প্রাধান্য পাচ্ছে ‘ক্রিয়েটর-অ্যাফিলিয়েট’ মডেলঃ ইনফ্লুয়েন্সারদের মোটা ফি দেওয়ার দিন শেষ

শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় রিচ বা ‘লাইক-কমেন্ট’ কেনার জন্য কোটি কোটি টাকা ঢালার দিন কি তবে শেষের পথে? ভারতের অ্যাডভারটাইজিং ও ব্র্যান্ড মার্কেটিং জগতে এখন এমনই এক বড় পরিবর্তনের হাওয়া। কলকাতার ব্র্যান্ড ম্যানেজার ও ডিজিটাল মার্কেটারদের কাছে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক সতর্কবার্তা। সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বলছে, শুধুমাত্র ফ্যান-ফলোয়ার দেখে ইনফ্লুয়েন্সারদের সাথে মোটা টাকার ফিক্সড ফি-ভিত্তিক চুক্তি বা ‘আইবল রেন্ট’ করার মানসিকতা থেকে সরে আসছেন চতুর মার্কেটাররা। তার বদলে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে ‘ক্রিয়েটর-অ্যাফিলিয়েট’ (Creator-Affiliate) ব্যবসায়িক মডেল।

দীর্ঘদিন ধরে ব্র্যান্ডগুলো ভিউ বা এনগেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে ইনফ্লুয়েন্সারদের বড় অঙ্কের বাজেট দিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে সেই ক্যাম্পেইনগুলো থেকে কতটা আসল বিক্রি বা ‘কনভার্সন’ এসেছে, তার সঠিক হিসাব মেলানো ছিল দুষ্কর। ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলোয়ার বেশি থাকা মানেই ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকের অনুগত থাকা নয়। ফলে ইনফ্লুয়েন্সারদের বিশাল ফ্যানবেস থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেখান থেকে রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) আসছিল না।

ইনফ্লুয়েন্সারদের মোটা ফি দেওয়ার দিন শেষ, প্রাধান্য পাচ্ছে ‘ক্রিয়েটর-অ্যাফিলিয়েট’ মডেল

এই সমস্যার সমাধান নিয়ে এসেছে পারফর্ম্যান্স-ভিত্তিক অ্যাফিলিয়েট মডেল। নতুন এই ব্যবস্থার অধীনে, সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটররা কেবল প্রোডাক্টের প্রচারই করবেন না; বরং তাঁদের নির্দিষ্ট রেফারাল লিঙ্ক বা প্রোমো কোডের মাধ্যমে প্রকৃত বিক্রি কতটুকু হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা কমিশন বা ইনসেনটিভ পাবেন। এতে একদিকে যেমন ব্র্যান্ডের অহেতুক বাজেট নষ্ট বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রিয়েটররাও মানসম্পন্ন ও সত্যতা নির্ভর কনটেন্ট তৈরিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কলকাতা ভিত্তিক স্টার্টআপ থেকে শুরু করে দেশের প্রথম সারির এফএমসিজি (FMCG) ব্র্যান্ডগুলো এখন মাইক্রো এবং ন্যানো-ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। যাদের ফলোয়ার কম হলেও তাঁদের নিজস্ব অডিয়েন্সের সাথে যোগাযোগের গভীরতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি।

মার্কেটিং প্রধানদের একাংশের মতে, আগামী দিনে যারা শুধুমাত্র ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস নয়, বরং পরিমাপযোগ্য ফলাফল (Measurable Results) চান, তাঁদের জন্য পারফর্ম্যান্স-ড্রাইভেন অ্যাফিলিয়েট মডেলই হতে চলেছে একমাত্র পথ। এখন দেখার বিষয়, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ও উদীয়মান ব্র্যান্ডগুলো এই নতুন স্ট্র্যাটেজিকে কতটা দ্রুত নিজেদের মার্কেটিং প্ল্যানে বাস্তবায়িত করতে পারে।