পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

এআই আইন: কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে সরকারের পরামর্শপত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে এবার আইন তৈরির পথে হাঁটছে ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শুক্রবার জানান, এআই আইন নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি পরামর্শপত্র আনা হবে। এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

চটজলদি জেনে নিন

  • কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরামর্শপত্র
  • নাগরিক ও শিল্পমহলের মতামত নিয়েই তৈরি হবে এআই আইন
  • ২০২৮ সালের মধ্যে আসছে দেশীয় মোবাইল ও প্রথম মেড-ইন-ইন্ডিয়া চিপ
  • সেমিকন্ডাক্টরে ভারতকে বিশ্বের ডিজাইন হাব করতে চায় সরকার

কেন এখনই এআই আইন দরকার?

মন্ত্রীর মতে, এআইয়ের ঝুঁকি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে আইন ও নতুন নিয়মকানুন আনার সময় হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাঁর কথায়, শিল্পমহল খুব দ্রুত এআই গ্রহণ করেছে। তাই যাঁরা এআই ব্যবহার করেন, তাঁদের মতামতও নিতে চায় সরকার।

পরামর্শপত্র তৈরির কাজ চলছে। এতে মতামত নেওয়া হবে:

  • সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে
  • সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে
  • শিল্পমহলের কাছ থেকে

বৈষ্ণব আরও বলেন, বিশ্বের শীর্ষ তিন-চারটি এআই ইকোসিস্টেমে যে বড় সংস্থাগুলো আছে, তাদেরও এই প্রযুক্তির মৌলিক নীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা দরকার।

২০২৮ সালের মধ্যে দেশীয় মোবাইল ও চিপ

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে ভারতে ডিজাইন ও তৈরি, ভারতীয় ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন বাজারে আসবে। প্রথম মেড-ইন-ইন্ডিয়া চিপও ২০২৮ সালের মধ্যে প্রস্তুত হবে। দেশে মোবাইল উৎপাদন বাড়াতে ও দেশীয় ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিতে সরকার একটি প্রণোদনা প্রকল্পও এনেছে।

ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টরে কী বললেন?

বৈষ্ণব বলেন, ইলেকট্রনিক্স এখন ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। শিগগিরই এটি দ্বিতীয় স্থানে উঠবে বলে তাঁর আশা। কংগ্রেস সরকারগুলোর বিরুদ্ধে দশকের পর দশক ধরে উৎপাদনকে অবহেলার অভিযোগও তোলেন তিনি।

সেমিকন্ডাক্টর (কম্পিউটার ও মোবাইলের চিপ) নিয়েও তিনি জানান:

  • ইন্ডিয়া সেমিকন মিশন ১.০-এর অধীনে অনুমোদিত ১২টি কারখানা শিগগিরই চালু হবে
  • ষষ্ঠ কারখানার উদ্বোধনও খুব শিগগিরই হবে
  • দ্বিতীয় ধাপে লক্ষ্য, ভারতকে চিপ ডিজাইনের বিশ্বকেন্দ্র করে তোলা

তাঁর দাবি, বিশ্বের ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারদের প্রায় ২০ শতাংশ ভারতে আছেন। ৩০০-র বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীর বড় সরবরাহ-লাইনও তৈরি হয়েছে।

এরপর কী?

 

এআই আইনের খসড়ায় নাগরিক ও শিল্পমহলের মতামত কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পরামর্শপত্র প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে মতামত জানাতে পারবেন, তা-ও স্পষ্ট হবে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ