কোরউইভ সংকট: ঋণের চাপে কাঁপছে এআই বুম, কেন চিন্তিত বাজার?
কোরউইভ সংকট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে। কোম্পানিটির ঋণ ক্রমেই বাড়ছে, শেয়ার ও বন্ডের দামও পড়ছে। এর ধাক্কা লেগেছে পুরো প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে। প্রশ্নটা সোজা: এআইয়ের চাহিদা দিয়ে কি এত ধার শোধ করা যাবে?
চটজলদি জেনে নিন
- কোরউইভ আসলে কী করে?
- কোরউইভ এনভিডিয়ার চিপের কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া দেয়।
- মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেই ক্ষমতা দিয়ে এআই বানায় ও চালায়।
- এই ধরনের নতুন ক্লাউড কোম্পানিকে বলা হয় "নিওক্লাউড"।

কোরউইভ আসলে কী করে?
কোরউইভ এনভিডিয়ার চিপের কম্পিউটিং ক্ষমতা ভাড়া দেয়। মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠান সেই ক্ষমতা দিয়ে এআই বানায় ও চালায়।
এই ধরনের নতুন ক্লাউড কোম্পানিকে বলা হয় “নিওক্লাউড”। এদের গ্রাহককে নিজের ডেটা সেন্টার বানাতে হয় না। কিন্তু চিপ আর অবকাঠামো কিনতে আগেই বিপুল টাকা ঢালতে হয়। সেই টাকা প্রায়ই ধার করে জোগাড় হয়।
হিসাবের খাতায় কী আছে?
- কোম্পানি এখনো কখনো লাভ করেনি।
- এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী ঋণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার।
- আগস্টে বছরের মূলধন-ব্যয়ের পূর্বাভাস ৪ বিলিয়ন বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে।
- বিশ্লেষকদের ধারণা, এ বছর আয় হবে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার, আর লোকসান ২.১৩ বিলিয়ন।
- ২০৩১ সালে মেয়াদ শেষ হওয়া বন্ডের সুদ লাফিয়ে প্রায় ১৬% হয়েছে। বন্ডগুলোর রেটিং “জাঙ্ক”, অর্থাৎ ঝুঁকিপূর্ণ।
- ঋণ খেলাপের বিমার খরচ উঠেছে প্রায় ১,০০০ বেসিস পয়েন্টে। এতে ঋণদাতাদের বাড়তি দুশ্চিন্তা বোঝা যায়।
সিইও ও এনভিডিয়া কী বলছে?
সিইও মাইক ইনট্রেটর কর্মীদের এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে জানিয়েছেন, কোম্পানির ব্যাকলগ ঋণ শোধের দায়ের চেয়ে বেশি। ব্যাকলগ মানে যেসব কাজের চুক্তি হয়েছে, কিন্তু আয় এখনো ঘরে আসেনি। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষে তা ছিল ১০৪.২ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় ত্রৈমাসিকের শুরুতে আরও ২৫ বিলিয়নের বেশি প্রতিশ্রুতি এসেছে।
এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং বলেছেন, কোরউইভের আর্থিক অবস্থা ভালো হচ্ছে। তাই আলাদা করে ঠেকা দেওয়ার দরকার দেখছেন না। তবে এনভিডিয়া ২০৩২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত কোরউইভের অবিক্রীত ক্ষমতা কিনতে রাজি হয়েছে।
কোরউইভ সংকট কি এআই বাজারের সতর্কসংকেত?
আশঙ্কাটা এআইয়ের চাহিদা ধসে পড়া নিয়ে নয়। আশঙ্কা হলো, চাহিদা হঠাৎ অনেক কমে গেলে বাড়তি সুদের বোঝা সামলানো কঠিন হবে। ওদিকে চিপও দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়, ফলে নতুন চিপ কিনতে আরও খরচ করতে হয়।
শুধু কোরউইভ নয়, ঝুঁকিতে আরও অনেকে
মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা এ বছর এআই অবকাঠামোয় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করবে বলে ধারণা। গার্টনারের হিসাবে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৮০% নিওক্লাউড বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নেবিয়াস, অ্যাপ্লাইড ডিজিটাল ও আইরেনের শেয়ার পড়েছে। ওপেনএআইয়ে বড় বাজি ধরা সফটব্যাংকের ডিফল্ট সুরক্ষার খরচও বেড়েছে। অ্যামাজন, আলফাবেট, মেটা ও এনভিডিয়ার ক্ষেত্রেও ঝুঁকির মাপকাঠি (স্প্রেড) রেকর্ডে পৌঁছেছে, তবে বেড়েছে অনেক ধীরে। এদের নগদ প্রবাহ বেশি, ব্যালান্স শিটও শক্ত।
খারাপ হলে কী হতে পারে?
ঋণদাতারা বেশি সুদ চাইতে পারে, বা অন্য এআই প্রকল্পে টাকা দিতে অনিচ্ছুক হতে পারে। তখন কোম্পানিগুলো সম্প্রসারণ কমাবে, যন্ত্রপাতি কেনাও কমবে। তবে প্রতিবেদন বলছে, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই কোরউইভের পতনে বড় আর্থিক সংকট শুরু হবে, এমন নয়।











