি এবং ডেটার দুনিয়ায় এখন এক অভূতপূর্ব সংকট তৈরি হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মডেলগুলোকে নিখুঁত প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বহুজাতিক এআই সংস্থাগুলো কিনে নিচ্ছে হাজার হাজার বিরল ও প্রাচীন বই। ৪০৪ মিডিয়া (404 Media)-র সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—’ISBNdb’-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখে এবং গোপনীয়তার চুক্তি (NDA) সই করে এক একটি অর্ডারে প্রায় ১০ লাখ পর্যন্ত বই কেনা হচ্ছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ২০২২ সালের আগের লেখা বইগুলোর দাম চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। কারণ, ২০২২ সালের পরের ইন্টারনেট স্পেস এআই-জেনারেটেড কনটেন্টে ছেয়ে গেছে। ফলে মডেল ট্রেইনিংয়ের জন্য এআই সংস্থাগুলোর এখন দরকার এমন ডেটা, যা সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিমতা-মুক্ত এবং খাঁটি মানব মস্তিষ্কের সৃষ্টি।

এআই-এর পেটে বিরল বই: খাঁটি ডেটার খোঁজে জ্ঞান ধ্বংসের খেলা

Disclaimer: Images made with AI.

তবে এই ডেটা সংগ্রহের কৌশল বিতর্ক বাড়িয়েছে। উচ্চ গতিতে স্ক্যান করার জন্য বইগুলোর বাঁধাই বা স্পাইন কেটে ফেলা হচ্ছে এবং স্ক্যান শেষেই বাকি অংশ শ্রেডারে ফেলে চিরতরে ধ্বংস করা হচ্ছে। যদিও ‘Treventus ScanRobot’-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে যা বইয়ের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে ঘণ্টায় ২,৫০০ পৃষ্ঠা ডিজিটাল করতে পারে, কিন্তু শিল্প স্তরে খরচ কমাতে এই যান্ত্রিক ধ্বংসলীলাই বেছে নেওয়া হচ্ছে।

বিপণন ও ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্টদের জন্য ৩টি বড় শিক্ষা

  • হিউম্যান অরিজিনালিটির প্রিমিয়াম মূল্য: ২০২২-পূর্ববর্তী কনটেন্টের চাহিদা প্রমাণ করে যে এআই-এর যুগে মানবিক মৌলিকতার মূল্য কমেনি, বরং বেড়েছে। মার্কেটারদের নিজেদের কনটেন্ট স্ট্র্যাটেজিতে ‘হিউম্যান টাচ’ বজায় রাখা জরুরি।
  • ব্র্যান্ড এথিক্স পাবলিক ট্রাস্ট: গ্রাহকরা আজকাল প্রযুক্তির পাশাপাশি ব্র্যান্ডের নৈতিকতাও লক্ষ্য করে। এআই ট্রেইনিংয়ের নামে ঐতিহাসিক জ্ঞান বা বই ধ্বংস করার খবর প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলোর সুনামে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
  • কনটেন্ট স্যাচুরেশনের সমাধান: ভবিষ্যতে যখন ইন্টারনেট জুড়ে কৃত্রিম কনটেন্টের জয়জয়কার হবে, তখন যে ব্র্যান্ড খাঁটি, গবেষণাধর্মী ও মৌলিক কনটেন্ট পরিবেশন করবে, তারাই গ্রাহকের মন জয় করবে।

জ্ঞানার্জনের তাগিদে ঐতিহ্যের এই বিনাশ কি এআই প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে? মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং জগতে এই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।