অ্যাপেট এআই: প্রতারকদের ফাঁদে ফেলতে ‘ভুয়া শিকার’ সেজে নামছে এআই এজেন্ট
বেশিরভাগ কোম্পানি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে কাজ দ্রুত সারতে। কিন্তু অ্যাপেট এআই নামের অস্ট্রেলীয় স্টার্টআপ এজেন্টদের পাঠাচ্ছে উল্টো মিশনে: ইচ্ছে করে স্ক্যামারদের ফাঁদে পড়তে! এআই এজেন্ট মানে এমন সফটওয়্যার, যা নিজে থেকেই কাজ করতে পারে।
চটজলদি জেনে নিন
- অ্যাপেট এআই কীভাবে কাজ করে ২০২৪ সালে সিডনির ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ভিত্তিতে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
- হাজার হাজার এজেন্ট সাধারণ মানুষ সেজে স্ক্যাম কল ধরে, সন্দেহজনক মেসেজ ও ইমেইলের জবাব দেয়, ফিশিং লিংকে ঢোকে।
- (ফিশিং মানে ভুয়া লিংকে ক্লিক করিয়ে তথ্য হাতানোর ফাঁদ।) সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে ঢুকেও টোপ ফেলে।
- কখনো বয়স্ক, কখনো তরুণ, কখনো ভিন্ন উচ্চারণ, ভিন্ন ভাষা, সবই নকল।

অ্যাপেট এআই কীভাবে কাজ করে
২০২৪ সালে সিডনির ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ভিত্তিতে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। হাজার হাজার এজেন্ট সাধারণ মানুষ সেজে স্ক্যাম কল ধরে, সন্দেহজনক মেসেজ ও ইমেইলের জবাব দেয়, ফিশিং লিংকে ঢোকে। (ফিশিং মানে ভুয়া লিংকে ক্লিক করিয়ে তথ্য হাতানোর ফাঁদ।) সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে ঢুকেও টোপ ফেলে। কখনো বয়স্ক, কখনো তরুণ, কখনো ভিন্ন উচ্চারণ, ভিন্ন ভাষা, সবই নকল।
উদ্দেশ্য একটাই: প্রতারককে কথায় আটকে রেখে কাজের তথ্য বের করা। যেমন:
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেটের ঠিকানা
- ফোন নম্বর
- ভুয়া ওয়েবসাইট
- যে ব্র্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা চলছে
সাধারণত এসব জানা যায় কেউ ঠকে যাওয়ার পর। এখানে মেলে আগেভাগেই। সংগ্রহ করা এই প্রতারণা-বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য যায় গ্রাহকদের কাছে: ব্যাংক, টেলিকম কোম্পানি, সরকারি সংস্থা ও ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানির দাবি, ২৫ লক্ষ কথোপকথনে এজেন্টরা প্রতারকদের ১৭ বছর সময় নষ্ট করেছে।
৪৪ মিনিটের এক ফোনকল থেকে শুরু
কয়েক বছর আগে পারিবারিক পিকনিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও দালি কাফার। প্রতারক বুঝতে পেরে বাচ্চাদের মজা দেখাতে তিনি বোকা সেজে ৪৪ মিনিট কথা চালান। পরে খেয়াল করেন, ওই সময়টায় অন্তত আসল কোনো শিকারকে ফোন করেনি লোকটা। তাহলে এটা অটোমেটিক করা গেলে? সঙ্গে দরকারি তথ্যও পাওয়া যাবে? সেই ভাবনা থেকেই ম্যাকোয়ারিতে গবেষণা, আর তারই ফল অ্যাপেট এআই।
কেন এখন জরুরি
এআই প্রতারকদের হাতও শক্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এআই-সংক্রান্ত অপরাধের ২২ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে, ক্ষতি প্রায় ৮৯ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। এর ৬৩ কোটি ডলারের বেশি এসেছে বিনিয়োগ-প্রতারণা থেকে।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার ব্র্যাড জফির মতে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান কাজ করে ঘটনার পরে। অ্যাপেট এআই সরাসরি প্রতারকের কাছে গিয়ে কারও ক্ষতি হওয়ার আগেই তথ্য জোগাড় করে।
ফলাফল ও পরিকল্পনা
জফির দাবি অনুযায়ী:
- টেলিকম কোম্পানি টিপিজি প্রায় ৫ লক্ষ ৯০ হাজার কল অ্যাপেটের এজেন্টদের কাছে ঘুরিয়েছে
- কমনওয়েলথ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশ্যে জানা স্ক্যাম-ক্ষতি কমেছে ৭৬%
- নাম না জানানো এক অস্ট্রেলীয় ব্যাংক ২২টি স্ক্যাম অভিযান ব্যাহত করেছে
আগস্টে ৮১ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার সিড ফান্ডিং পেয়েছে ২০ জনের এই দল। মোট তহবিল প্রায় ১ কোটি ডলারের কিছু কম। টাকা যাবে পণ্য উন্নয়নে, লন্ডনে অফিস খোলায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বাড়াতে। এ বছর টেকক্রাঞ্চ ডিসরাপ্টের স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ড ২০০-এর ফাইনালিস্টদের তালিকায়ও আছে তারা।











