পলিসি ও গভটেক (Govt & Digital Policy)

কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্কে ভারত: ১,০০০ কিমির মাইলফলক

আড়ি পাতার ভয় ছাড়া কথা বলা যায়, এমন নেটওয়ার্ক কেমন হবে? ভারত সেই দিকে বড় এক ধাপ এগোল। ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশনের আওতায় ১,০০০ কিলোমিটার লম্বা কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সফলভাবে দেখানো হয়েছে। এপ্রিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের (ডিএসটি) কর্তারা এ কথা জানান।

চটজলদি জেনে নিন

  • ভারত মাত্র তিন বছরে গড়ল ১,০০০ কিমির কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।
  • বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ কিউনু ল্যাবস দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে এই নেটওয়ার্ক।
  • প্রতিরক্ষা, ব্যাংকিং ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর তথ্য সুরক্ষিত রাখবে এই প্রযুক্তি।
  • ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটার-হ্যাকিং ঠেকাতেই এগিয়ে আসছে ভারতের ডিজিটাল নিরাপত্তা।

ঘটনাটা কী?

  • মিশন শুরুর তিন বছরের কম সময়েই এই কাজ হয়েছে। অথচ লক্ষ্য ছিল আট বছরে ২,০০০ কিমি।
  • নেটওয়ার্কটি বানিয়েছে বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ কিউনু ল্যাবস (QNu Labs), পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে।
  • সংযোগ চলেছে বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবার, মানে আলোর সংকেত বয়ে নেওয়া সরু তার দিয়ে।

ডিএসটি সচিব অভয় করন্দিকর বলেন, নিরাপদ কোয়ান্টাম যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক অগ্রগতি।

কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করে?

সাধারণ ইন্টারনেটে তথ্য ০ আর ১-এর সংকেত হয়ে ছোটে। কোয়ান্টাম পদ্ধতিতে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞানের কোয়ান্টাম নিয়ম। এখানে মূল ভরসা কোয়ান্টাম কী ডিস্ট্রিবিউশন (QKD)। সহজ করে বললে, এটা ডেটা তালাবন্ধ করার ডিজিটাল চাবি পাঠানোর বিশেষ উপায়। মাঝপথে কেউ চাবি আটকানোর চেষ্টা করলেই সেটা বদলে যায়, আর সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যায়।

কিউনু ল্যাবসের সিইও সুনীল গুপ্ত প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রকাশনা জেন্সকে জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে তাদের ARMOS প্ল্যাটফর্ম সিগন্যাল বাড়ানোর যন্ত্র ছাড়াই সাধারণ টেলিকম ফাইবারে ২০০ কিমি পর্যন্ত নিরাপদ চাবি তৈরি করেছে। এমন একাধিক সংযোগ জুড়েই দাঁড়িয়েছে ১,০০০ কিমির এই কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক।

কাজে লাগবে কোথায়?

কর্তারা বলছেন, এই প্রযুক্তি কাজে লাগবে এসব ক্ষেত্রে:

  • প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক
  • ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন
  • টেলিকম ও সরকারি যোগাযোগ
  • গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো

নকশাটা এমনভাবে করা, যাতে কঠিন ভূখণ্ডে, এমনকি জলের তলা ও মাটির নিচের নেটওয়ার্কেও চলতে পারে।

কেন এত জরুরি?

একটা ঝুঁকির নাম ‘হারভেস্ট নাউ, ডিক্রিপ্ট লেটার’। অর্থাৎ আজ চুরি করা এনক্রিপ্টেড তথ্য ভবিষ্যতের শক্তিশালী কম্পিউটারে খুলে ফেলার আশঙ্কা। এমন বড় কোয়ান্টাম কম্পিউটার এখনও তৈরি হয়নি, তবে আগাম প্রস্তুতি চলছে। এই ধরনের নেটওয়ার্ক সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এরপর কী?

সরকার আরও নয়টি স্টার্টআপকে সহায়তা দিয়েছে। মিশনের অধীনে স্টার্টআপের সংখ্যা এখন ১৭। ১০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেসরকারি ক্ষেত্রের আরও অংশগ্রহণ দরকার।

 

২,০০০ কিমির লক্ষ্যের অর্ধেক পথ পেরোনো এই কোয়ান্টাম যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তাই শুধু বিজ্ঞানের গল্প নয়, দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তারও গল্প।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ