জাগৃতি নারী ক্ষমতায়ন: উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশের গ্রামগুলি লিখছে মেয়েদের নতুন গল্প
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার একটা ছোট্ট গ্রাম। এখানকার মেয়েরা এখন ড্রোন ওড়াচ্ছেন, গ্রাফিক ডিজাইন করছেন, এমনকি AI-এর ডেটা তৈরির কাজও করছেন। এটাই জাগৃতি নারী ক্ষমতায়ন প্রকল্পের আসল ছবি।
নারীদের নিয়ে এত গভীর ও ব্যাপক কোনো প্রোগ্রাম আর কোথাও পাবেন না। তাই আমরা সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামাই না—আমাদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবেই গভীর। ডিজিটাল-ব্যবসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া নারীদের আয় সম্মিলিতভাবে ৩৩-৩৫% বেড়েছে।
শিল্পী সিং, প্রধান, জাগৃতি উইমেন'স সেন্টার অব এক্সিলেন্স
Quick Take
- গল্পটা শুরু ১৯৯৯ সালে।
- শশী মণি ত্রিপাঠী লক্ষ্য করেন, গ্রামের অনেক মেয়ের হাতে সময় আছে, কিন্তু সেই সময় কাজে লাগানোর মতো সুযোগ নেই।
- সেখান থেকেই জন্ম নেয় জাগৃতি সেবা সংস্থান।
- পরে তাঁর ছেলে শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠী ২০০৮ সালে শুরু করেন জাগৃতি যাত্রা — ১৫ দিনের ৮,০০০ কিলোমিটার ট্রেন-যাত্রা, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৪৫০ জন…

গল্পটা শুরু ১৯৯৯ সালে। শশী মণি ত্রিপাঠী লক্ষ্য করেন, গ্রামের অনেক মেয়ের হাতে সময় আছে, কিন্তু সেই সময় কাজে লাগানোর মতো সুযোগ নেই। সেখান থেকেই জন্ম নেয় জাগৃতি সেবা সংস্থান। পরে তাঁর ছেলে শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠী ২০০৮ সালে শুরু করেন জাগৃতি যাত্রা — ১৫ দিনের ৮,০০০ কিলোমিটার ট্রেন-যাত্রা, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৪৫০ জন তরুণ পরিবর্তনকারী একসঙ্গে কাজ শেখেন।
টেকশক্তি: ডিজিটাল ব্যবসার হাতেখড়ি
২০২২ সালের নভেম্বরে শুরু হয় টেকশক্তি। এটা মূলত ডিজিটাল সাক্ষরতা, আর্থিক শিক্ষা আর উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণের মিশেল। প্রথমে জাগৃতি প্রায় ৩০টা ডিজিটাল ব্যবসার মডেল নিয়ে গবেষণা করে, তারপর সেরা ১৩টা বেছে ১০,০০০ নারীকে শেখায়। এর মধ্যে ছিল—
- সার্ভিস সেন্টার ও ডিজিটাল লাইব্রেরি
- ফটোগ্রাফি ও গ্রাফিক ডিজাইন
- টি-শার্ট প্রিন্টিং, আইটি কোচিং
- ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ও ড্রোন-ভিত্তিক সেবা
প্রথম ব্যাচে ৫৫ জন নারী এলেও বেশিরভাগ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারেননি। জাগৃতি সেখান থেকে শিখে দ্বিতীয় ব্যাচ ঢেলে সাজায়—৪২ জন নারী, যাদের মধ্যে ২২ জন সিসকো-সমর্থিত নতুন প্রোগ্রামে যোগ দেন। এ বছর ৫০ জন নারী ডিজিটাল ব্যবসায় নাম লিখিয়েছেন। জাগৃতির প্রোগ্রাম হেড শিল্পী সিং বলেন, “নারীদের নিয়ে এত গভীর ও ব্যাপক কোনো প্রোগ্রাম আর কোথাও পাবেন না। তাই আমরা সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামাই না—আমাদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবেই গভীর। ডিজিটাল-ব্যবসা প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া নারীদের আয় সম্মিলিতভাবে ৩৩-৩৫% বেড়েছে।”
গিগ ওয়ার্ক দিয়ে বাড়তি আয়
সবার পক্ষে পুরোদমে ব্যবসা চালানো সম্ভব হয় না, তাই জাগৃতি গিগ ওয়ার্ক-এর (ছোট মেয়াদের ফ্রিল্যান্স কাজ) দিকেও নজর দিচ্ছে। কার্যা-র সঙ্গে মিলে ভোজপুরি ভাষায় AI-প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির কাজ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১,০০০-১,২০০ নারীকে। প্রত্যেকে স্মার্টফোন দিয়ে কাজ করে আয় করেছেন প্রায় ২,০০০ টাকা পর্যন্ত, মোট প্রায় ১৮ লাখ টাকা যোগ হয়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
পরিবারের সমর্থনই আসল বাধা
শিল্পী সিং বলেন, “পরিবারের ভরসা বাইরে থেকে তৈরি করা যায় না, সেটা থাকলে আমরা শুধু জোরালো করতে পারি।” এ বছর জাগৃতি পরিবারগুলোর সঙ্গে জেন্ডার-সচেতনতামূলক কর্মশালাও শুরু করেছে।
ড্রোন দিদি সীমা গুপ্তার গল্প
দেওরিয়ার সীমা গুপ্তা, যাকে ডাকা হয় “ড্রোন দিদি”, এখন একটা সুগারমিলের সঙ্গে চুক্তি করে মাসে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করেন। বাড়তি ব্যাটারি পেয়ে তিনি একসঙ্গে ৬-৭ একর জমিতে স্প্রে করতে পারেন, যেখানে অন্যরা পারেন ২-৩ একর।
জাগৃতির লক্ষ্য আগামী ৫-১০ বছরে অন্তত ১০ লাখ নারীর জীবন বদলানো।
References











