টেক জায়েন্টস ও এ আই (Tech Giants & AI)

এআই কনটেন্ট লেবেলিং গাইডলাইন: বিজ্ঞাপনে নতুন নিয়ম জারি

বিজ্ঞাপনে যে মুখ, কণ্ঠ বা দৃশ্য দেখছেন, তা কি আসল, নাকি এআই-এর বানানো? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ করতে এবার এআই কনটেন্ট লেবেলিং গাইডলাইন প্রকাশ করল অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (ASCI)। মে মাসের খসড়ার পর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এই চূড়ান্ত নিয়ম এসেছে।

বিজ্ঞাপনে এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বদলাচ্ছে, আর আমাদের পদ্ধতিকেও তার সঙ্গে বদলাতে হবে, ক্রেতাকে কেন্দ্রে রেখেই। এই গাইডলাইন এমন বাস্তবসম্মত স্বচ্ছতার শর্ত দেয়, যেখানে এআই লেবেল ছাড়া বিজ্ঞাপন সম্পর্কে ক্রেতার ধারণা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মনীষা কাপুর, সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও, ASCI

চটজলদি জেনে নিন

  • ASCI এআই-নির্মিত বিজ্ঞাপনে বাধ্যতামূলক লেবেলিং গাইডলাইন চালু করছে।
  • বিভ্রান্তিকর, ডিপফেক বা বেআইনি বিজ্ঞাপন লেবেল দিলেও নিষিদ্ধ থাকবে।
  • ক্রেতার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেললেই এআই ব্যবহার জানাতে হবে স্পষ্টভাবে।
  • তিন মাস পর নিয়ম কার্যকর হবে, বাড়বে বিজ্ঞাপনী স্বচ্ছতা।

নতুন গাইডলাইনে ঠিক কী আছে?

ASCI-র সংজ্ঞায় ‘সিনথেটিক্যালি জেনারেটেড কনটেন্ট’ মানে বিজ্ঞাপনের এমন অডিও, ছবি বা ভিডিও, যা কম্পিউটার বা অ্যালগরিদম দিয়ে তৈরি, বদলানো বা বড়ভাবে পাল্টানো হয়েছে। সহজ কথায়, এআই-নির্মিত বিজ্ঞাপনের উপকরণ।

নিয়মগুলো তিন ভাগে সাজানো:

  • নিষিদ্ধ: বেআইনি, কারও অধিকার লঙ্ঘনকারী বা বিভ্রান্তিকর দাবিওয়ালা বিজ্ঞাপন এআই লেবেল লাগালেও চলবে না। ডিপফেক ও বানানো সমর্থনও এর মধ্যে পড়ে।
  • লেবেল বাধ্যতামূলক: এআই-এর ব্যবহার ক্রেতার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারলে এবং না জানালে বিভ্রান্তি তৈরি হলে।
  • লেবেল লাগবে না: এআই ক্রেতার বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় প্রভাব না ফেললে। যেমন শুধু সাজসজ্জার উপাদান বা স্পষ্টতই কাল্পনিক ইফেক্ট।

লেবেল দেখতে কেমন হবে?

ASCI “Audio/Video created using AI” বা “Audio/Video enhanced using AI”-এর মতো লেবেলের কথা বলেছে। অন্য শব্দও চলবে, তবে এআই-এর ভূমিকা পরিষ্কার বোঝাতে হবে। টাকার বিনিময়ে করা এআই-জেনারেটেড প্রোডাক্ট সাজেশনে লিখতে হবে “Sponsored by [Brand]”।

এআই কনটেন্ট লেবেলিং গাইডলাইন কেন জরুরি?

ব্র্যান্ডগুলো এখন বিজ্ঞাপন বানাতে ও ঝকঝকে করতে ক্রমেই এআই ব্যবহার করছে। ASCI-র সেক্রেটারি জেনারেল ও সিইও মনীষা কাপুরের কথায়, এআই-এর ব্যবহার দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই ক্রেতাকে কেন্দ্রে রেখে নিয়মকেও এগোতে হবে।

খসড়ায় বিজ্ঞাপনকে উচ্চ, মাঝারি ও নিম্ন ঝুঁকিতে ভাগ করা হয়েছিল। মূল বিচার প্রযুক্তি নিয়ে নয়, ক্রেতার ওপর তার প্রভাব নিয়ে। একটি প্রতিবেদন বলছে, সব জায়গায় লেবেল বসিয়ে ‘লেবেল ক্লান্তি’ তৈরি করাও এড়াতে চায় ASCI।

ব্র্যান্ড ও ক্রেতার জন্য কী বদলাবে?

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশের তিন মাস পর নিয়ম কার্যকর হবে। এআই-নির্মিত বিজ্ঞাপনও ASCI কোডের সব ধারায় যাচাই হবে।

  • ব্র্যান্ডের জন্য: এআই কোথায় ক্রেতাকে প্রভাবিত করছে, তা আগেই চিহ্নিত করতে হবে।
  • ক্রেতার জন্য: ডিপফেক বা ভুয়া সমর্থন চেনা সহজ হবে।

 

মোট কথা, এআই কনটেন্ট লেবেলিং গাইডলাইন বিজ্ঞাপনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা। লেবেল থাকলেই বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বৈধ হয়ে যাবে না।

বিজ্ঞাপন

সব বিভাগের সর্বশেষ