টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

ডেটা সেন্টারের পরিবেশ সংকট: এআই দিয়ে সমাধান খুঁজছেন এমআইটির ক্রিস্টিনা ডেলিমিত্রু

বিশ্বজুড়ে একের পর এক ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। এগুলো এত বিদ্যুৎ খরচ করে যে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও বাড়ছে। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছেন এমআইটির সদ্য স্থায়ী পদ পাওয়া সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ডেলিমিত্রু।

ডেটা সেন্টারগুলো যদি তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার না করা হয়, তাহলে ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকারী-চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ পুড়বে।

ক্রিস্টিনা ডেলিমিত্রু, কেডিডি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সহযোগী অধ্যাপক (যোগাযোগ ও প্রযুক্তি), ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ ও CSAIL সদস্য, এমআইটি

চটজলদি জেনে নিন

  • ডেটা সেন্টার কী, আর সমস্যাটা কোথায়?
  • ডেটা সেন্টার হলো বিশাল কম্পিউটার সার্ভারের গুদামঘর।
  • আপনার মিউজিক অ্যাপ বা ভিডিও কল এখান থেকেই চলে।
  • ডেলিমিত্রু ও তাঁর দল মেশিন লার্নিং (যন্ত্রকে ডেটা থেকে শেখানোর প্রযুক্তি) ব্যবহার করে এই সিস্টেমকে আরও দক্ষ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করছেন।

ডেটা সেন্টার কী, আর সমস্যাটা কোথায়?

ডেটা সেন্টার হলো বিশাল কম্পিউটার সার্ভারের গুদামঘর। আপনার মিউজিক অ্যাপ বা ভিডিও কল এখান থেকেই চলে। ডেলিমিত্রু ও তাঁর দল মেশিন লার্নিং (যন্ত্রকে ডেটা থেকে শেখানোর প্রযুক্তি) ব্যবহার করে এই সিস্টেমকে আরও দক্ষ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করছেন। তাঁরা পুরোনো ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেম নতুন করে সাজাচ্ছেন, যাতে একই হার্ডওয়্যার থেকে বেশি কাজ আদায় করা যায়।

তাঁর কথায়, ডেটা সেন্টার পুরো ক্ষমতায় না চললে চাহিদা মেটাতে অনেক বেশি বিদ্যুৎ পুড়বে। বিশেষ করে সফটওয়্যারে অনেক বাড়তি বোঝা জমে আছে। সেটা কমানো গেলে নতুন ডেটা সেন্টার কম লাগবে।

মাত্র ১৫ শতাংশ ক্ষমতায় চলছিল অনেক সিস্টেম

স্ট্যানফোর্ডে গবেষণার সময় ডেলিমিত্রু ও তাঁর গবেষণা-পরামর্শদাতা ক্রিস্টোস কোজিরাকিস একটি অবাক করা তথ্য পান। বেশিরভাগ বড় কম্পিউটিং সিস্টেম চলছিল মাত্র প্রায় ১৫ শতাংশ ক্ষমতায়। অথচ চাহিদা দেখে মনে হওয়ার কথা, সেগুলো প্রায় পুরো ক্ষমতায় চলছে।

তাঁর কাজের মূল দিকগুলো

  • সিয়ার (Seer): ডিপ লার্নিং দিয়ে ওয়েব অ্যাপের সমস্যা আগেই ধরে ফেলে। ফলে হঠাৎ ধীর হয়ে যাওয়া এড়ানো যায়।
  • ডিটো (Ditto): বড় কোম্পানির গোপন সিস্টেমের মতো একটি অনুকরণ তৈরি করে। গবেষকরা তা নিয়ে পরীক্ষা চালাতে পারেন।
  • নিরাপত্তা: শুধু কোডের ভুল নয়, ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারদের হাতে পড়ার ঝুঁকিও এআই দিয়ে খুঁজে বের করা হচ্ছে।
  • ব্যাখ্যাযোগ্য এআই: এআই কেন একটি সিদ্ধান্ত নিল, তা বোঝানোর ব্যবস্থা যোগ করা হচ্ছে।

গ্রিস থেকে এমআইটি

ডেলিমিত্রুর বেড়ে ওঠা উত্তর গ্রিসের একটি মাঝারি শহরে। তাঁর মা ছিলেন রসায়ন প্রকৌশলী, বাবা ফার্মাসিস্ট। তিনি এথেন্সের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। পরে স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডি শেষে কর্নেলে শিক্ষকতা করেন। ২০২২ সালে এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে যোগ দেন।

এআই নিয়ে সতর্কবার্তা

 

ডেলিমিত্রু মনে করেন, এআই ব্যবহারে সাবধান থাকতে হবে। এআইয়ের দেওয়া সমাধান যাচাই করা না গেলে তা থেকে শেখার সুযোগ হারাতে পারে। তাই তিনি এআই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ