১০,৩৭২ কোটির 'ইন্ডিয়া-এআই মিশন': সস্তা জিপিইউ আর নিজস্ব মডেলে নতুন দিগন্ত

দেশে এআই (AI) বিপ্লবের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ১.২৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০,৩৭২ কোটি টাকা) বাজেটের ইন্ডিয়া-এআই মিশন’ (IndiaAI Mission) নিয়ে বড় চাল চালল কেন্দ্র। নিজস্ব সরকারি ডাটা সেন্টার না বানিয়ে, জিও (Jio), টাটা (Tata), ইয়োট্টা (Yotta) এবং কন্ট্রোলএস (CtrlS)-এর মতো দেশের প্রথম সারির বেসরকারি ক্লাউড পার্টনারদের সাথে হাত মিলিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রায় ৩৮,০০০-এর বেশি প্রসেসিং জিপিইউ (GPU) অবিশ্বাস্য সস্তায়—মাত্র এক ডলার প্রতি ঘণ্টায়—ব্যবহার করতে পারবেন দেশীয় গবেষক ও স্টার্টআপরা।

১০,৩৭২ কোটির 'ইন্ডিয়া-এআই মিশন': সস্তা জিপিইউ আর নিজস্ব মডেলে নতুন দিগন্ত, কীভাবে বাজার মাতাবে ব্র্যান্ডগুলো?

মার্কেটিং দুনিয়া ও ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের জন্য এই খবর নিশ্চিতভাবেই এক বিরাট গেম-চেঞ্জার! এতদিন ভারী জিপিইউ ক্লাউডের চড়া খরচের ভয়ে অনেক ভারতীয় ব্র্যান্ড বা মারটেক (MarTech) স্টার্টআপ জেনারেটিভ এআই (GenAI) ভিত্তিক হাইপার-পার্সোনালাইজড ক্যাম্পেইন স্কেল করতে পারত না। সরকার এই প্রসেসিং খরচে বিরাট ভর্তুকি দেওয়ায়, এবার থেকে পকেট না কেটেই নিজস্ব অ্যালগরিদম ও ডিপ-লার্নিং মডেল ট্রেন করা সম্ভব হবে।

ব্র্যান্ড ম্যানেজারদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ লুকিয়ে রয়েছে ‘ভাষিণী’ (Bhashini) প্রজেক্ট ও ভারতের ২২টি আঞ্চলিক ভাষার সোভারেন ফাউন্ডেশন মডেলের মধ্যে। উত্তর থেকে দক্ষিণ বা কলকাতা থেকে কোচি—ভারতের বৈচিত্র্যময় গ্রাহক ভিত্তির কাছে পৌঁছাতে আঞ্চলিক ভাষায় ভয়েস এআই বোট, হাইপার-লোকাল ভিডিও বিজ্ঞাপন এবং রিয়েল-টাইম কনজিউমার বিহেভিয়ার অ্যানালিটিক্স চালানো এখন অনেকটাই সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। আমেরিকান বা চীনা ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় এআই পরিকাঠামোর সুবিধা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

যে সব ব্র্যান্ড ও এজেন্সি দ্রুত এই সরকারি ‘কম্পিউট ক্রেডিট’ এবং ‘অ্যাপ্লিকেশন-ফান্ড’-এর সুবিধা তুলে নেবে, কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স (CX) ও ক্যাম্পেইন রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের (ROI) বিচারে তারা প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।