এআই নিয়ন্ত্রণ: দুধের কার্টনের চেয়েও কম নিয়ম! প্রশ্ন তুললেন মাইক্রোসফট প্রেসিডেন্ট
এক প্যাকেট দুধের ওপর কত নিয়ম, ভেবে দেখেছেন? মান পরীক্ষা, লেবেল, নিরাপত্তা, সবই আছে। অথচ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নাকি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি। মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথের প্রশ্ন, তাহলে এআই নিয়ন্ত্রণে অন্তত দুধের সমান কড়াকড়ি থাকবে না কেন?
চটজলদি জেনে নিন
- মাইক্রোসফট প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ বলছেন, এআইয়ের জন্য দুধের কার্টনের চেয়েও কম নিয়ম আছে।
- ডিপফেক দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে, এই আশঙ্কায় মিউনিখ টেক অ্যাকর্ডে সই করেছে মাইক্রোসফট।
- ছাপাখানার মতোই এআই পুরো অর্থনীতি ও সমাজ বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন স্মিথ।
- বিদ্যুতের মতো বৈষম্য এড়িয়ে এআই যেন দ্রুত সবার কাছে পৌঁছায়, চান তিনি।

কোথায় বললেন স্মিথ?
বার্সেলোনার মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ইউরোনিউজের ‘দ্য বিগ কোয়েশ্চেন’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নেন সাংবাদিক হান্না ব্রাউন। স্মিথ মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চেয়ার।
নিজের শিল্পেই নিয়ম চাইছেন কেন?
টেক জগতের অনেকে নাকি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, নিজের ইন্ডাস্ট্রিতেই নিয়মের পক্ষে কথা বলছেন কেন? স্মিথ তবু এআই নিয়ন্ত্রণের পক্ষে। তাঁর যুক্তি, নিয়মটা এখনই ঠিকভাবে করা দরকার। নইলে ভবিষ্যতের মানুষদের আমাদের তৈরি করা সমস্যা থেকে বেরোতে হবে।
সবচেয়ে বড় ভয়: ডিপফেক
ডিপফেক হলো এআই দিয়ে বানানো নকল ভিডিও বা অডিও। তাতে মনে হয়, কেউ এমন কিছু বলছেন বা করছেন যা তিনি কখনো করেননি। স্মিথের বড় চিন্তা, রাজনৈতিক প্রার্থীদের নিয়ে এমন ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করা যেতে পারে। এটি ঠেকাতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি মিউনিখ টেক অ্যাকর্ডে সই করেছে মাইক্রোসফটসহ আরও কয়েকটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানি।
ছাপাখানার সঙ্গে তুলনা
স্মিথের মতে, ছাপাখানার পর এআইয়ের মতো করে পৃথিবী বদলানোর ক্ষমতা আর কোনো প্রযুক্তির নেই। ছাপাখানা মানুষকে লিখতে, পড়তে, ভাবতে ও নিজের ভাবনা ভাগ করে নিতে সাহায্য করেছিল। এআইও সেই কাজ আবার করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ছাপাখানার চারপাশে কালি, কাগজ, বাঁধাইকর, প্রকাশক আর বইবিক্রেতা মিলে একটা পুরো ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। এআই অর্থনীতিও তেমন। সবাই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ম ও অবকাঠামোর কারণে দেশে দেশে এই অর্থনীতি আলাদা দেখাবে। তবে স্মিথ বলছেন, অনেক দেশই এআইকে নিজেদের অর্থনীতির নতুন ভিত্তি করতে আগ্রহী।
আরও যা জানা গেল
- বিদ্যুতের যুগে সবখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র বানানোর চেষ্টা কেউ করেনি। ফলে আজও প্রায় ৭০ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ নেই। স্মিথ চান এআই যেন তার চেয়ে অনেক দ্রুত সবখানে পৌঁছায়।
- দেশগুলো যাতে নিজের এআই অর্থনীতি গড়তে পারে, সে লক্ষ্যে মাইক্রোসফট সম্প্রতি ‘এআই অ্যাক্সেস প্রিন্সিপলস’ ঘোষণা করেছে।
- ২০২৪ সালের শুরুতে মাইক্রোসফট বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি হয়। বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৩.০৪৯ ট্রিলিয়ন ডলার।
ইউরোনিউজ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে যে মাইক্রোসফট একটি পাবলিক কোম্পানি, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মুনাফা করাও তাদের কাজ।
প্রশ্নটা আসলে সহজ। দুধ নিরাপদ রাখতে নিয়ম থাকলে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তির জন্যও কি নিয়ম থাকা উচিত নয়? এআই নিয়ন্ত্রণের বিতর্কে স্মিথের এই তুলনা তাই সহজ ভাষায় বিষয়টা সামনে এনেছে।











