ব্র্যান্ড ও শিল্প (Brand & Industry)

মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার নিয়ে বিশাল পরিকল্পনা: ২০৩২ সালের মধ্যে ক্ষমতা তিনগুণেরও বেশি

মাইক্রোসফট তার মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক নিয়ে একেবারে বড় মাপের পরিকল্পনা করছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানিটি চাইছে ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের মোট ডেটা সেন্টার ক্ষমতা বর্তমান ১২ গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৩৮ গিগাওয়াটের বেশি করতে। মানে সহজ কথায়, এখনকার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি!

Quick Take

  • মাইক্রোসফট ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের ডেটা সেন্টার ক্ষমতা তিনগুণ বাড়িয়ে ৩৮ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
  • ক্লাউড ও এআই-এর চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় সম্প্রতি পরিষেবায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হয়েছে।
  • শুধু এআই চিপের ক্ষমতাই ২০৩২ সালের মধ্যে প্রায় ১২.৭ গিগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
  • গুগল, অ্যামাজন ও মেটার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা মোট ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

কেন এত বড় পরিকল্পনা?

গত কিছুদিন ধরে মাইক্রোসফটের ক্লাউড আর এআই সার্ভিসে ভয়াবহ চাপ পড়ছে। সার্ভার আর কম্পিউটিং পাওয়ারের অভাবে কোম্পানিকে বেশ কিছু গ্রাহকের কাজ ফিরিয়ে দিতে হয়েছে, কিছু সাবস্ক্রিপশনও সীমিত করতে হয়েছে। তাই এই মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ আসলে একটা সমাধান খোঁজার চেষ্টা।

এআই চিপের ভাগ বাড়বে

এখন মাইক্রোসফটের মোট ১২ গিগাওয়াট ক্ষমতার মধ্যে মাত্র প্রায় ২ গিগাওয়াট এআই চিপ-নির্ভর। কিন্তু ২০৩২ সালের মধ্যে পরিকল্পিত ৩৮ গিগাওয়াটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে থাকবে এআই চিপ, অর্থাৎ প্রায় ১২.৭ গিগাওয়াট। এর মানে হলো, সাধারণ ক্লাউড কম্পিউটিং এখনও প্রধান চাহিদা হলেও, আগামী দিনে এআই পরিকাঠামোর গুরুত্ব হু হু করে বাড়বে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে:

  • বর্তমান ক্ষমতা: প্রায় ১২ গিগাওয়াট
  • ২০৩২ সালের লক্ষ্য: ৩৮ গিগাওয়াটের বেশি
  • বর্তমানে এআই-নির্দিষ্ট ক্ষমতা: প্রায় ২ গিগাওয়াট
  • ২০৩২ সালে এআই-নির্দিষ্ট ক্ষমতার লক্ষ্য: মোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ
  • এই পরিকল্পনায় নিজস্ব ও লিজ নেওয়া, দুই ধরনের ডেটা সেন্টারই থাকছে
  • কোরউইভের মতো নিওক্লাউড প্রোভাইডার থেকে ভাড়া নেওয়া ক্ষমতা এই হিসাবে ধরা হয়নি

এত বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসবে?

এত বড় মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক চালাতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের দরকার হবে — অনেকটা নিউ ইয়র্ক রাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমান। মাইক্রোসফট আগেই জানিয়েছিল, ২০২০ সাল থেকে তারা ২৬টি দেশে ৪০ গিগাওয়াট রিনিউয়েবল এনার্জি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ১৯ গিগাওয়াট ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে।

খরচের হিসাব

এই ধরনের বিশাল ক্লাউড কম্পিউটিং পরিকাঠামো তৈরি সহজ কাজ নয়। গত অর্থবছরে মাইক্রোসফট ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বাবদ খরচ করেছে প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার। আগামী দিনে খরচ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আলফাবেট, অ্যামাজন আর মেটার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও একই পথে হাঁটছে, মিলিতভাবে যাদের বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

 

এই খবর এখনও অফিসিয়ালি নিশ্চিত করেনি মাইক্রোসফট, তবে সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে যে এই পরিকল্পনা বদলাতেও পারে, কারণ ডেটা সেন্টার তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। তবে এটা স্পষ্ট, এআই আর ক্লাউডের চাহিদা মেটাতে মাইক্রোসফট ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক সামনে আরও অনেক বড় হতে চলেছে।

ADVERTISEMENT

Latest across all sections