পীযূষ গোয়েলের হাতে চালু হলো ভারতের প্রথম মেডটেক ক্যাপিটাল ফান্ড
ভারতের মেডিক্যাল ডিভাইস ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় খবর। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দেশের প্রথম মেডটেক ক্যাপিটাল ফান্ড চালু করেছেন, যার লক্ষ্য মেডিক্যাল ডিভাইস স্টার্টআপগুলোকে টাকার জোগান দেওয়া আর দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এই ফান্ড মুম্বাইতে চালু হয়েছে ১৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে।
Quick Take
- ভারত তার প্রথম মেডটেক-কেন্দ্রিক ক্যাপিটাল ফান্ড চালু করেছে, যার মূল্য ₹১,০০০ কোটি।
- এএমটিজেড এবং মেডহার্তা ক্যাপিটাল যৌথভাবে নতুন এই তহবিলকে সমর্থন করছে।
- তহবিলটি প্রাথমিকভাবে ১০-১২টি গ্রোথ-স্টেজ মেডটেক স্টার্টআপকে সহায়তা করবে।
- এর লক্ষ্য হলো ডিভাইস প্রস্তুতকারকদের জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন, অনুমোদন এবং উৎপাদন খরচ সহজ করা।

সহজ ভাষায় বললে, “মেডটেক” মানে হলো মেডিক্যাল ডিভাইস আর হেলথকেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানি — যেমন ডায়াগনস্টিক মেশিন, ইমপ্লান্ট বা মনিটরিং ডিভাইস তৈরি করা স্টার্টআপ। এই ধরনের কোম্পানির গবেষণা আর সরকারি অনুমোদন পেতে অনেক টাকা লাগে, আর এখানেই এই নতুন মেডটেক ক্যাপিটাল ফান্ড কাজে আসবে।
কারা আছে এই ফান্ডের পেছনে
এই ফান্ড তৈরি হয়েছে দুটো প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে —
- অন্ধ্রপ্রদেশ মেডটেক জোন (AMTZ) — যারা মেডিক্যাল ডিভাইস তৈরির পরিকাঠামো দেয়
- মেডআর্থা ক্যাপিটাল — যারা বিনিয়োগ আর ফান্ডিং সামলাবে
প্রস্তাবিত এই মেডটেক ক্যাপিটাল ফান্ড-এর মোট আকার প্রায় ₹১,০০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারও অংশ নেবে সরকারের রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন (RDI) স্কিমের মাধ্যমে।
স্টার্টআপগুলো ঠিক কী সুবিধা পাবে
দ্য মেডটেক পালস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো মেডিক্যাল ডিভাইস কোম্পানিগুলোর টাকার সমস্যা মেটানো — কারণ গবেষণা, সরকারি অনুমোদন আর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিরাট বিনিয়োগ দরকার হয়।
এই ফান্ড থেকে সাহায্য পাওয়া স্টার্টআপগুলো নিচের সুবিধাগুলো পাবে —
- AMTZ-এর ম্যানুফ্যাকচারিং, টেস্টিং আর সার্টিফিকেশন পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ
- সরকারি নিয়মকানুন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজে পার করার সহায়তা
- ব্যবসা বাড়ানো বা বাজার সম্প্রসারণের জন্য গাইডেন্স
কারা পাবে এই বিনিয়োগ
মেডআর্থা ক্যাপিটাল আপাতত ১০ থেকে ১২টি গ্রোথ-স্টেজ মেডটেক কোম্পানিকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। “গ্রোথ-স্টেজ” মানে সেইসব কোম্পানি, যারা শুরুর ধাপ পার করে এখন বড় হওয়ার পথে আছে। লক্ষ্য একটাই — ভারত থেকে এমন কোম্পানি তৈরি করা, যারা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
গোয়েল জানিয়েছেন, ভারতের বাড়তে থাকা দক্ষ জনশক্তি আর প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ারের প্রতি বাড়তে থাকা আগ্রহ মেডটেক সেক্টরকে একটা বড় সম্ভাবনার জায়গায় নিয়ে গেছে। এই উদ্যোগ ভারতের মেডিক্যাল টেকনোলজি ইকোসিস্টেমে উদ্ভাবন, উৎপাদন ক্ষমতা আর মূলধনের প্রবেশ — তিনটি জায়গাতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।











