উত্তর প্রদেশে GCC: এআই আর দক্ষ কর্মীই কি সফল ভবিষ্যতের চাবিকাঠি?
বহুজাতিক কোম্পানির ভারতের অফিস মানেই শুধু ব্যাক-অফিসের কাজ, এই ধারণা এখন অনেকটাই পুরনো। সেই বদলের ঢেউ লেগেছে উত্তর প্রদেশেও, আর তাই উত্তর প্রদেশে GCC নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ET Government-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেছেন HCLTech-এর GCC প্র্যাকটিসের গ্লোবাল প্রধান ও এগজিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট কিরণ চেরুকুরি।
চটজলদি জেনে নিন
- GCC এখন শুধু খরচ বাঁচানো নয়, উদ্ভাবনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
- এজেন্টিক এআই নিজে থেকেই লক্ষ্য ধরে কাজ এগিয়ে নিতে পারছে।
- কর্মী কাঠামো পিরামিড থেকে হীরার আকৃতিতে বদলে যাচ্ছে।
- নয়ডা-লখনউ-কানপুর করিডর হয়ে উঠছে নতুন ডিপ-টেক হাব।

GCC-র পুরো নাম গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার। বড় কোম্পানি অন্য দেশে নিজেদের জন্য যে কেন্দ্র চালায়, সেটাই GCC। আগে সেখানে মূলত খরচ কমিয়ে রোজকার কাজ সামলানো হতো। এখন সেগুলো হয়ে উঠছে পণ্য তৈরি, গবেষণা আর ডিজিটাল উদ্ভাবনের কেন্দ্র।
শুধু কাজ সামলানো নয়, এবার নতুন কিছু গড়া
চেরুকুরি বলছেন, এখন GCC-র কাছে প্রত্যাশা হলো মাপার মতো ব্যবসায়িক ফল দেওয়া। এআই, ক্লাউড (ইন্টারনেটভিত্তিক কম্পিউটিং সুবিধা), ডেটা ও অটোমেশন কাজে লাগিয়ে তারা দ্রুত নতুন জিনিস বানাচ্ছে।
জেনারেটিভ ও এজেন্টিক এআই কী বদলাচ্ছে?
- জেনারেটিভ এআই কাজের গতি আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়।
- এজেন্টিক এআই মানে যে এআই লক্ষ্য ধরে নিজে থেকেই একের পর এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে।
- ফলে কোম্পানিগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায় ছেড়ে বাস্তবে এআই চালুর দিকে যেতে পারছে।
কর্মী কাঠামোও বদলাচ্ছে
আগে GCC-র কাঠামো ছিল পিরামিডের মতো, নিচে অনেক কর্মী, ওপরে কম। এখন তা হচ্ছে হীরার আকৃতির। রুটিন কাজ সামলাচ্ছে এআই, আর মানুষ সময় দিচ্ছে জটিল সমস্যার সমাধান ও সিদ্ধান্তে। তাই এখন দরকার এআই, ডেটা, ক্লাউড ও ব্যবসার জ্ঞানের মিশেল, সঙ্গে নিয়মিত নতুন দক্ষতা শেখা।
কেন উত্তর প্রদেশে GCC-র সুযোগ বাড়ছে?
চেরুকুরির মতে, উত্তর প্রদেশে GCC-র পরের ধাপে ভরসা হবে প্রতিভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিকাঠামো ও শিল্পের ভালো মিশেল।
- নয়ডায় ইতিমধ্যে ১৫০টিরও বেশি GCC আছে।
- লখনউ-কানপুর করিডর গড়ে উঠছে ডিপ-টেক (গভীর প্রযুক্তি) ইকোসিস্টেম হিসেবে।
- সেখানে আছে আইআইটি কানপুর, আইআইএম লখনউ, আইআইআইটি লখনউ, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডক্টর রাম মনোহর লোহিয়া ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি।
উত্তর প্রদেশে GCC-কে এগিয়ে নিতে HCLTech কী করছে?
লখনউয়ের HCL IT City-তে সংস্থাটি এআই ও ডিজিটাল স্কিলিংয়ে বিনিয়োগ করছে। TechBee-র মতো উদ্যোগে তৈরি করছে ভবিষ্যতের কর্মী। আইআইটি কানপুরের সঙ্গে যৌথ উদ্ভাবন ও গবেষণার সহযোগিতাকে চেরুকুরি বড় সুবিধা বলেছেন।
HCLTech-এর দাবি, বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ R&D খরচকারীর ৪৫ শতাংশ তাদের ওপর ভরসা করে। ফরচুন ৫০০ কোম্পানির জন্য তারা ২৫০টির বেশি ডিজিটাল পণ্য তৈরি করেছে। তাদের হিসাবে বাজারে পণ্য আনার সময় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত এবং খরচ ৩০-৪০ শতাংশ কমানো সম্ভব। GCC বানানোর মডেলও নানা রকম, যেমন BOT, BOTT, ABO, জয়েন্ট ভেঞ্চার বা মিশ্র পথ।
সব মিলিয়ে উত্তর প্রদেশে GCC-র পরের অধ্যায় নির্ভর করছে এআই, শিল্প-শিক্ষাঙ্গন সহযোগিতা আর দক্ষ কর্মীর ওপর। মানুষের মেধা আর এআইয়ের গতি একসঙ্গে কাজ করাতে পারলেই সেই সুযোগ কাজে লাগবে।











