টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ভারতের ওষুধ আবিষ্কারে এআই: খরচ কমলেও হিউম্যান-ট্রায়াল কঠিন

ভারতের ওষুধ আবিষ্কার এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কাজে লাগিয়ে দেশের বিজ্ঞানী ও বায়োফার্মা সংস্থাগুলো সম্ভাবনাময় ওষুধ আগের চেয়ে দ্রুত ও কম খরচে খুঁজে বের করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এই দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ার একটা অংশই সামলাতে পারে।

এআই ওষুধ আবিষ্কারকে সহজ করেনি; একে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করেছে।

মেঘা গোয়াল, ওষুধ-আবিষ্কারক, বিজ্ঞানী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, অভিনবায়ন বায়োটেক

চটজলদি জেনে নিন

  • এক ডজনের দল, এক ডজনের বেশি প্রকল্প দিল্লির স্টার্টআপ পেপট্রিস-এর দলে মানুষ মাত্র ডজনখানেক।
  • অথচ তারা এআইয়ের সাহায্যে একসঙ্গে এক ডজনের বেশি ওষুধ-প্রকল্পে কাজ করছে।
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেঙ্কটসুব্রমণিয়ান নারায়ণন জানান, একটি প্রকল্প প্রায় ১৮ মাসে প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের শেষ দিকে পৌঁছেছে।
  • প্রচলিত পদ্ধতিতে লাগত চার বছরেরও বেশি।

এক ডজনের দল, এক ডজনের বেশি প্রকল্প

দিল্লির স্টার্টআপ পেপট্রিস-এর দলে মানুষ মাত্র ডজনখানেক। অথচ তারা এআইয়ের সাহায্যে একসঙ্গে এক ডজনের বেশি ওষুধ-প্রকল্পে কাজ করছে। সহ-প্রতিষ্ঠাতা বেঙ্কটসুব্রমণিয়ান নারায়ণন জানান, একটি প্রকল্প প্রায় ১৮ মাসে প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের শেষ দিকে পৌঁছেছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে লাগত চার বছরেরও বেশি। প্রি-ক্লিনিক্যাল মানে মানুষের ওপর পরীক্ষার আগের ধাপ।

সরকারও টাকা ঢালছে

এতদিন ভারত পরিচিত ছিল জেনেরিক ওষুধ, উৎপাদন আর বিদেশি সংস্থার হয়ে গবেষণার কাজে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বিশ্বে ব্যবহৃত প্রতি পাঁচটি জেনেরিক ওষুধের একটি ভারতের। সেপ্টেম্বরে ওষুধ বিভাগ ৪১টি গবেষণা প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,৬০০ কোটি রুপি (১৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে নতুন ওষুধ আবিষ্কারও আছে।

এআই ঠিক কোথায় কাজে লাগছে

অভিনবায়ন বায়োটেকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মেঘা গোয়ালের মতে, ল্যাবে নামার আগেই ছোট সংস্থাগুলো এআই দিয়ে এই কাজগুলো করছে:

  • ওষুধের সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করা
  • হাজারো যৌগ থেকে কার্যকরগুলো বাছাই করা
  • ওষুধের অণুর নকশা তৈরি করা

ভেনচার ক্যাপিটাল সংস্থা স্পেশিয়ালে ইনভেস্টের বিশেষ রাজারাম বলেন, সংস্থাটি এখন বেশি করে এমন বিজ্ঞানীদের দেখছে, যাঁরা নিজেদের ওষুধ নিয়েই কোম্পানি গড়ছেন। ভারতের ওষুধ আবিষ্কার তাই এখন গবেষণা-সেবা থেকে মালিকানার দিকে এগোচ্ছে।

আসল কঠিন ধাপ

খরচের সাশ্রয় হচ্ছে মূলত শুরুর দিকে। বাগওয়ার্কসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সন্তনু দত্ত বলেন, ল্যাবে ওষুধ যেভাবে কাজ করে, মানবদেহে তার আচরণ আলাদা হতে পারে। তাঁর কোম্পানির একটি অ্যান্টিবায়োটিক ফেজ ১ ট্রায়ালে পৌঁছেছে। এটি মানুষের ওপর পরীক্ষার প্রথম ধাপ, যেখানে মূলত নিরাপত্তা যাচাই হয়। তবু রাস্তা অনেক লম্বা। ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ফেজ ১-এ ঢোকা কর্মসূচির মাত্র ৭.৯ শতাংশ শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছে।

এখনো শুরুর দিকেই

 

পেপট্রিস তাদের একটি ওষুধ-প্রার্থীর লাইসেন্স দিয়েছে মার্কিন সংস্থা রেভিও থেরাপিউটিকসকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাঁক আসবে তখনই, যখন আরও ভারতীয় সংস্থা নিজেরাই মানব-ট্রায়ালে যাবে। বায়োকনের প্রতিষ্ঠাতা কিরণ মজুমদার-শ বলছেন, এখনই সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। সব মিলিয়ে ভারতের ওষুধ আবিষ্কার এখনো পরীক্ষার মুখে।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ