eSARAS প্ল্যাটফর্মে ৯ কোটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নয়া মাইলফলক

ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করল গ্রামীণ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ই-সরস’ (eSARAS)। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের প্রায় ৯ কোটি (৮.৯৯ কোটি) স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) নারী শিল্পীকে সরাসরি মূলধারার জাতীয় বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব দূর করে গ্রামীণ হস্তশিল্প, তাঁত ও খাঁটি দেশীয় সামগ্রী সরাসরি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

eSARAS প্ল্যাটফর্মে ৯ কোটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার নয়া মাইলফলক

Disclaimer: Images made with AI.

মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের জন্য এই সংবাদ একটি বিশাল সম্ভাবনার নির্দেশক। এতদিন ভারতের যে ‘রুরাল ডিটুসি’ (Rural D2C) এবং এথনিক ক্লাস্টারগুলি বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল, ই-সরস সেগুলিকে সুসংগঠিত করে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ওএনডিসি (ONDC) নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হওয়ায় এই প্ল্যাটফর্মের ৮০০-রও বেশি পণ্য এখন একাধিক পপুলার অ্যাপের মাধ্যমে ২০ কোটিরও বেশি সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছে।

পণ্য বিক্রির পাশাপাশি এই উদ্যোগের মূল শক্তি লুকিয়ে রয়েছে এর আধুনিক লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন পরিকাঠামোয়। নতুন দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত ‘ই-সরস ফুলফিলমেন্ট সেন্টার’ প্যাকেজিং ও শিপিং সহজ করেছে। একই সাথে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারীদের দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল অনবোর্ডিং, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, ব্র্যান্ডিং, প্রাইসিং এবং কাস্টমার সার্ভিসের পেশাদার প্রশিক্ষণ। এর ফলে কর্পোরেট গিফটিং এবং প্রিমিয়াম কনজিউমার সেগমেন্টে প্রবেশের যোগ্য মানসম্মত পণ্য তৈরি হচ্ছে।

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারে ক্রেতারা কেবল পণ্য কেনেন না, তার পেছনের ‘স্টোরিটেলিং’ বা গল্প খোঁজেন। চান্দেরি শাড়ি বা কাশ্মীরি পশমিনার মতো খাঁটি ভারতীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক ব্র্যান্ডিং ও ই-কমার্সের সমন্বয়ে পরিবেশন করার এই মডেলটি নতুন বাণিজ্যিক কৌশলের পথ দেখাচ্ছে। গ্রামীণ ভারতের এই ডিজিটাল রূপান্তর মূলধারার ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের জন্য এক নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করল।