ব্র্যান্ড ও শিল্প (Brand & Industry)

হুন্ডাই আনছে দুটি নতুন এসইউভি, দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের দৌড়

ভারতের গাড়ি বাজারে বড়সড় প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছে হুন্ডাই। কোম্পানিটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরেই (FY27) বাজারে আসছে হুন্ডাই নতুন এসইউভি সিরিজের দুটি একেবারে নতুন মডেল। লক্ষ্য একটাই — যে জায়গা হারিয়েছে, সেই নম্বর ২ স্পট আবার ফিরে পাওয়া। এই তথ্য এসেছে সংস্থার চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আয় সংক্রান্ত কলে, যেখানে হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়ার এমডি ও সিইও তরুণ গর্গ পুরো পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

চলতি অর্থবছরে আমরা একেবারে নতুন দুটি নেমপ্লেট বাজারে আনতে চলেছি... এই দুটি লঞ্চ আমাদের বিক্রি বাড়াতে এবং পরবর্তী পর্যায়ের বৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে বলে আশা করছি।

তরুণ গর্গ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া

চটজলদি জেনে নিন

  • কেন এই বড় পদক্ষেপ?
  • গত এক বছরে হুন্ডাইয়ের ব্যবসা ভালো যায়নি।
  • দেশীয় বিক্রি প্রায় ২.২৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৪,৯০৬ ইউনিটে।
  • এদিকে টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা — দুটি ভারতীয় সংস্থাই হুন্ডাইকে টপকে গেছে।

কেন এই বড় পদক্ষেপ?

গত এক বছরে হুন্ডাইয়ের ব্যবসা ভালো যায়নি। দেশীয় বিক্রি প্রায় ২.২৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৮৪,৯০৬ ইউনিটে। এদিকে টাটা মোটরস এবং মাহিন্দ্রা — দুটি ভারতীয় সংস্থাই হুন্ডাইকে টপকে গেছে। মাহিন্দ্রা বিক্রি করেছে ৬,৬০,২৭৬ ইউনিট, আর টাটা মোটরস ৬,৫১,২৬১ ইউনিট। ফলে হুন্ডাই নেমে এসেছে চার নম্বরে। মজার বিষয় হলো, গোটা ভারতীয় প্যাসেঞ্জার ভেহিকল বাজার কিন্তু বেড়েছে — প্রায় ৮ শতাংশ, ৪৬ লাখ ইউনিটের বেশি। অর্থাৎ বাজার বাড়ছে, কিন্তু হুন্ডাইয়ের ভাগ কমছে। ঠিক এই কারণেই এবার হুন্ডাই নতুন এসইউভি লঞ্চ করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে সংস্থাটি।

নতুন দুই মডেলে কী থাকছে?

  • প্রথমটি একেবারে নতুন, লোকালাইজড় (দেশেই তৈরি) কমপ্যাক্ট এসইউভি ইভি — যা হুন্ডাইয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনাকে আরও শক্ত করবে।
  • দ্বিতীয়টি হবে পেট্রল-ডিজেল চালিত (ICE) মিড-সাইজ এসইউভি, যা কোম্পানির আইসিই সেগমেন্টের উপস্থিতি বাড়াবে।

দুটি মডেলই আসছে দেশের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন সেগমেন্ট — কমপ্যাক্ট ও মিড-সাইজ এসইউভি ক্যাটাগরিতে।

বিনিয়োগের অঙ্কটাও বিশাল

হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া FY27-এ প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা মূলধনী খরচ (ক্যাপেক্স) বরাদ্দ করেছে — সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ যাবে নতুন প্রোডাক্ট তৈরিতে, বাকিটা কারখানা সম্প্রসারণে। পুনে প্ল্যান্টের ফেজ-২ সম্প্রসারণের পর সেখানে যুক্ত হবে আরও ৭০ হাজার ইউনিট উৎপাদন ক্ষমতা। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে হুন্ডাইয়ের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১১.৪ লাখ ইউনিটে।

লক্ষ্য কতটা কঠিন?

হুন্ডাই আশা করছে, FY27-এ দেশীয় বিক্রি ৮-১০ শতাংশ বাড়বে, রপ্তানিতেও একই রকম বৃদ্ধি দেখা যাবে। তবে চ্যালেঞ্জও কম নয় — মাহিন্দ্রার এগিয়ে থাকা অনেকটাই বড়। তাই শুধু হুন্ডাই নতুন এসইউভি লঞ্চ করলেই যে রাতারাতি ২ নম্বর জায়গা ফিরে আসবে, এমনটা নয়। তবে এটা যে সঠিক দিকে এগোনোর চেষ্টা, সেটা স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ