টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

মেটার নতুন মিউজ এআই এজেন্ট: ইমেইল-পেমেন্ট সামলাবে এআই, কিন্তু ভরসা করা যাবে তো?

প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন হইচই ফেলে দিয়েছে মেটা মিউজ এআই এজেন্ট। সংস্থার সিইও মার্ক জাকারবার্গ নিজে ইনস্টাগ্রামে ঘোষণা করেছেন এই এআই এজেন্টের কথা, যা শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না—বরং আপনার হয়ে সত্যিকারের কাজ করে দেয়। মেটার নিজস্ব "মিউজ স্পার্ক" মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি এই এআই এজেন্ট আপাতত আমেরিকায় চালু হয়েছে, আইওএস-অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাচ্ছে।

এজেন্টটি একটি সম্পূর্ণ পৃথক ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর প্রকৃত পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের বিস্তারিত তথ্য এটি কখনও দেখতে পায় না, আর স্পর্শকাতর কোনো কাজ করার আগে অনুমতি চেয়ে নেয়।

আলেক্সান্দর ওয়াং, চিফ এআই অফিসার, মেটা

Quick Take

  • মেটার নতুন মিউজ এআই এজেন্ট নিজে থেকেই ইমেইল পাঠাতে, ট্রিপ বুক করতে এবং কেনাকাটা করতে পারে।
  • এটি ইমেইল, পেমেন্ট, স্বাস্থ্য অ্যাপ এমনকি স্মার্ট হোম ডিভাইসের সাথেও যুক্ত থাকে।
  • মেটার দাবি, একটি সুরক্ষিত ভিএম এবং সেন্টিনেল সিস্টেম পাসওয়ার্ড ও কার্ডের তথ্য গোপন রাখে।
  • অতীতের গোপনীয়তা সংক্রান্ত জরিমানা এবং সাম্প্রতিক ১৮০০ কোটি ডলারের নিষ্পত্তি মেটার প্রতি আস্থা নিয়ে সংশয় বাড়িয়ে তুলছে।

মিউজ আসলে কী কী করতে পারে?

এতদিন চ্যাটবটকে প্রশ্ন করলে উত্তর মিলত। কিন্তু এই এআই এজেন্ট একধাপ এগিয়ে—সরাসরি কাজ সম্পন্ন করে। যেমন:

  • ইমেইল লেখা ও পাঠানো
  • ভ্রমণের টিকিট বুক করা
  • অনলাইন ফর্ম পূরণ করা
  • বিল নিয়ে দরকষাকষি করা
  • রেসিপি রিল দেখে বাজারের লিস্ট বানানো
  • এমনকি নিজে থেকে কেনাকাটা করা

শুধু বিনামূল্যে নয়, দীর্ঘ ও জটিল কাজের জন্য মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানও রেখেছে মেটা। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই মেটার এআই গ্লাসেও এই সুবিধা যুক্ত হবে।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে মেটার দাবি কী?

এই এআই এজেন্ট কাজ করতে গিয়ে ইমেইল, ক্যালেন্ডার, পেমেন্ট অ্যাপ, স্বাস্থ্য-ফিটনেস অ্যাপ এমনকি স্মার্ট হোম ডিভাইসের সঙ্গেও যুক্ত হয়—অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব কটি অ্যাপেই এর প্রবেশাধিকার থাকছে। স্বাভাবিকভাবেই এখানেই উঠছে ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে প্রশ্ন।

মেটার দাবি, মিউজ আলাদা একটি সুরক্ষিত ভার্চুয়াল মেশিনে (Muse Secure VM) কাজ করে, যার ওপর নজরদারি চালায় “সেন্টিনেল” নামের আলাদা একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোম্পানির ভাষ্য—এই এজেন্ট সরাসরি পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য দেখতেই পায় না; কেনাকাটার সময় স্ট্রাইপের “লিংক” ব্যবহার করে একবার-ব্যবহারযোগ্য কার্ড নম্বর তৈরি হয়। এমনকি ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথন মেটার বিজ্ঞাপন সিস্টেমে শেয়ার করা হয় না বলেও জানানো হয়েছে।

তাহলে আস্থার প্রশ্ন কেন উঠছে?

সমস্যা একটাই—মেটার অতীত ইতিহাস। ২০১১ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে প্রাইভেসি লঙ্ঘনের অভিযোগে সমঝোতা, ২০১৯ সালে রেকর্ড ৫০০ কোটি ডলার জরিমানা—এসব ঘটনা এখনও মানুষের স্মৃতিতে টাটকা। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই মিউজ চালুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই শিশুদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আমেরিকার ২৯টি রাজ্যের সঙ্গে ১৮০০ কোটি ডলারের বিশাল সমঝোতায় পৌঁছেছে মেটা।

 

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইমেইল, ক্যালেন্ডার আর ব্যাংক কার্ডের মতো স্পর্শকাতর তথ্যের চাবি সত্যিই কি মানুষ মেটার হাতে তুলে দেবে?

ADVERTISEMENT

Latest across all sections