ডেটার মান নিয়ে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পি কে মিশ্রের
নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবর: নীতি বানাতে হলে ভরসাযোগ্য তথ্য চাই। এআই-এর যুগে কথাটা আরও বেশি সত্যি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পি কে মিশ্র মঙ্গলবার পরিষ্কার জানালেন, ডেটার মান ঠিক না থাকলে প্রমাণভিত্তিক নীতি আর প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, দুটোই দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এএনআই-কে এ কথা বলেন।
চটজলদি জেনে নিন
- ভুল তথ্যে ভুল সিদ্ধান্ত, তাই ডেটার মান সবচেয়ে জরুরি
- কেন্দ্র-রাজ্য মিলে একরকম পদ্ধতিতে পরিসংখ্যান সংগ্রহের বার্তা
- এআই-স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার হোক, তবে নির্ভুলতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে
- বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে সরকারি পরিসংখ্যানে মানুষের আস্থাই আসল চাবিকাঠি

ডেটা নিয়ে এত জোর কেন?
সহজ কথায়, সরকার কোথায় কী করবে, তা ঠিক হয় তথ্য দেখে। তথ্য ভুল হলে সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। মিশ্রের মতে, ডেটা সংগ্রহ, সংকলন ও বিশ্লেষণই দেশের উন্নয়নযাত্রার ভিত্তি।
কেন্দ্র ও রাজ্যকে একসঙ্গে বসতে হবে
ডেটার মান এক রাখতে মিশ্র চান, সারা দেশে ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি, সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ একই হোক। রাজ্য ও জেলাস্তরের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা জাতীয় ডেটাবেস গড়ে, আর জিডিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকের হিসাবেও ভূমিকা রাখে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্যের আলোচনা জরুরি। তাঁর মতে, সরকারি পরিসংখ্যান সমবায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয়তারও হাতিয়ার। একই পদ্ধতিতে মাপলে কেন্দ্র ও রাজ্য একে অপরের ভালো অভ্যাস থেকে শিখতে পারে।
প্রযুক্তি সাহায্য করবে, তবে ডেটার মান বাঁচিয়ে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও স্যাটেলাইট ছবি ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকে দ্রুত এবং আরও খুঁটিনাটি করতে পারে। কিন্তু মিশ্র সতর্ক করেন, এর ফলে যেন ডেটার মান, নির্ভুলতা বা গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ না হয়।
মূল কথাগুলো এক নজরে:
- গতির দোহাই দিয়ে নির্ভুলতা ছাড়া যাবে না
- ডেটার ব্যবহার বাড়লেও গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে
- আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সঠিক পরিসংখ্যান-পদ্ধতির বিকল্প হয় না
- তথ্য একবার সংগ্রহ করে, নিরাপত্তার শর্ত মেনে বারবার ব্যবহার করা যেতে পারে
বিকশিত ভারত ২০৪৭ ও আগামীর লক্ষ্য
সম্মেলনের মূল বক্তৃতায় মিশ্র বলেন, পরিসংখ্যান, ডেটা, প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও শাসন একসূত্রে বাঁধা। বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন পূরণে এগুলোর ভূমিকা বড়। সরকারি দপ্তর, রাজ্যের পরিসংখ্যান ব্যুরো ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলে কাজ করলে এমন ব্যবস্থা গড়া সম্ভব, যা শুধু অতীতের হিসাব দেয় না, বর্তমান বুঝতে এবং আগামী চ্যালেঞ্জ আঁচ করতেও সাহায্য করে। শেষে তিনি জোর দেন, সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর মানুষের আস্থা অটুট রাখাই সবচেয়ে বড় কথা। ডেটার মান ঠিক থাকলে তবেই সেই আস্থা টিকবে।











