মুকেশ আম্বানির নতুন পরিকল্পনা: পুরনো কম্পিউটারই হবে AI-ready PC
ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির কোম্পানি রিলায়েন্স জিও এবার সবার জন্য খুলে দিল তাদের ক্লাউড পিসি পরিষেবা JioPC। আগে এটা শুধু জিও ব্রডব্যান্ড গ্রাহকদের জন্য ছিল, কিন্তু এখন থেকে যেকোনো ইন্টারনেট ইউজার—আপনার টেলিকম বা ব্রডব্যান্ড অপারেটর যা-ই হোক না কেন—এই সাবস্ক্রিপশন নিতে পারবেন।
জিও তাদের JioPC-কে জিও-বহির্ভূত ব্যবহারকারীদের জন্যও খুলে দিয়ে নিজের ভ্যালু প্রোপোজিশন বাড়াচ্ছে, একইসঙ্গে চিরাচরিত হার্ডওয়্যার আপগ্রেড সাইকেলকেও চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
প্রভু রাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ গ্রুপ, সাইবারমিডিয়া রিসার্চ
চটজলদি জেনে নিন
- JioPC আসলে কী?
- সহজ ভাষায় বললে, JioPC হলো একটা ভার্চুয়াল কম্পিউটার—যেটা জিওর ক্লাউড থেকে সরাসরি আপনার পুরনো কম্পিউটারে স্ট্রিম হয়।
- মানে, নতুন হার্ডওয়্যার না কিনেও, ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে আপনার আট বছরের পুরনো কম্পিউটারও পেয়ে যাবে আধুনিক AI অ্যাপ চালানোর ক্ষমতা।
- এই পরিষেবায় থাকছে: সর্বোচ্চ ৮টি ভার্চুয়াল CPU ১৬ জিবি RAM পর্যন্ত ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ দাম কেমন?

JioPC আসলে কী?
সহজ ভাষায় বললে, JioPC হলো একটা ভার্চুয়াল কম্পিউটার—যেটা জিওর ক্লাউড থেকে সরাসরি আপনার পুরনো কম্পিউটারে স্ট্রিম হয়। মানে, নতুন হার্ডওয়্যার না কিনেও, ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে আপনার আট বছরের পুরনো কম্পিউটারও পেয়ে যাবে আধুনিক AI অ্যাপ চালানোর ক্ষমতা।
এই পরিষেবায় থাকছে:
- সর্বোচ্চ ৮টি ভার্চুয়াল CPU
- ১৬ জিবি RAM পর্যন্ত
- ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ
দাম কেমন? দুই মাসের প্ল্যান শুরু ₹১,০০০ (প্রায় ১১ ডলার) থেকে। ১২ মাসের সাবস্ক্রিপশনে ৮জিবি RAM ও ৫০০জিবি স্টোরেজের জন্য খরচ ₹৪,০০০, আর ১৬জিবি RAM ও ১টেরাবাইট স্টোরেজের প্যাকেজের জন্য ₹৫,০০০।
কেন এই পদক্ষেপ?
গবেষণা সংস্থা IDC-র হিসেবে, ২০২৫ সালে ভারতে প্রায় ৬৫ মিলিয়নের বেশি পিসি ব্যবহৃত হয়েছে, আর ২০২৬ সালের শেষে সেই সংখ্যা ৬৯ মিলিয়ন ছুঁতে পারে। কিন্তু মানুষ এখন কম্পিউটার বদলাচ্ছে আগের চেয়ে দেরিতে। IDC-র সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট ভরত শেনয় জানিয়েছেন, সাধারণ গ্রাহক ও ছোট ব্যবসাগুলো এখন প্রতি পাঁচ-ছয় বছরে পিসি বদলায়, যেখানে ২০২২ সালে এটা ছিল চার-পাঁচ বছর। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রিপ্লেসমেন্ট সাইকেল বেড়ে তিন থেকে চার বছর হয়েছে।
জিওর কৌশল স্পষ্ট—প্রসেসিং আর স্টোরেজের বেশিরভাগ কাজ ডিভাইস থেকে সরিয়ে তাদের ডেটা সেন্টারে নিয়ে গেলে, ব্যবহারকারীদের বারবার হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করতে হবে না।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
সাইবারমিডিয়া রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রভু রাম মনে করেন, JioPC ঐতিহ্যবাহী হার্ডওয়্যার আপগ্রেড সাইকেলকেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন যে এটা সাধারণ পিসির বিকল্প হবে না, বরং একটা আলাদা, সাশ্রয়ী বাজার তৈরি করবে—বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও যাদের জন্য নতুন AI-সক্ষম পিসি কেনা কখনোই সম্ভব ছিল না।
তবে চ্যালেঞ্জও আছে। ভারতীয়রা চিরকাল নিজের হার্ডওয়্যারের মালিকানা রাখতে পছন্দ করেছে, সাবস্ক্রিপশন মডেল নয়—এমনটাই মত শেনয়ের। JioPC-র জন্য স্থিতিশীল ইন্টারনেট আবশ্যক, তাই ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলে নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে পারে। রিফার্বিশড পিসিও এই কম দামের বাজারে প্রতিযোগী হিসেবে থাকছে।
আসল পরীক্ষা হবে, মানুষ ক্লাউড কম্পিউটিংকে রোজকার প্রয়োজন হিসেবে দেখে কি না, নাকি শুধু সাময়িক সমাধান হিসেবে—এই প্রশ্নই তুলেছেন প্রভু রাম।











